কালো বিড়ালকে ঘিরে শতাব্দী ধরে রহস্য ও কুসংস্কারের জাল বোনা হয়েছে। অন্ধকার রাস্তায় হঠাৎ সামনে কালো বিড়াল চলে এলে অনেকে অমঙ্গলের আশঙ্কায় থমকে দাঁড়ান, বিশেষ করে যদি বিড়ালটি বাঁ থেকে ডানে যায়। এই রহস্যময় প্রাণীটি কখনও অলৌকিক অপশক্তির প্রতীক, আবার কখনও পরম সৌভাগ্যের বার্তাবাহক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
মধ্যযুগে ডাইনি শিকারের উন্মাদনার সময় কালো বিড়ালের ‘অপয়া’ বদনামের শুরু। মানুষ বিশ্বাস করত, ডাইনিরাই কালো বিড়ালের রূপ ধরে রাতে দুর্ভাগ্য ছড়িয়ে বেড়ায়। এই কারণে তথাকথিত ডাইনিদের সঙ্গে নিরীহ বিড়ালগুলোকেও জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হতো। এক সময় ফ্রান্সে গ্রীষ্মকালীন উৎসবের আগুনে একসঙ্গে ১৩টি কালো বিড়ালকে জীবন্ত পোড়ানো হতো এবং বেলজিয়ামের কিছু অংশে এদের গির্জার চূড়া থেকে ছুড়ে ফেলা হতো। পরবর্তীতে ইউরোপীয় অভিবাসীদের মাধ্যমে এই কুসংস্কার আমেরিকায় পৌঁছায় এবং হ্যালোউইনের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে এই কালো বিড়াল।
তবে কালো বিড়ালকে সবাই অমঙ্গলের প্রতীক ভাবেন না। যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে কালো বিড়াল ঘরে আসা বা রাস্তা পার হওয়াকে সৌভাগ্যের লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়। স্কটল্যান্ডে দরজায় কালো বিড়াল আসা মানে সমৃদ্ধির আগমন। জাপানে এটি অর্থ ও ভাগ্যের পাশাপাশি রোগবালাই থেকে মুক্তির প্রতীক। জাপানি ঐতিহ্যবাহী ইশারায় ডাকা বিড়ালের কালো সংস্করণটি ভূত-প্রেত তাড়াতে ব্যবহৃত হয় এবং সেখানে বিশ্বাস করা হয়, কালো বিড়ালের মালকিনরা পুরুষদের বেশি আকর্ষণ করতে পারেন। জাহাজেও কালো বিড়ালকে ঝড়-তুফান দূরে রাখা ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের শুভ প্রতীক মানা হতো।
প্রাচীন মিশরে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের রক্ষাকর্তা এবং আনন্দ-নৃত্যের দেবী ‘বাস্তোত’-কে সবসময় কালো বিড়ালের রূপেই চিত্রিত করা হতো। বিজ্ঞান অবশ্য বলে, কালো বিড়ালের এই রঙের পেছনে কোনো অলৌকিকতা নেই, বরং রয়েছে জিনতত্ত্ব। বিড়ালের ‘বি’ জিনটি ইউমেলানিন নামক পিগমেন্ট তৈরি করে, যা এদের পশম, নাক ও থাবা কালো করে। মজার বিষয় হলো, বেশির ভাগ কালো বিড়ালই পুরুষ হয়ে থাকে, কারণ এই ‘বি’ জিনটি থাকে ‘এক্স’ ক্রোমোজোমে।
রিপোর্টারের নাম 

























