ঢাকা ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জলবায়ু সহনশীল দেশীয় গরুর জাত সংরক্ষণের তাগিদ প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার

দেশীয় গরুর জাত সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যে দেশীয় গরুর জাতগুলো রয়েছে, সেগুলো দীর্ঘসময় ধরে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে নিজস্ব পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে টিকে আছে। তাই স্থানীয় গরুর জাতগুলোর ভেতরে থাকা অনন্য জেনেটিক বৈশিষ্ট্য ভবিষ্যতের টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের জন্য এক অমূল্য সম্পদ।”

বুধবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল সারিনায় আয়োজিত “প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু পদক্ষেপ সম্প্রসারণ প্রকল্প–দ্বিতীয় পর্যায়” শীর্ষক জাতীয় স্টেকহোল্ডারদের ভ্যালিডেশন কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, “স্থানীয় জলবায়ু-সহনশীল দেশীয় জাতের গবাদিপশু সংরক্ষণ এখন সময়ের দাবি। কেবল শংকর জাতের দিকে ঝুঁকলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই দেশীয় জাত সংরক্ষণ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “মাঠপর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি তাপপ্রবাহ, আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়া—এগুলো এখন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের বড় চ্যালেঞ্জ। তাই কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের গবেষক, বিজ্ঞানী, প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদফতর এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈশ্বিক আলোচনায় নিয়মিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”

জলবায়ু দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গে ফরিদা আখতার বলেন, “উন্নত দেশগুলোর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনের জন্য দায়ী। অথচ জলবায়ু ঝুঁকিপ্রবণ দেশ হয়েও বাংলাদেশকে অনেক সময় অন্যায়ভাবে দোষারোপ করা হয়। এর কারণ, আমাদের দেশে সেক্টরভিত্তিক সুনির্দিষ্ট তথ্য, পরিমাপ, প্রতিবেদন ও যাচাইকরণ ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত নয়।”

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)–এর প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক, এবং এফএও–এর প্রাণিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ মি. জ্যাঁ দে দ্যু আয়াবাগাবো।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন এফএও’র ন্যাশনাল প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ড. খান শহিদুল হক।

“দুগ্ধ ও গরুর মাংস উৎপাদন ব্যবস্থায় গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাসে এলডিডিপি প্রকল্পের অর্জন এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা” বিষয়ে উপস্থাপনা করেন প্রকল্পের উপপরিচালক ড. শাকিফ-উল-আজম।

কর্মশালায় সরকার ও বেসরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং এনজিও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগদান

জলবায়ু সহনশীল দেশীয় গরুর জাত সংরক্ষণের তাগিদ প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার

আপডেট সময় : ০৮:১৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

দেশীয় গরুর জাত সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যে দেশীয় গরুর জাতগুলো রয়েছে, সেগুলো দীর্ঘসময় ধরে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে নিজস্ব পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে টিকে আছে। তাই স্থানীয় গরুর জাতগুলোর ভেতরে থাকা অনন্য জেনেটিক বৈশিষ্ট্য ভবিষ্যতের টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের জন্য এক অমূল্য সম্পদ।”

বুধবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল সারিনায় আয়োজিত “প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু পদক্ষেপ সম্প্রসারণ প্রকল্প–দ্বিতীয় পর্যায়” শীর্ষক জাতীয় স্টেকহোল্ডারদের ভ্যালিডেশন কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, “স্থানীয় জলবায়ু-সহনশীল দেশীয় জাতের গবাদিপশু সংরক্ষণ এখন সময়ের দাবি। কেবল শংকর জাতের দিকে ঝুঁকলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই দেশীয় জাত সংরক্ষণ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “মাঠপর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি তাপপ্রবাহ, আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়া—এগুলো এখন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের বড় চ্যালেঞ্জ। তাই কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের গবেষক, বিজ্ঞানী, প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদফতর এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈশ্বিক আলোচনায় নিয়মিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”

জলবায়ু দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গে ফরিদা আখতার বলেন, “উন্নত দেশগুলোর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনের জন্য দায়ী। অথচ জলবায়ু ঝুঁকিপ্রবণ দেশ হয়েও বাংলাদেশকে অনেক সময় অন্যায়ভাবে দোষারোপ করা হয়। এর কারণ, আমাদের দেশে সেক্টরভিত্তিক সুনির্দিষ্ট তথ্য, পরিমাপ, প্রতিবেদন ও যাচাইকরণ ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত নয়।”

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)–এর প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক, এবং এফএও–এর প্রাণিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ মি. জ্যাঁ দে দ্যু আয়াবাগাবো।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন এফএও’র ন্যাশনাল প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ড. খান শহিদুল হক।

“দুগ্ধ ও গরুর মাংস উৎপাদন ব্যবস্থায় গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাসে এলডিডিপি প্রকল্পের অর্জন এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা” বিষয়ে উপস্থাপনা করেন প্রকল্পের উপপরিচালক ড. শাকিফ-উল-আজম।

কর্মশালায় সরকার ও বেসরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং এনজিও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।