ঢাকা ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

এক নাগরিক, এক আইডি- নতুন পরিকল্পনা সরকারের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৯:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

সরকার জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একজন নাগরিকের সব ধরনের সরকারি সেবা একটি মাত্র ডিজিটাল পরিচয়ের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে। ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ নামে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আলাদা আলাদা আইডি ব্যবহার বা বিভিন্ন দপ্তরে বারবার তথ্য জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের ভাবনার ভিত্তিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বর্তমানে ধারণাপত্র (কনসেপ্ট পেপার) পর্যায়ে রয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন শুরু হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো শিশুর জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই তার নামে একটি ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডি তৈরি হবে। হাসপাতালের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে এবং বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে নবজাতকের জন্য স্থায়ী ডিজিটাল আইডি তৈরি করা হবে। বাসায় জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্যও পৃথক ব্যবস্থা রাখা হবে। পরবর্তী সময়ে এই একটিমাত্র আইডিই শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ভূমি, বিআরটিএসহ সব ধরনের সরকারি সেবায় ব্যবহার করা যাবে।

প্রকল্পের আওতায় জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ভূমি ও অন্যান্য সরকারি ডাটাবেজকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে এই ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নাগরিকের সম্মতি (কনসেন্ট) ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেয়ার করা হবে না। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন ও জাতীয় ডেটা গভর্নেন্স নীতিমালা অনুসরণ করেই পুরো ব্যবস্থা পরিচালিত হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী শুধু নির্দিষ্ট তথ্যই ব্যবহার করা যাবে।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ডিজিটাল আইডি ওয়ালেট থাকবে। স্মার্টফোনভিত্তিক এই ওয়ালেটে পরিচয়পত্র, প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সনদ ও সরকারি নথি সংরক্ষণ করা যাবে। সরকারি বিভিন্ন অনলাইন সেবায় লগইন, পরিচয় যাচাই এবং প্রয়োজনে ফিজিক্যাল আইডির বিকল্প হিসেবেও এটি ব্যবহার করা যাবে। তবে আপাতত এটি অর্থ লেনদেনের ওয়ালেট নয়; মূলত পরিচয় ও সরকারি নথি সংরক্ষণের জন্যই তৈরি করা হবে।

প্রকল্পটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এস্তোনিয়া ও সিঙ্গাপুরের ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেন্টিটি মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশের জন্য উপযোগী কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এটি বিশ্বব্যাংক-সমর্থিত ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাক্সেস অ্যান্ড রিজিলিয়েন্স (ডি-স্টার) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরকারি সেবা গ্রহণ হবে আরও দ্রুত, সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত। একই সঙ্গে দেশের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাজিলের জয় উদযাপন ঘিরে সালিশে হামলা, বিএনপি নেতা নিহত

এক নাগরিক, এক আইডি- নতুন পরিকল্পনা সরকারের

আপডেট সময় : ০৯:৪৯:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

সরকার জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একজন নাগরিকের সব ধরনের সরকারি সেবা একটি মাত্র ডিজিটাল পরিচয়ের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে। ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ নামে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আলাদা আলাদা আইডি ব্যবহার বা বিভিন্ন দপ্তরে বারবার তথ্য জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের ভাবনার ভিত্তিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বর্তমানে ধারণাপত্র (কনসেপ্ট পেপার) পর্যায়ে রয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন শুরু হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো শিশুর জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই তার নামে একটি ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডি তৈরি হবে। হাসপাতালের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে এবং বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে নবজাতকের জন্য স্থায়ী ডিজিটাল আইডি তৈরি করা হবে। বাসায় জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্যও পৃথক ব্যবস্থা রাখা হবে। পরবর্তী সময়ে এই একটিমাত্র আইডিই শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ভূমি, বিআরটিএসহ সব ধরনের সরকারি সেবায় ব্যবহার করা যাবে।

প্রকল্পের আওতায় জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ভূমি ও অন্যান্য সরকারি ডাটাবেজকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে এই ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নাগরিকের সম্মতি (কনসেন্ট) ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেয়ার করা হবে না। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন ও জাতীয় ডেটা গভর্নেন্স নীতিমালা অনুসরণ করেই পুরো ব্যবস্থা পরিচালিত হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী শুধু নির্দিষ্ট তথ্যই ব্যবহার করা যাবে।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ডিজিটাল আইডি ওয়ালেট থাকবে। স্মার্টফোনভিত্তিক এই ওয়ালেটে পরিচয়পত্র, প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সনদ ও সরকারি নথি সংরক্ষণ করা যাবে। সরকারি বিভিন্ন অনলাইন সেবায় লগইন, পরিচয় যাচাই এবং প্রয়োজনে ফিজিক্যাল আইডির বিকল্প হিসেবেও এটি ব্যবহার করা যাবে। তবে আপাতত এটি অর্থ লেনদেনের ওয়ালেট নয়; মূলত পরিচয় ও সরকারি নথি সংরক্ষণের জন্যই তৈরি করা হবে।

প্রকল্পটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এস্তোনিয়া ও সিঙ্গাপুরের ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেন্টিটি মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশের জন্য উপযোগী কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এটি বিশ্বব্যাংক-সমর্থিত ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাক্সেস অ্যান্ড রিজিলিয়েন্স (ডি-স্টার) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরকারি সেবা গ্রহণ হবে আরও দ্রুত, সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত। একই সঙ্গে দেশের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে।