ঢাকা ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মহাসড়ক পরিদর্শনে এসে নিজেই ২ ঘণ্টা যানজটে আটকে পড়লেন উপদেষ্টার গাড়ি

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড এলাকার নাজুক অংশ পরিদর্শনে এসে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান নিজেই প্রায় দুই ঘণ্টা আশুগঞ্জ যানজটে আটকে পড়েছেন।

মহাসড়ক পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি বুধবার (৮ অক্টোবর) সকালে ঢাকা থেকে মহানগর প্রভাতি এক্সপ্রেস ট্রেনে করে ভৈরবে আসেন। এরপর সেখান থেকে সড়ক পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পৌঁছান। সকাল সোয়া ১০টায় তিনি আশুগঞ্জের হোটেল উজানভাটি থেকে গাড়িবহর নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোডের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। এর মধ্যেই আশুগঞ্জের সোহাগপুর, সোনারামপুর, সরাইলের বেড়তলা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তীব্র যানজটের কবলে পড়েন। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি যানজটে আটকে ছিলেন।

এদিকে, উপদেষ্টার আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই তড়িঘড়ি করে সড়কটি মেরামতের কাজ শুরু করেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া মহাসড়কটি সচল রাখার জন্য পুলিশ, সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ, আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তবে কোনোভাবেই যানজট নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

উপদেষ্টার আগমনকে কেন্দ্র করে তড়িঘড়ি করে সড়কে বালু ফেলে এবং ইট বিছিয়ে কয়েক স্তরের অস্থায়ী মেরামত করা হয়। মূল মহাসড়ক থেকে প্রায় ১৫ ইঞ্চি উঁচু করা হয় এবং ছোট-বড় গর্তগুলো ভরাট করা হয়।

তবে উপদেষ্টা আসার আগ মুহূর্তে সড়কে এমন অস্থায়ী কর্মযজ্ঞ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাম না প্রকাশ করার শর্তে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, উপদেষ্টা আসার ঠিক আগে সড়কে এই ধরনের আয়োজন খুবই দুঃখজনক। কারণ এই এলাকার জনগণ গত এক বছর ধরে এই মহাসড়কের ১২ কিলোমিটার অংশ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এই অস্থায়ী সংস্কারে ২ কোটি টাকারও বেশি খরচ ধরা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে একনেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর থেকে আখাউড়া স্থল বন্দর পর্যন্ত ৫১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে প্রস্তাবনা অনুমোদন পায়। ২০২০ সালে ৩টি প্যাকেজে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড কাজ শুরু করে। এরপর করোনা মহামারি, বালু সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মহাসড়কটির নির্মাণ কাজ কয়েক দফা পিছিয়ে যায়। ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয় এবং সম্প্রতি আরও এক বছরের জন্য সময় বাড়ানো হয়েছে। এর সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয়ও ১৬৩ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সমীকরণ: চীন থেকে অত্যাধুনিক সুপারসনিক মিসাইল কিনছে ইরান

মহাসড়ক পরিদর্শনে এসে নিজেই ২ ঘণ্টা যানজটে আটকে পড়লেন উপদেষ্টার গাড়ি

আপডেট সময় : ০৩:২৪:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড এলাকার নাজুক অংশ পরিদর্শনে এসে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান নিজেই প্রায় দুই ঘণ্টা আশুগঞ্জ যানজটে আটকে পড়েছেন।

মহাসড়ক পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি বুধবার (৮ অক্টোবর) সকালে ঢাকা থেকে মহানগর প্রভাতি এক্সপ্রেস ট্রেনে করে ভৈরবে আসেন। এরপর সেখান থেকে সড়ক পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পৌঁছান। সকাল সোয়া ১০টায় তিনি আশুগঞ্জের হোটেল উজানভাটি থেকে গাড়িবহর নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোডের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। এর মধ্যেই আশুগঞ্জের সোহাগপুর, সোনারামপুর, সরাইলের বেড়তলা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তীব্র যানজটের কবলে পড়েন। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি যানজটে আটকে ছিলেন।

এদিকে, উপদেষ্টার আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই তড়িঘড়ি করে সড়কটি মেরামতের কাজ শুরু করেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া মহাসড়কটি সচল রাখার জন্য পুলিশ, সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ, আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তবে কোনোভাবেই যানজট নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

উপদেষ্টার আগমনকে কেন্দ্র করে তড়িঘড়ি করে সড়কে বালু ফেলে এবং ইট বিছিয়ে কয়েক স্তরের অস্থায়ী মেরামত করা হয়। মূল মহাসড়ক থেকে প্রায় ১৫ ইঞ্চি উঁচু করা হয় এবং ছোট-বড় গর্তগুলো ভরাট করা হয়।

তবে উপদেষ্টা আসার আগ মুহূর্তে সড়কে এমন অস্থায়ী কর্মযজ্ঞ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাম না প্রকাশ করার শর্তে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, উপদেষ্টা আসার ঠিক আগে সড়কে এই ধরনের আয়োজন খুবই দুঃখজনক। কারণ এই এলাকার জনগণ গত এক বছর ধরে এই মহাসড়কের ১২ কিলোমিটার অংশ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এই অস্থায়ী সংস্কারে ২ কোটি টাকারও বেশি খরচ ধরা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে একনেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর থেকে আখাউড়া স্থল বন্দর পর্যন্ত ৫১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে প্রস্তাবনা অনুমোদন পায়। ২০২০ সালে ৩টি প্যাকেজে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড কাজ শুরু করে। এরপর করোনা মহামারি, বালু সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মহাসড়কটির নির্মাণ কাজ কয়েক দফা পিছিয়ে যায়। ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয় এবং সম্প্রতি আরও এক বছরের জন্য সময় বাড়ানো হয়েছে। এর সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয়ও ১৬৩ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।