ঢাকা ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তারেক রহমানের দেশে ফেরার সময় হয়েছে

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন যে কিছু সঙ্গত কারণে তিনি এখনও দেশে ফিরতে পারেননি। তবে তিনি এও বলেছেন, এখন ফেরার সময় চলে এসেছে এবং তিনি দ্রুতই দেশে ফিরবেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে নির্বাচনের সময় তিনি জনগণের মাঝেই থাকবেন।

সোমবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথাগুলো বলেন।

তারেক রহমান সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘শারীরিকভাবে আমি হয়তো ব্রিটেনে আছি, কিন্তু মন-মানসিকতা সবকিছু মিলিয়ে আমি ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশেই রয়েছি।’

তিনি প্রশ্ন করেন, ‘দেশে জনগণের প্রত্যাশিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনের সময় কেমন করে দূরে থাকা যায়? নির্বাচনের সময় আমি জনগণের সঙ্গে, জনগণের মাঝেই থাকবো।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আমি নিজেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড মনে করি না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড কোনো ব্যক্তি বা দল নয়। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই প্রকৃতপক্ষে এই গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড।’

তিনি যোগ করেন, ‘বিএনপি প্রথম থেকেই বলে আসছিল, নির্বাচন যত দ্রুত হবে, দেশে তত দ্রুত স্থিতিশীলতা আসবে।’

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ‘বিগত স্বৈরাচারের সময় প্রায় ৬৪টি রাজনৈতিক দল যার যার অবস্থান থেকে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। আমরা চেষ্টা করেছিলাম কমবেশি একসঙ্গে কাজ করার।’

তারেক রহমান বিশ্বাস করেন, ‘জাতীয় নির্বাচন যদি আরও ছয় মাস আগে অনুষ্ঠিত হতো, তাহলে দেশের অনেকগুলো সংকট তৈরি হতো না। দেরিতে হলেও সরকার বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চেয়েছিলাম, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার ফেব্রুয়ারির ভেতরে নির্বাচন করতে চাইছে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে সব রকম উদ্যোগ নেবে—আমরা সেই আস্থা রাখতে চাই।’

নির্বাচনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা কী হবে জানতে চাইলে তিনি জানান, শারীরিক সক্ষমতা যদি তাকে অনুমতি দেয়, তাহলে তিনি অবশ্যই কিছু না কিছু ভূমিকা রাখবেন।

জাতীয় রাজনীতিতে ডাকসুর প্রভাব পড়বে কিনা, এই প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, তিনি দেখেছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে কিছু ব্যক্তি, যেমন মান্না ভাই—তিনি তো বোধহয় দুবার ভিপি ছিলেন এবং আমার থেকে অনেক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রাজনীতিবিদ। আমরা যদি উনার বক্তব্যগুলো শুনি বা ধরি, তাহলে আমি মনে করি না যে কোনো কারণ আছে। ছাত্র রাজনীতি ছাত্র রাজনীতির জায়গায় আর জাতীয় রাজনীতি জাতীয় রাজনীতির জায়গায়।

জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে তার মন্তব্য, বাংলাদেশের স্বীকৃত নিয়ম, আইন-কানুনের ভেতরে থেকে যদি কেউ রাজনীতি করে, তবে অবশ্যই করতে পারে। বিএনপি সবসময় বহুদলীয় রাজনীতিতে বিশ্বাসী। কাজেই বিষয়টি আমরা এভাবেই দেখতে চাই।

আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দল হিসেবে তারা যদি কোনো অন্যায় করে থাকে, তাহলে দেশের আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে। দেশের আইনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

তারেক রহমানের দেশে ফেরার সময় হয়েছে

আপডেট সময় : ০৪:২৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন যে কিছু সঙ্গত কারণে তিনি এখনও দেশে ফিরতে পারেননি। তবে তিনি এও বলেছেন, এখন ফেরার সময় চলে এসেছে এবং তিনি দ্রুতই দেশে ফিরবেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে নির্বাচনের সময় তিনি জনগণের মাঝেই থাকবেন।

সোমবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথাগুলো বলেন।

তারেক রহমান সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘শারীরিকভাবে আমি হয়তো ব্রিটেনে আছি, কিন্তু মন-মানসিকতা সবকিছু মিলিয়ে আমি ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশেই রয়েছি।’

তিনি প্রশ্ন করেন, ‘দেশে জনগণের প্রত্যাশিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনের সময় কেমন করে দূরে থাকা যায়? নির্বাচনের সময় আমি জনগণের সঙ্গে, জনগণের মাঝেই থাকবো।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আমি নিজেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড মনে করি না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড কোনো ব্যক্তি বা দল নয়। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই প্রকৃতপক্ষে এই গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড।’

তিনি যোগ করেন, ‘বিএনপি প্রথম থেকেই বলে আসছিল, নির্বাচন যত দ্রুত হবে, দেশে তত দ্রুত স্থিতিশীলতা আসবে।’

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ‘বিগত স্বৈরাচারের সময় প্রায় ৬৪টি রাজনৈতিক দল যার যার অবস্থান থেকে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। আমরা চেষ্টা করেছিলাম কমবেশি একসঙ্গে কাজ করার।’

তারেক রহমান বিশ্বাস করেন, ‘জাতীয় নির্বাচন যদি আরও ছয় মাস আগে অনুষ্ঠিত হতো, তাহলে দেশের অনেকগুলো সংকট তৈরি হতো না। দেরিতে হলেও সরকার বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চেয়েছিলাম, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার ফেব্রুয়ারির ভেতরে নির্বাচন করতে চাইছে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে সব রকম উদ্যোগ নেবে—আমরা সেই আস্থা রাখতে চাই।’

নির্বাচনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা কী হবে জানতে চাইলে তিনি জানান, শারীরিক সক্ষমতা যদি তাকে অনুমতি দেয়, তাহলে তিনি অবশ্যই কিছু না কিছু ভূমিকা রাখবেন।

জাতীয় রাজনীতিতে ডাকসুর প্রভাব পড়বে কিনা, এই প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, তিনি দেখেছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে কিছু ব্যক্তি, যেমন মান্না ভাই—তিনি তো বোধহয় দুবার ভিপি ছিলেন এবং আমার থেকে অনেক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রাজনীতিবিদ। আমরা যদি উনার বক্তব্যগুলো শুনি বা ধরি, তাহলে আমি মনে করি না যে কোনো কারণ আছে। ছাত্র রাজনীতি ছাত্র রাজনীতির জায়গায় আর জাতীয় রাজনীতি জাতীয় রাজনীতির জায়গায়।

জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে তার মন্তব্য, বাংলাদেশের স্বীকৃত নিয়ম, আইন-কানুনের ভেতরে থেকে যদি কেউ রাজনীতি করে, তবে অবশ্যই করতে পারে। বিএনপি সবসময় বহুদলীয় রাজনীতিতে বিশ্বাসী। কাজেই বিষয়টি আমরা এভাবেই দেখতে চাই।

আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দল হিসেবে তারা যদি কোনো অন্যায় করে থাকে, তাহলে দেশের আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে। দেশের আইনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।