ঢাকা ০৮:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

দুর্নীতির অভিযোগে বরিশালের সাবেক ডিসির বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল, তদন্তের দাবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বরিশালের সাবেক জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তুলে ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সুবিধাবঞ্চিত নারী-পুরুষের একটি দল। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সাবেক জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভ চলাকালে মো. খায়রুল আলম সুমন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়েই অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি দ্রুত কার্যালয় ত্যাগ করেন। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেসময় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন অভিযোগ করেন, কীর্তনখোলা নদীর ভাঙনে দীর্ঘকাল ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। অনেকেই বসতভিটা হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। তাদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানালেও কোনো সহযোগিতা মেলেনি, বরং তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি তোলেন।

এদিকে, সম্প্রতি মো. খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বরিশালের হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় অতিরিক্ত অস্থায়ী ভোটকক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। প্রায় ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি খাতে বরাদ্দ অর্থে অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এছাড়াও মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. খায়রুল আলম সুমনের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো আদালতের রায় বা সরকারি তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনও এখনো প্রকাশিত হয়নি। এর আগে অভিযোগ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে, যদিও প্রশাসন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর তিনি বরিশালের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে বরিশাল থেকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ছাত্রদলের মাসব্যাপী কর্মসূচী ঘোষণা

দুর্নীতির অভিযোগে বরিশালের সাবেক ডিসির বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল, তদন্তের দাবি

আপডেট সময় : ০৬:২৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

বরিশালের সাবেক জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তুলে ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সুবিধাবঞ্চিত নারী-পুরুষের একটি দল। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সাবেক জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভ চলাকালে মো. খায়রুল আলম সুমন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়েই অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি দ্রুত কার্যালয় ত্যাগ করেন। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেসময় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন অভিযোগ করেন, কীর্তনখোলা নদীর ভাঙনে দীর্ঘকাল ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। অনেকেই বসতভিটা হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। তাদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানালেও কোনো সহযোগিতা মেলেনি, বরং তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি তোলেন।

এদিকে, সম্প্রতি মো. খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বরিশালের হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় অতিরিক্ত অস্থায়ী ভোটকক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। প্রায় ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি খাতে বরাদ্দ অর্থে অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এছাড়াও মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. খায়রুল আলম সুমনের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো আদালতের রায় বা সরকারি তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনও এখনো প্রকাশিত হয়নি। এর আগে অভিযোগ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে, যদিও প্রশাসন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর তিনি বরিশালের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে বরিশাল থেকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।