বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অসামান্য প্রতিভার আড়ালে অনেকটাই ঢাকা পড়ে গেছে তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিজস্ব অবদান ও মহত্ত্ব। এক আলোচনায় এই প্রশ্ন উঠেছিল যে, রবীন্দ্রনাথের জন্ম না হলে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর হয়তো ভারতবর্ষের ইতিহাসে আরও বেশি আলোচিত মহাপুরুষ হিসেবে বিবেচিত হতেন। দেবেন্দ্রনাথের জীবন, সততা, গভীর চিন্তা, সমাজ সংস্কার এবং সাংস্কৃতিক অবদান একজন মানুষকে ইতিহাসে অমর করে রাখার জন্য যথেষ্ট ছিল। তবে পুত্রের আকাশছোঁয়া খ্যাতি তাঁর পিতাকে অনেকটাই বিশাল আলোর আড়ালে রেখে দিয়েছে।
আমরা সবাই রবীন্দ্রনাথের গান, কবিতা, গল্প, উপন্যাস সম্পর্কে অবগত। তাঁর জন্মদিন এলে আমরা নানা আয়োজন করি, রবীন্দ্রসঙ্গীত গাই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তাঁর উদ্ধৃতিতে ভরে ওঠে। কিন্তু তাঁর পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান ততটা গভীর নয়। অথচ এই মানুষটির জীবন নিজেই এক মহাকাব্য।
দেবেন্দ্রনাথের জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো যখন বালক রবীন্দ্রনাথের বয়স বারো বছর পূর্ণ হয়নি, তখন তাঁকে নিয়ে দেবেন্দ্রনাথ ভ্রমণে বের হয়েছিলেন। শান্তিনিকেতন থেকে কানপুর হয়ে অমৃতসরের পথে ট্রেন এক বড় স্টেশনে থামলে টিকিট পরীক্ষক টিকিট দেখতে চান। রবীন্দ্রনাথের জন্য হাফ টিকিট কাটা হয়েছিল, কারণ তাঁর বয়স তখন বারোর নিচে ছিল। কিন্তু রবীন্দ্রনাথকে বয়সের তুলনায় কিছুটা বেশি পরিণত মনে হওয়ায় টিকিট পরীক্ষকের সন্দেহ হয় এবং তিনি স্টেশনমাস্টারকে ডেকে আনেন।
স্টেশনমাস্টার দেবেন্দ্রনাথকে প্রশ্ন করেন, “আপনার পুত্রের বয়স কি সত্যিই বারোর নিচে?” দেবেন্দ্রনাথ শান্তভাবে উত্তর দেন, “হ্যাঁ, এখনো বারো হয়নি।” কিন্তু তাঁর কথায় বিশ্বাস না করে স্টেশনমাস্টার জানান যে, পুরো ভাড়া দিতে হবে। দেবেন্দ্রনাথ এতে অত্যন্ত…
রিপোর্টারের নাম 

























