ঢাকা ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর আইন, সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৩:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

দেশে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো ও ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত জুয়া দমনে নতুন আইন কার্যকর করেছে সরকার। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশের মাধ্যমে বুধবার (১ জুলাই) থেকে এটি কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১৫৯ বছর পুরোনো ‘পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ বাতিল করা হয়েছে।

নতুন আইনে প্রথমবারের মতো অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল বেটিং, ফ্যান্টাসি বেটিং, ই-স্পোর্টস বেটিং, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন, ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংকে স্পষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী ইন্টারনেট, মোবাইল অ্যাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, সার্ভার, ক্লাউড, ভিপিএন বা অন্য কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা, বেটিং, অ্যাকাউন্ট খোলা, অর্থ জমা-উত্তোলন বা স্থানান্তর করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিদেশি অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি বা এজেন্ট হিসেবেও কাজ করা যাবে না।

সাধারণ জুয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। অনলাইন জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা জরিমানা করা যাবে।

ভিপিএন, মিরর সাইট বা ডিজিটাল অবকাঠামোর মাধ্যমে জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনা কিংবা বুকমেকার হিসেবে কাজ করলে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানা এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আদালত দোষীদের নির্দিষ্ট সময় বা স্থায়ীভাবে খেলাধুলায় অংশগ্রহণ থেকেও নিষিদ্ধ করতে পারবেন।

জুয়ার বিজ্ঞাপন, প্রচারণা, স্পন্সরশিপ বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে যুক্ত গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী বা খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড অথবা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।

ভুয়া সিম, অন্যের এনআইডি, বায়োমেট্রিক তথ্য বা ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। আর সংঘবদ্ধভাবে বা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে এসব অপরাধ করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে।

আইনে জুয়ার অর্থ ব্যাংক, এমএফএস, ডিজিটাল ওয়ালেট, হুন্ডি বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে স্থানান্তর বা বৈধ করার চেষ্টাকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতাভুক্ত অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া আদালত অপরাধে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, সার্ভার, সিম ও অন্যান্য ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন। জুয়ার জন্য ব্যবহৃত ভবন, অফিস বা সার্ভার অবকাঠামোও বাজেয়াপ্ত করা যাবে।

অনলাইন জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধের বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে। এসব অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপস অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। তদন্ত করবেন অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট করে আলোচনায় অভিনেত্রী শাওন

অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর আইন, সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল

আপডেট সময় : ০৩:২৩:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

দেশে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো ও ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত জুয়া দমনে নতুন আইন কার্যকর করেছে সরকার। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশের মাধ্যমে বুধবার (১ জুলাই) থেকে এটি কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১৫৯ বছর পুরোনো ‘পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ বাতিল করা হয়েছে।

নতুন আইনে প্রথমবারের মতো অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল বেটিং, ফ্যান্টাসি বেটিং, ই-স্পোর্টস বেটিং, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন, ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংকে স্পষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী ইন্টারনেট, মোবাইল অ্যাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, সার্ভার, ক্লাউড, ভিপিএন বা অন্য কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা, বেটিং, অ্যাকাউন্ট খোলা, অর্থ জমা-উত্তোলন বা স্থানান্তর করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিদেশি অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি বা এজেন্ট হিসেবেও কাজ করা যাবে না।

সাধারণ জুয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। অনলাইন জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা জরিমানা করা যাবে।

ভিপিএন, মিরর সাইট বা ডিজিটাল অবকাঠামোর মাধ্যমে জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনা কিংবা বুকমেকার হিসেবে কাজ করলে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানা এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আদালত দোষীদের নির্দিষ্ট সময় বা স্থায়ীভাবে খেলাধুলায় অংশগ্রহণ থেকেও নিষিদ্ধ করতে পারবেন।

জুয়ার বিজ্ঞাপন, প্রচারণা, স্পন্সরশিপ বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে যুক্ত গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী বা খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড অথবা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।

ভুয়া সিম, অন্যের এনআইডি, বায়োমেট্রিক তথ্য বা ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। আর সংঘবদ্ধভাবে বা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে এসব অপরাধ করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে।

আইনে জুয়ার অর্থ ব্যাংক, এমএফএস, ডিজিটাল ওয়ালেট, হুন্ডি বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে স্থানান্তর বা বৈধ করার চেষ্টাকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতাভুক্ত অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া আদালত অপরাধে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, সার্ভার, সিম ও অন্যান্য ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন। জুয়ার জন্য ব্যবহৃত ভবন, অফিস বা সার্ভার অবকাঠামোও বাজেয়াপ্ত করা যাবে।

অনলাইন জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধের বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে। এসব অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপস অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। তদন্ত করবেন অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা।