রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে টেম্পোস্ট্যান্ড ও ফুটপাতে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের ধরতে নতুন করে তালিকা তৈরি করছে পুলিশ। তবে সাধু এই উদ্যোগের মাঝেই উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। পুলিশের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজদের এই তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার শর্তে ৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা যায়, ফুটপাত ও পরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্প্রতি কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানায়। এর অংশ হিসেবে প্রকৃত চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের চিহ্নিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়। কিন্তু শুরুতেই এই প্রক্রিয়াটি এখন চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
অভিযোগ রয়েছে, তালিকা তৈরির দায়িত্বে থাকা এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা এটিকে অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। চিহ্নিত, তালিকাভুক্ত ও প্রভাবশালী চাঁদাবাজদের নাম বাদ দিতে গোপনে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হচ্ছে। সূত্র বলছে, ব্যক্তির প্রভাব, এলাকার নিয়ন্ত্রণ এবং চাঁদাবাজির পরিধি ভেদে এই ঘুষের পরিমাণ ৫ লাখ থেকে শুরু করে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হচ্ছে। যারা এই বিপুল অঙ্কের টাকা দিতে পারছেন, রহস্যজনকভাবে তাদের নাম পুলিশের খাতা থেকে গায়েব হয়ে যাচ্ছে।
ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং টেম্পো ও অটোরিকশা চালকরা দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় প্রভাবশালী ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি। প্রতিদিন তাদের আয়ের একটি বড় অংশ চলে যায় এই চাঁদাবাজদের পকেটে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের আশা ছিল, পুলিশের এই নতুন তালিকার মাধ্যমে তারা অন্তত চাঁদাবাজির ভয়াল থাবা থেকে মুক্তি পাবেন। কিন্তু খোদ পুলিশের বিরুদ্ধে এমন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠায় জনমনে চরম হতাশা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রক্ষক যদি ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমার কোনো সম্ভাবনাই নেই। উল্টো ঘুষ দিয়ে পার পাওয়া চাঁদাবাজরা টাকা উসুল করতে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।
এ বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে সুশীল সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন গুরুতর অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তালিকা প্রণয়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে না পারলে চাঁদাবাজি বন্ধের এই উদ্যোগটি সম্পূর্ণ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে এবং অপরাধীদের দৌরাত্ম্য আরও বৃদ্ধি পাবে।
রিপোর্টারের নাম 

























