ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করতে ভারত সফরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৩:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বুধবার দুই দিনের ভারত সফরে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন ব্যবসা, সংস্কৃতি ও শিক্ষা খাতের এক শতাধিক প্রতিনিধি। এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো—সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নে নতুন গতি আনা।

গত জুলাই মাসে ভারত সফরে গিয়ে স্টারমার দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির মাধ্যমে টেক্সটাইল থেকে শুরু করে হুইস্কি ও গাড়ির ওপর শুল্ক হ্রাস এবং পরস্পরের বাজারে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিন বছরের দীর্ঘ আলোচনার পর মে মাসে চুক্তির সব ধাপ সম্পন্ন হয়। উভয় দেশই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রভাব এড়িয়ে দ্রুত এই সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী ছিল। বিশ্বের পঞ্চম ও ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতির এই দুই দেশের মধ্যে নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও ৩৪ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, এই পূর্বাভাসই শেষ নয়, চুক্তিটি আরও বিস্তৃত সুযোগ তৈরি করতে পারে। স্টারমারের এই সফরে তেল কোম্পানি বিপি, ইঞ্জিন প্রস্তুতকারক রোলস-রয়েস, ও টেলিকম প্রতিষ্ঠান বিটি-এর মতো বড় কর্পোরেট প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। এছাড়াও রয়েছেন মদ প্রস্তুতকারক ডিয়াজিও ও স্কচ হুইস্কি অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা। নতুন চুক্তির আওতায় যুক্তরাজ্যের হুইস্কি কোম্পানিগুলোর জন্য ভারতের শুল্ক হার ধাপে ধাপে ১৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে প্রথমে ৭৫ শতাংশ, পরে ৪০ শতাংশে নামানো হবে। পুরো বিষয়টিকে ব্রেক্সিট-পরবর্তী ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্টারমার বলেছেন, এটি শুধু একটি কাগুজে চুক্তি নয়, বরং প্রবৃদ্ধির জন্য একটি নতুন সূচনা। তিনি আরও যোগ করেন, ভারত ২০২৮ সালের মধ্যে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হতে চলেছে, তাই তাদের সামনে থাকা সুযোগগুলো অসাধারণ। স্টারমার বৃহস্পতিবার মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। উভয় দেশ আগামী এক বছরের মধ্যে চুক্তিটি কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বর্তমানে স্টারমার সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। বিশেষত নভেম্বরের বাজেট ঘোষণার আগে, যখন কঠিন আর্থিক বাস্তবতা উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, তখন এই সফরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, তারা ২০২৬ সাল থেকে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে দিল্লির উদ্দেশে তৃতীয় ফ্লাইট চালু করবে। পাশাপাশি ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর থেকেও ইন্ডিগো পরিচালিত নতুন দিল্লি রুট চালুর ঘোষণা এসেছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিলিস্তিন, রোহিঙ্গা ও বিনিয়োগ: জেদ্দায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তিন দেশের মন্ত্রীদের ফলপ্রসূ বৈঠক

বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করতে ভারত সফরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

আপডেট সময় : ১১:৫৩:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বুধবার দুই দিনের ভারত সফরে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন ব্যবসা, সংস্কৃতি ও শিক্ষা খাতের এক শতাধিক প্রতিনিধি। এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো—সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নে নতুন গতি আনা।

গত জুলাই মাসে ভারত সফরে গিয়ে স্টারমার দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির মাধ্যমে টেক্সটাইল থেকে শুরু করে হুইস্কি ও গাড়ির ওপর শুল্ক হ্রাস এবং পরস্পরের বাজারে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিন বছরের দীর্ঘ আলোচনার পর মে মাসে চুক্তির সব ধাপ সম্পন্ন হয়। উভয় দেশই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রভাব এড়িয়ে দ্রুত এই সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী ছিল। বিশ্বের পঞ্চম ও ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতির এই দুই দেশের মধ্যে নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও ৩৪ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, এই পূর্বাভাসই শেষ নয়, চুক্তিটি আরও বিস্তৃত সুযোগ তৈরি করতে পারে। স্টারমারের এই সফরে তেল কোম্পানি বিপি, ইঞ্জিন প্রস্তুতকারক রোলস-রয়েস, ও টেলিকম প্রতিষ্ঠান বিটি-এর মতো বড় কর্পোরেট প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। এছাড়াও রয়েছেন মদ প্রস্তুতকারক ডিয়াজিও ও স্কচ হুইস্কি অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা। নতুন চুক্তির আওতায় যুক্তরাজ্যের হুইস্কি কোম্পানিগুলোর জন্য ভারতের শুল্ক হার ধাপে ধাপে ১৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে প্রথমে ৭৫ শতাংশ, পরে ৪০ শতাংশে নামানো হবে। পুরো বিষয়টিকে ব্রেক্সিট-পরবর্তী ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্টারমার বলেছেন, এটি শুধু একটি কাগুজে চুক্তি নয়, বরং প্রবৃদ্ধির জন্য একটি নতুন সূচনা। তিনি আরও যোগ করেন, ভারত ২০২৮ সালের মধ্যে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হতে চলেছে, তাই তাদের সামনে থাকা সুযোগগুলো অসাধারণ। স্টারমার বৃহস্পতিবার মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। উভয় দেশ আগামী এক বছরের মধ্যে চুক্তিটি কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বর্তমানে স্টারমার সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। বিশেষত নভেম্বরের বাজেট ঘোষণার আগে, যখন কঠিন আর্থিক বাস্তবতা উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, তখন এই সফরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, তারা ২০২৬ সাল থেকে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে দিল্লির উদ্দেশে তৃতীয় ফ্লাইট চালু করবে। পাশাপাশি ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর থেকেও ইন্ডিগো পরিচালিত নতুন দিল্লি রুট চালুর ঘোষণা এসেছে।