বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেওয়ার রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে আগামীকাল শুক্রবার কানাডার ভ্যাংকুভারের বিখ্যাত বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সুইজারল্যান্ড ও আলজেরিয়া। বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টায় শুরু হবে এই নকআউট (রাউন্ড অব ৩২) ম্যাচ। এই ম্যাচে আলজেরিয়ার লক্ষ্য যেখানে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ১৬তে জায়গা করে নেওয়া, সেখানে সুইজারল্যান্ড চাইছে তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও এগিয়ে যেতে।
সুইজারল্যান্ড দুর্দান্ত ফর্মে থেকে নকআউটে পা রেখেছে। গ্রুপ ‘বি’তে সাত পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে ছিল তারা, বিশেষ করে গত ২৪ জুন সহ-আয়োজক কানাডাকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দেয় সুইসরা। অন্যদিকে, কিছুটা ভাগ্যের সহায়তায় নকআউটে এসেছে আলজেরিয়া। গ্রুপ ‘জে’তে চার পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় দল হিসেবে তারা পরের রাউন্ড নিশ্চিত করে। গত ২৮ জুন অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে তাদের ৩-৩ গোলের নাটকীয় ড্র ম্যাচটি ফুটবলপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিয়েছে ১৯৮২ সালের সেই বিতর্কিত ‘ডিসগ্রেস অব গিজোন’ ম্যাচের স্মৃতি। তবে এবার আলজেরীয়রা মাঠের লড়াইয়েই নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছে।
এ ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলেন আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ। তিনি ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এই সুইজারল্যান্ড দলেরই প্রধান কোচ ছিলেন। ফলে সাবেক শিষ্যদের শক্তি ও দুর্বলতা তার নখদর্পণে। তবে পেতকোভিচের জন্য এটি এক বিশাল চ্যালেঞ্জ; কারণ সুইসদের হারাতে পারলে আলজেরিয়া তাদের ফুটবল ইতিহাসে কেবল দ্বিতীয়বারের মতো শেষ ১৬তে পৌঁছাবে। এর আগে ২০১৪ সালে তারা এই গৌরব অর্জন করেছিল।
সুইজারল্যান্ড শিবিরে একমাত্র দুশ্চিন্তা রাইট ব্যাক সিলভান উইডমারকে নিয়ে, যিনি নিতম্বের চোটের কারণে অনুশীলনে অংশ নিতে পারেননি। তার জায়গায় তরুণ লুকা জ্যাকুয়েজ দলে আসতে পারেন। তবে মাঝমাঠে গ্রানিত শাকা এবং রক্ষণভাগে ম্যানুয়েল আকাঞ্জির মতো অভিজ্ঞ তারকারা সুইসদের মূল ভরসা। তরুণ প্রতিভাবান জোহান মানজাম্বি স্ট্রাইকার ব্রেল এমবোলোর পেছনে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে আলজেরিয়া শিবিরে বড় ধাক্কা হতে পারে ফরোয়ার্ড মোহামেদ এল আমিনে আমোরার চোট। তিনি সময়মতো সুস্থ না হলে আক্রমণে রিয়াদ মাহরেজ, ইব্রাহিম মাজা এবং আমিন গুইরিকে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। মাঝমাঠ আগলে রাখার দায়িত্বে থাকবেন অভিজ্ঞ নাবিল বেনতালেব। কাগজে-কলমে এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে সুইজারল্যান্ড কিছুটা এগিয়ে রয়েছে, কারণ নিজেদের শেষ ১০ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের কোনোটিতেই তারা হারেনি।
রিপোর্টারের নাম 

























