ঢাকা ১১:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাড়ে ২১ লাখ মৃত ভোটার চিহ্নিত করেছি, এদের নামে ভোট দেওয়া হতো’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনকে অবশ্যই জাতীয়ভাবে সবাই মিলে সম্পন্ন করতে হবে, কারণ নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না। তিনি জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় তাঁরা সাড়ে ২১ লাখ মৃত ভোটার চিহ্নিত করেছেন এবং এদের নামে ভোট দেওয়া হতো বলে সেই নামগুলো তালিকা থেকে বাতিল করা হয়েছে।

সোমবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত সংলাপে সূচনা বক্তব্যে তিনি এই কথাগুলো বলেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমাদের ভার নির্বাচন সংস্কার কমিশন গ্রহণ করে নিয়েছে। তারা আলাপ-আলোচনা করে আমাদের কাজ সহজ করে দিয়েছে। এটা আমাদের আলোচনার খাতিরে আলোচনা নয়। আমরা এটাকে মিনিংফুল হিসেবে দেখতে চাই। আমাদের প্রস্তুতিতে যদি কোনো ঘাটতি থাকে, আপনাদের (গণমাধ্যম) কাছ থেকে এনলাইটেড হবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে থেকে দেশকে এই ক্রান্তি লগ্ন থেকে এগিয়ে যেতে চাই। এই নির্বাচন ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের শেপ ঠিক করবে। জাতি হিসেবে এই নির্বাচন ভালো হওয়ার ছাড়া কোনো উপায় নেই। সুতরাং সবাই মিলে এই নির্বাচন করতে হবে। জাতীয় নির্বাচন, জাতীয়ভাবেই করতে হবে। ইসির একার পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না।’

সিইসি উল্লেখ করেন, ‘২০২৪ সালের নভেম্বরে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানা আলোচনা বিতর্ক চলেছে। কিন্তু আমরা আমাদের প্রস্তুতি নিয়েছি। তবে যেন তেন নির্বাচন দিলে চলবে না। আমরা সে লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছিলাম। ভোটার তালিকা হালনাগাদে সাড়ে ২১ লাখ মৃত ভোটার চিহ্নিত করেছি। এদের নামে ভোট দেওয়া হতো। এগুলো আমরা বাতিল করেছি। প্রায় ৪৫ লাখের মতো ভোটার হওয়ার যোগ্য ছিল। তাদের আমরা তালিকায় যুক্ত করেছি। নারী ভোটারের সংখ্যা ছিল কম। পুরুষের তুলনায় প্রায় ৩০ লাখ কম ছিল। মানুষ তো ভোটের প্রতি আগ্রহ হারিয়েছিল। সুতরাং আমরা আমাদের ভোটার তালিকা কার্যক্রমে সচেতনতা বৃদ্ধিতে মহিলারা দলে দলে এসে নিবন্ধন করেছেন। এটা আমাদের সচেতন সিদ্ধান্ত ছিল।’

তিনি জানান, ‘আমরা ক্রিটিকাল সময়ে দায়িত্ব নিয়েছি। এর মধ্যেই আমরা পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করছি। এটা যদিও আগে ছিল, আমরা এখন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। প্রবাসী ভাইয়েরা বলেছেন, “আমরা ভোট দিতে চাই”। অনেক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্যেও বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় মোটামুটি একটা পদ্ধতি বের করেছি। ডিজিটালের পাশাপাশি অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করার পর পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন। অনেকটা সংকর পদ্ধতি। আমরা আপনাদের পাশে পেতে চাই। এগুলো প্রচার করবেন।’

এ এম এম নাসির উদ্দিন আরও বলেন, ‘যত চেষ্টাই আমরা করি না কেন, মিডিয়া, জনগণ ও দলগুলো মেটার করে। মিডিয়ার দরকার মতামত গঠনের ক্ষেত্রে, সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টিতে। আমরা চাই ফেস্টিভ মুডে যেন নির্বাচন হয়। এটা জাতীয় নির্বাচন। সবার দায়িত্ব। ভোটারদের আগ্রহী করতে হবে। এজন্য সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তারা যেন ভোটকেন্দ্রে আসেন, ভোটটা যেন দেন। আমরা মোটামুটি চেষ্টা করবো আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী সুষ্ঠু অবাধ পরিবেশ তৈরির।’

ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজের সঞ্চালনায় এই সভায় চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে সংস্কার না হলে রাজপথে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিরোধী দলের

সাড়ে ২১ লাখ মৃত ভোটার চিহ্নিত করেছি, এদের নামে ভোট দেওয়া হতো’

আপডেট সময় : ০৫:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনকে অবশ্যই জাতীয়ভাবে সবাই মিলে সম্পন্ন করতে হবে, কারণ নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না। তিনি জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় তাঁরা সাড়ে ২১ লাখ মৃত ভোটার চিহ্নিত করেছেন এবং এদের নামে ভোট দেওয়া হতো বলে সেই নামগুলো তালিকা থেকে বাতিল করা হয়েছে।

সোমবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত সংলাপে সূচনা বক্তব্যে তিনি এই কথাগুলো বলেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমাদের ভার নির্বাচন সংস্কার কমিশন গ্রহণ করে নিয়েছে। তারা আলাপ-আলোচনা করে আমাদের কাজ সহজ করে দিয়েছে। এটা আমাদের আলোচনার খাতিরে আলোচনা নয়। আমরা এটাকে মিনিংফুল হিসেবে দেখতে চাই। আমাদের প্রস্তুতিতে যদি কোনো ঘাটতি থাকে, আপনাদের (গণমাধ্যম) কাছ থেকে এনলাইটেড হবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে থেকে দেশকে এই ক্রান্তি লগ্ন থেকে এগিয়ে যেতে চাই। এই নির্বাচন ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের শেপ ঠিক করবে। জাতি হিসেবে এই নির্বাচন ভালো হওয়ার ছাড়া কোনো উপায় নেই। সুতরাং সবাই মিলে এই নির্বাচন করতে হবে। জাতীয় নির্বাচন, জাতীয়ভাবেই করতে হবে। ইসির একার পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না।’

সিইসি উল্লেখ করেন, ‘২০২৪ সালের নভেম্বরে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানা আলোচনা বিতর্ক চলেছে। কিন্তু আমরা আমাদের প্রস্তুতি নিয়েছি। তবে যেন তেন নির্বাচন দিলে চলবে না। আমরা সে লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছিলাম। ভোটার তালিকা হালনাগাদে সাড়ে ২১ লাখ মৃত ভোটার চিহ্নিত করেছি। এদের নামে ভোট দেওয়া হতো। এগুলো আমরা বাতিল করেছি। প্রায় ৪৫ লাখের মতো ভোটার হওয়ার যোগ্য ছিল। তাদের আমরা তালিকায় যুক্ত করেছি। নারী ভোটারের সংখ্যা ছিল কম। পুরুষের তুলনায় প্রায় ৩০ লাখ কম ছিল। মানুষ তো ভোটের প্রতি আগ্রহ হারিয়েছিল। সুতরাং আমরা আমাদের ভোটার তালিকা কার্যক্রমে সচেতনতা বৃদ্ধিতে মহিলারা দলে দলে এসে নিবন্ধন করেছেন। এটা আমাদের সচেতন সিদ্ধান্ত ছিল।’

তিনি জানান, ‘আমরা ক্রিটিকাল সময়ে দায়িত্ব নিয়েছি। এর মধ্যেই আমরা পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করছি। এটা যদিও আগে ছিল, আমরা এখন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। প্রবাসী ভাইয়েরা বলেছেন, “আমরা ভোট দিতে চাই”। অনেক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্যেও বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় মোটামুটি একটা পদ্ধতি বের করেছি। ডিজিটালের পাশাপাশি অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করার পর পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন। অনেকটা সংকর পদ্ধতি। আমরা আপনাদের পাশে পেতে চাই। এগুলো প্রচার করবেন।’

এ এম এম নাসির উদ্দিন আরও বলেন, ‘যত চেষ্টাই আমরা করি না কেন, মিডিয়া, জনগণ ও দলগুলো মেটার করে। মিডিয়ার দরকার মতামত গঠনের ক্ষেত্রে, সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টিতে। আমরা চাই ফেস্টিভ মুডে যেন নির্বাচন হয়। এটা জাতীয় নির্বাচন। সবার দায়িত্ব। ভোটারদের আগ্রহী করতে হবে। এজন্য সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তারা যেন ভোটকেন্দ্রে আসেন, ভোটটা যেন দেন। আমরা মোটামুটি চেষ্টা করবো আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী সুষ্ঠু অবাধ পরিবেশ তৈরির।’

ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজের সঞ্চালনায় এই সভায় চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।