বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালে প্রথমবারের মতো গর্ভস্থ শিশুর শরীরে সফলভাবে রক্ত সঞ্চালন করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মা ও গর্ভস্থ শিশুর বিশেষায়িত চিকিৎসা ইউনিটে গত মঙ্গলবার এই অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করেন চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রক্তের গ্রুপজনিত জটিলতার কারণে গর্ভের শিশুর মধ্যে মারাত্মক রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে তার জীবন রক্ষার্থে ‘ইনট্রা-ইউটেরিন ফিটাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন’ (আইইউটি) নামের এই অত্যাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। আল্ট্রাসাউন্ডের সাহায্যে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গর্ভের ভেতরে শিশুর নাভির রক্তনালীতে রক্ত সঞ্চালন করা হয়েছে।
এই যুগান্তকারী চিকিৎসা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়েছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফিটো-ম্যাটার্নাল মেডিসিন ইউনিটের প্রধান ডা. খন্দকার শেহনীলা তাসমিন। তার সাথে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সুলতানা আফরোজ, অধ্যাপক ডা. ইসরাত জাহান এবং অধ্যাপক ডা. খালেদুন্নেসা এই কার্যক্রমে অংশ নেন। এছাড়াও শিশু বিভাগ, অ্যানিস্থেসিয়া বিভাগ, রক্ত সঞ্চালন বিভাগ এবং হেমাটোলজি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সফলভাবে এই চিকিৎসা সম্পন্ন করতে সার্বিক সহযোগিতা করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই সাফল্যকে দেশের চিকিৎসা খাতের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, এর ফলে ভবিষ্যতে রক্তের গ্রুপজনিত জটিলতাসহ গর্ভের শিশুর বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত গর্ভবতী নারীরা দেশের সরকারি হাসপাতালেই উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা পাবেন। হাসপাতালটি মা ও অনাগত শিশুর সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আধুনিক চিকিৎসা, জন্মের আগেই রোগ নির্ণয় এবং বিশেষায়িত সেবার সম্প্রসারণে কাজ করে যাবে।
চিকিৎসকদের মতে, গর্ভের শিশুর শরীরে রক্ত সঞ্চালন একটি অত্যাধুনিক এবং জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাপদ্ধতি। মায়ের রক্তস্বল্পতা, মা ও শিশুর রক্তের আরএইচ গ্রুপজনিত জটিলতা, কিংবা অন্য কোনো কারণে গর্ভের শিশুর তীব্র রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে এই চিকিৎসা অপরিহার্য হয়ে ওঠে। সময়মতো এই চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হলে গর্ভের শিশুর অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হয়।
রিপোর্টারের নাম 























