ঢাকা ০৯:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে যা বললেন তারেক রহমান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৮:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে বলেছেন, ‘বিষয়টি রাজনৈতিক। এটি কোনো ব্যক্তির বিষয় নয়। আমরা প্রথম থেকে বলেছি, আমরা চাই, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সফল হোক।’ অর্থাৎ এই সরকারের মূল লক্ষ্য হলো কিছু প্রয়োজনীয় সংস্কারসহ একটি স্বাভাবিক, সুষ্ঠু ও স্বাধীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা। তিনি প্রত্যাশা করেন, অন্তর্বর্তী সরকার তাদের ওপর অর্পিত মূল দায়িত্বটি সঠিকভাবে সম্পাদন করবে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা রাখি, প্রত্যাশা করি যে, উনারা করবেন কাজটি সুন্দরভাবে। স্বাভাবিকভাবে এই কাজটির সৌন্দর্য্য বা কতটুকু ভালো, কতটুকু ভালো বা মন্দভাবে করতে পারছেন, তার ওপরই মনে হয় সম্পর্কের উষ্ণতা বা শীতলতা যেটাই বলেন, সেটা নির্ভর করবে।’

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথাগুলো বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই সাক্ষাৎকার দেন।

কয়েক মাস আগে তারেক রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হওয়ার যে মন্তব্য করেছিলেন, সে বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন যে সন্দেহটা হয়তো তারেক রহমানের মনেই আছে। এই প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, তিনি যখন এই মন্তব্য করেছিলেন, তখন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে সঠিক কোনো টাইম ফ্রেম বা রোডম্যাপ ঘোষণা করেননি। তিনি বলেন, শুধু তার মনে নয়, সেই সময় প্রায় সবার মনেই সন্দেহ ছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যখন দেখলাম, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ডক্টর ইউনূস উনি মোটামুটিভাবে একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করলেন। এবং পরবর্তীতে বেশ কয়েকবার উনি উনার যে সিদ্ধান্ত সেটির ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তারপর থেকেই খুব স্বাভাবিকভাবেই এই সন্দেহটি বহু মানুষের মন থেকে ধীরে ধীরে চলে যেতে ধরেছে।’ তিনি মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকার তাদের বক্তব্য ও কাজে যত বেশি দৃঢ় থাকবেন, ততই জনগণের মন থেকে সন্দেহ আস্তে আস্তে চলে যাবে।

ড. ইউনূসের সঙ্গে লন্ডনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্বাচনের কথা ছাড়াও অন্য কোনো বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল কি না—জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, ‘উনি অত্যন্ত একজন স্বনামধন্য মানুষ। অত্যন্ত বিজ্ঞ মানুষ। এর বাইরে তো অবশ্যই স্বাভাবিকভাবে সৌজন্যমূলক কথাবার্তা হয়েছে।’ তিনি জানান, ড. ইউনূস তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে জনগণ সুযোগ দিলে বিএনপি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এই বিষয়গুলো নিয়েই তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

গত এক বছরে অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনায় যে ভূমিকা রেখেছে, সেটিকে তারেক রহমান কীভাবে মূল্যায়ন করেন—জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মানেই ক্ষণস্থায়ী বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটির মতো, যা যুক্তরাজ্যের তিন গুণ বড়। এরকম একটি দেশ পরিচালনা করতে হলে স্বাভাবিকভাবেই জনগণের ম্যান্ডেটসহ একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সরকার প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, নির্বাচনের বাইরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পারফরমেন্স বিবেচনা করলে, ‘হয়তো উনারা চেষ্টা করেছেন অনেক বিষয়ে। সব ক্ষেত্রে সবাই তো আর সফল হতে পারে না, স্বাভাবিকভাবে উনাদের লিমিটেশনস কিছু আছে। সেই লিমিটেশনস এর মধ্যে হয়তো চেষ্টা করেছেন, যতটুকু পেরেছেন হয়তো চেষ্টা করছেন।’

এক এগারোর সরকার বা সেনা সমর্থিত সরকারের সেই সময়টিকে তিনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন—জানতে চাওয়া হলে তারেক রহমান এক বাক্যে বলেন, এক এগারোর সরকার তো একটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত, অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত একটি সরকার ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, সেই সরকার কীভাবে দেশের যতটুকু রাজনীতি গড়ে উঠেছিল, গণতান্ত্রিক ভিত্তি ধীরে ধীরে গড়ে উঠছিল, সবকিছু ভেঙে গুড়িয়ে দিতে চেয়েছিল, বিরাজনীতিকরণ করতে চেয়েছিল এবং দেশকে একটি অন্ধকার দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল

বর্তমানে আলোচিত সংস্কারের বিষয়ে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য বা মতবিরোধ হচ্ছে। যেমন—এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা বা দলের প্রধান থাকতে পারবেন না, এরকম একটি প্রস্তাব এসেছে, যেখানে বিএনপি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যখন স্বৈরাচার ছিল তখন তাদের মুখের ওপর, তাদের চোখের দিকে চোখ রেখে বিএনপিই এই সংস্কারগুলোর কথা বলেছিল। তিনি আরও বলেন, ‘সবার প্রতি পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে আমি বলতে চাই যে, বিএনপি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিলে সেটি সমস্যা, অর্থাৎ বিএনপিকে এগ্রি (সম্মত) করতে হবে সবার সাথে, তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু বিএনপি যদি কোনোটার সাথে একমত না হয়, তাহলে বেঠিক। এটি তো গণতন্ত্র হলো না।’ তিনি মনে করিয়ে দেন, গণতন্ত্রের মানেই হচ্ছে বিভিন্ন মতামত থাকবে এবং সব ব্যাপারে একমত না হয়ে কিছু ব্যাপারে দ্বিমত থাকতেই পারে, এটাই গণতন্ত্রের মূল নির্যাস।

এক ব্যক্তির তিনটি পদে থাকা নিয়ে বিএনপির আপত্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তো তখনও বলিনি যে এক ব্যক্তি তিন পদে থাকতে পারবে না। এটা অন্যরা কেউ বলেছে যে, এক ব্যক্তি তিন পদে থাকতে পারবে না। আমরা মনে করি না যে, এটাতে স্বৈরাচারি হওয়ার কোনো কারণ আছে।’ তিনি বলেন, এক ব্যক্তির হাতে থাকলেই যে স্বৈরাচার হবে তা নয়। এটি নির্ভর করে ব্যক্তি বিশেষে, শুধু আইন চেঞ্জ করলেই সবকিছু সঠিক হয়ে যাবে না।

ভবিষ্যতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর দমন-পীড়ন হবে না—সেই নিশ্চয়তা দিতে পারেন কি না—এই প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান ‘জি, ইয়েস পারি। একদম দিতে পারি’ বলে নিশ্চয়তা দেন। তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পত্রপত্রিকা খুললে দেখা যাবে, কীভাবে অনেক খবর ছাপা হয়েছিল, যার সত্যতা ছিল না, অপপ্রচার ছিল, কিন্তু সংবাদ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

সাংবাদিক বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করে—এ ধরনের আইনগুলো বাতিল করা হবে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, আমরা সবাই মিলে বসবো, আলোচনা করবো। আপনাদের মতো সাংবাদিকসহ যারা আছেন, তাদের সাথে আলোচনা করবো। আলোচনা করে সেগুলোকে আমরা এরকম কালো আইন যা যা আছে, আমরা আস্তে আস্তে ঠিক করবো।’ তবে তিনি বলেন, অপপ্রচারকে সংবাদ হিসেবে প্রচার করা ঠিক নয়, এটি সবাইকে মিলেই দেখতে হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সেমিফাইনালের স্বপ্ন জিইয়ে রাখার লড়াই: শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি পাকিস্তান, সামনে পাহাড়সম সমীকরণ

অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে যা বললেন তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০২:১৮:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে বলেছেন, ‘বিষয়টি রাজনৈতিক। এটি কোনো ব্যক্তির বিষয় নয়। আমরা প্রথম থেকে বলেছি, আমরা চাই, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সফল হোক।’ অর্থাৎ এই সরকারের মূল লক্ষ্য হলো কিছু প্রয়োজনীয় সংস্কারসহ একটি স্বাভাবিক, সুষ্ঠু ও স্বাধীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা। তিনি প্রত্যাশা করেন, অন্তর্বর্তী সরকার তাদের ওপর অর্পিত মূল দায়িত্বটি সঠিকভাবে সম্পাদন করবে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা রাখি, প্রত্যাশা করি যে, উনারা করবেন কাজটি সুন্দরভাবে। স্বাভাবিকভাবে এই কাজটির সৌন্দর্য্য বা কতটুকু ভালো, কতটুকু ভালো বা মন্দভাবে করতে পারছেন, তার ওপরই মনে হয় সম্পর্কের উষ্ণতা বা শীতলতা যেটাই বলেন, সেটা নির্ভর করবে।’

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথাগুলো বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই সাক্ষাৎকার দেন।

কয়েক মাস আগে তারেক রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হওয়ার যে মন্তব্য করেছিলেন, সে বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন যে সন্দেহটা হয়তো তারেক রহমানের মনেই আছে। এই প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, তিনি যখন এই মন্তব্য করেছিলেন, তখন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে সঠিক কোনো টাইম ফ্রেম বা রোডম্যাপ ঘোষণা করেননি। তিনি বলেন, শুধু তার মনে নয়, সেই সময় প্রায় সবার মনেই সন্দেহ ছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যখন দেখলাম, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ডক্টর ইউনূস উনি মোটামুটিভাবে একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করলেন। এবং পরবর্তীতে বেশ কয়েকবার উনি উনার যে সিদ্ধান্ত সেটির ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তারপর থেকেই খুব স্বাভাবিকভাবেই এই সন্দেহটি বহু মানুষের মন থেকে ধীরে ধীরে চলে যেতে ধরেছে।’ তিনি মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকার তাদের বক্তব্য ও কাজে যত বেশি দৃঢ় থাকবেন, ততই জনগণের মন থেকে সন্দেহ আস্তে আস্তে চলে যাবে।

ড. ইউনূসের সঙ্গে লন্ডনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্বাচনের কথা ছাড়াও অন্য কোনো বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল কি না—জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, ‘উনি অত্যন্ত একজন স্বনামধন্য মানুষ। অত্যন্ত বিজ্ঞ মানুষ। এর বাইরে তো অবশ্যই স্বাভাবিকভাবে সৌজন্যমূলক কথাবার্তা হয়েছে।’ তিনি জানান, ড. ইউনূস তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে জনগণ সুযোগ দিলে বিএনপি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এই বিষয়গুলো নিয়েই তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

গত এক বছরে অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনায় যে ভূমিকা রেখেছে, সেটিকে তারেক রহমান কীভাবে মূল্যায়ন করেন—জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মানেই ক্ষণস্থায়ী বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটির মতো, যা যুক্তরাজ্যের তিন গুণ বড়। এরকম একটি দেশ পরিচালনা করতে হলে স্বাভাবিকভাবেই জনগণের ম্যান্ডেটসহ একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সরকার প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, নির্বাচনের বাইরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পারফরমেন্স বিবেচনা করলে, ‘হয়তো উনারা চেষ্টা করেছেন অনেক বিষয়ে। সব ক্ষেত্রে সবাই তো আর সফল হতে পারে না, স্বাভাবিকভাবে উনাদের লিমিটেশনস কিছু আছে। সেই লিমিটেশনস এর মধ্যে হয়তো চেষ্টা করেছেন, যতটুকু পেরেছেন হয়তো চেষ্টা করছেন।’

এক এগারোর সরকার বা সেনা সমর্থিত সরকারের সেই সময়টিকে তিনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন—জানতে চাওয়া হলে তারেক রহমান এক বাক্যে বলেন, এক এগারোর সরকার তো একটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত, অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত একটি সরকার ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, সেই সরকার কীভাবে দেশের যতটুকু রাজনীতি গড়ে উঠেছিল, গণতান্ত্রিক ভিত্তি ধীরে ধীরে গড়ে উঠছিল, সবকিছু ভেঙে গুড়িয়ে দিতে চেয়েছিল, বিরাজনীতিকরণ করতে চেয়েছিল এবং দেশকে একটি অন্ধকার দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল

বর্তমানে আলোচিত সংস্কারের বিষয়ে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য বা মতবিরোধ হচ্ছে। যেমন—এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা বা দলের প্রধান থাকতে পারবেন না, এরকম একটি প্রস্তাব এসেছে, যেখানে বিএনপি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যখন স্বৈরাচার ছিল তখন তাদের মুখের ওপর, তাদের চোখের দিকে চোখ রেখে বিএনপিই এই সংস্কারগুলোর কথা বলেছিল। তিনি আরও বলেন, ‘সবার প্রতি পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে আমি বলতে চাই যে, বিএনপি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিলে সেটি সমস্যা, অর্থাৎ বিএনপিকে এগ্রি (সম্মত) করতে হবে সবার সাথে, তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু বিএনপি যদি কোনোটার সাথে একমত না হয়, তাহলে বেঠিক। এটি তো গণতন্ত্র হলো না।’ তিনি মনে করিয়ে দেন, গণতন্ত্রের মানেই হচ্ছে বিভিন্ন মতামত থাকবে এবং সব ব্যাপারে একমত না হয়ে কিছু ব্যাপারে দ্বিমত থাকতেই পারে, এটাই গণতন্ত্রের মূল নির্যাস।

এক ব্যক্তির তিনটি পদে থাকা নিয়ে বিএনপির আপত্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তো তখনও বলিনি যে এক ব্যক্তি তিন পদে থাকতে পারবে না। এটা অন্যরা কেউ বলেছে যে, এক ব্যক্তি তিন পদে থাকতে পারবে না। আমরা মনে করি না যে, এটাতে স্বৈরাচারি হওয়ার কোনো কারণ আছে।’ তিনি বলেন, এক ব্যক্তির হাতে থাকলেই যে স্বৈরাচার হবে তা নয়। এটি নির্ভর করে ব্যক্তি বিশেষে, শুধু আইন চেঞ্জ করলেই সবকিছু সঠিক হয়ে যাবে না।

ভবিষ্যতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর দমন-পীড়ন হবে না—সেই নিশ্চয়তা দিতে পারেন কি না—এই প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান ‘জি, ইয়েস পারি। একদম দিতে পারি’ বলে নিশ্চয়তা দেন। তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পত্রপত্রিকা খুললে দেখা যাবে, কীভাবে অনেক খবর ছাপা হয়েছিল, যার সত্যতা ছিল না, অপপ্রচার ছিল, কিন্তু সংবাদ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

সাংবাদিক বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করে—এ ধরনের আইনগুলো বাতিল করা হবে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, আমরা সবাই মিলে বসবো, আলোচনা করবো। আপনাদের মতো সাংবাদিকসহ যারা আছেন, তাদের সাথে আলোচনা করবো। আলোচনা করে সেগুলোকে আমরা এরকম কালো আইন যা যা আছে, আমরা আস্তে আস্তে ঠিক করবো।’ তবে তিনি বলেন, অপপ্রচারকে সংবাদ হিসেবে প্রচার করা ঠিক নয়, এটি সবাইকে মিলেই দেখতে হবে।