ঢাকা ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

গালিব থেকে ইকবাল: কবিতার ছন্দে স্রষ্টা ও সৃষ্টির এক ধ্রুপদী বিতর্ক

উর্দু সাহিত্যের কিংবদন্তি কবি মির্জা গালিবের একটি বিখ্যাত শের এবং তাকে কেন্দ্র করে পরবর্তী প্রজন্মের কবিদের পাল্টা জবাব নিয়ে সাহিত্যাঙ্গনে এক দীর্ঘস্থায়ী বিতর্ক বিদ্যমান। লোকমুখে প্রচলিত আছে, মির্জা গালিব একবার মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন, যা দেখে উপস্থিত মুসল্লিরা তাকে বাধা দেন। তারা বলেন, মসজিদ হলো আল্লাহর ঘর, এখানে এমন কাজ অনুচিত। তখন গালিব তার স্বভাবজাত ভঙ্গিতে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, এমন কোনো জায়গা কি আছে যেখানে খোদা নেই?

বহু বছর পর আল্লামা ইকবাল গালিবের সেই যুক্তির জবাবে তার শেরে লেখেন যে, মসজিদ অবশ্যই আল্লাহর ঘর এবং সেখানে মদ্যপান নিষিদ্ধ। তিনি গালিবকে পরামর্শ দেন কোনো অবিশ্বাসী বা কাফেরের অন্তরে গিয়ে পান করতে, কারণ সেখানে খোদার বাস নেই। তবে এখানেই শেষ নয়, আহমদ ফারাজ নামের আরেক কবি ইকবালের কথার পিঠে লেখেন যে, তিনি কাফেরের হৃদয়েও খোদার অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন। পরবর্তীকালে কবি ওয়াসি এই বিতর্কে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে বলেন, খোদা সর্বত্রই বিরাজমান, তাই পান করতে হলে জান্নাতে যাওয়াই শ্রেয়, যেখানে কোনো বিধিনিষেধ নেই।

এই চমৎকার কাব্যিক বিতর্কের রেশ ধরে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এক আধুনিক কবি তার নিজস্ব পংক্তিমালায় এর সমাধান খুঁজেছেন। তিনি মনে করেন, জাগতিক দুঃখ ভোলার জন্য মদের প্রয়োজন নেই, বরং পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াত এবং আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমেই হৃদয়ে প্রশান্তি আনা সম্ভব। তার মতে, মানুষের হৃদয় যখন পরিশুদ্ধ হয়ে মসজিদে রূপান্তরিত হয়, তখন সেখানে আর কোনো জাগতিক ব্যথার স্থান থাকে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৩ ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্ত অব্যাহত

গালিব থেকে ইকবাল: কবিতার ছন্দে স্রষ্টা ও সৃষ্টির এক ধ্রুপদী বিতর্ক

আপডেট সময় : ০২:০১:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

উর্দু সাহিত্যের কিংবদন্তি কবি মির্জা গালিবের একটি বিখ্যাত শের এবং তাকে কেন্দ্র করে পরবর্তী প্রজন্মের কবিদের পাল্টা জবাব নিয়ে সাহিত্যাঙ্গনে এক দীর্ঘস্থায়ী বিতর্ক বিদ্যমান। লোকমুখে প্রচলিত আছে, মির্জা গালিব একবার মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন, যা দেখে উপস্থিত মুসল্লিরা তাকে বাধা দেন। তারা বলেন, মসজিদ হলো আল্লাহর ঘর, এখানে এমন কাজ অনুচিত। তখন গালিব তার স্বভাবজাত ভঙ্গিতে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, এমন কোনো জায়গা কি আছে যেখানে খোদা নেই?

বহু বছর পর আল্লামা ইকবাল গালিবের সেই যুক্তির জবাবে তার শেরে লেখেন যে, মসজিদ অবশ্যই আল্লাহর ঘর এবং সেখানে মদ্যপান নিষিদ্ধ। তিনি গালিবকে পরামর্শ দেন কোনো অবিশ্বাসী বা কাফেরের অন্তরে গিয়ে পান করতে, কারণ সেখানে খোদার বাস নেই। তবে এখানেই শেষ নয়, আহমদ ফারাজ নামের আরেক কবি ইকবালের কথার পিঠে লেখেন যে, তিনি কাফেরের হৃদয়েও খোদার অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন। পরবর্তীকালে কবি ওয়াসি এই বিতর্কে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে বলেন, খোদা সর্বত্রই বিরাজমান, তাই পান করতে হলে জান্নাতে যাওয়াই শ্রেয়, যেখানে কোনো বিধিনিষেধ নেই।

এই চমৎকার কাব্যিক বিতর্কের রেশ ধরে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এক আধুনিক কবি তার নিজস্ব পংক্তিমালায় এর সমাধান খুঁজেছেন। তিনি মনে করেন, জাগতিক দুঃখ ভোলার জন্য মদের প্রয়োজন নেই, বরং পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াত এবং আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমেই হৃদয়ে প্রশান্তি আনা সম্ভব। তার মতে, মানুষের হৃদয় যখন পরিশুদ্ধ হয়ে মসজিদে রূপান্তরিত হয়, তখন সেখানে আর কোনো জাগতিক ব্যথার স্থান থাকে না।