ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

তীব্র গরমে হজ পালন কঠিন হচ্ছে, হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা

বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে সৌদি আরবের মক্কার জলবায়ু ‘মৌলিকভাবে পরিবর্তিত’ হয়েছে। এর ফলে লাখো হজযাত্রী চরম ও ঝুঁকিপূর্ণ তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হচ্ছেন, যা হজ পালনের সময়কে আরও কঠিন করে তুলেছে। নতুন এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন গ্রুপের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ায় মে মাসেও এখন নিয়মিত ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে। অতীতে এমন তাপমাত্রা কেবল গ্রীষ্মকালেই দেখা যেত। জলবায়ু সংকটের কারণে এখন প্রতি দুই থেকে তিন বছর পরপর মে মাসে এমন তাপমাত্রা দেখা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গবেষকদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মে মাসের গড় তাপমাত্রা আগের তুলনায় প্রায় ৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। এর ফলে মে মাসে অনুষ্ঠিত হজ এখন অতীতের গ্রীষ্মকালীন হজের মতোই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হজ ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি। চান্দ্র বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করায় প্রতি বছর হজের সময় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে, ফলে প্রায় ৩৩ বছরের একটি চক্রে হজ সব ঋতুতেই অনুষ্ঠিত হয়। হজ পালনের সময় মুসল্লিদের টানা কয়েক দিন খোলা পরিবেশে দীর্ঘ পথ হাঁটতে হয়।

২০২৪ সালে জুন মাসে অনুষ্ঠিত হজে অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্রতার কারণে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল। ঐতিহাসিকভাবে মে মাস অপেক্ষাকৃত শীতল হলেও এখন পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষকদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত কমানো না গেলে শতাব্দীর শেষ নাগাদ বছরের প্রায় সব সময়ই বিপজ্জনক তাপমাত্রার মধ্যে হজ পালন করতে হতে পারে। ২০২২ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছিল, বর্তমান জলবায়ু নীতির ধারাবাহিকতায় শতাব্দীর শেষ নাগাদ বৈশ্বিক তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে গেলে মক্কায় অনুষ্ঠিত প্রায় ৯৭ শতাংশ হজই বিপজ্জনক তাপমাত্রার মধ্যে পড়বে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি কর্তৃপক্ষ তাপজনিত ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ছায়াযুক্ত পথ তৈরি, কুলিং স্টেশন স্থাপন, মিস্টিং সিস্টেম এবং চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ। পাশাপাশি, এই তীব্র গরমে হজযাত্রীদের হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে একগুচ্ছ নির্দেশনাও দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তারা হজযাত্রীদের নির্ধারিত পরিবহন ব্যবস্থা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে, যা তাদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলে সহায়তা করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে নগরবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

তীব্র গরমে হজ পালন কঠিন হচ্ছে, হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা

আপডেট সময় : ১০:৩৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে সৌদি আরবের মক্কার জলবায়ু ‘মৌলিকভাবে পরিবর্তিত’ হয়েছে। এর ফলে লাখো হজযাত্রী চরম ও ঝুঁকিপূর্ণ তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হচ্ছেন, যা হজ পালনের সময়কে আরও কঠিন করে তুলেছে। নতুন এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন গ্রুপের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ায় মে মাসেও এখন নিয়মিত ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে। অতীতে এমন তাপমাত্রা কেবল গ্রীষ্মকালেই দেখা যেত। জলবায়ু সংকটের কারণে এখন প্রতি দুই থেকে তিন বছর পরপর মে মাসে এমন তাপমাত্রা দেখা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গবেষকদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মে মাসের গড় তাপমাত্রা আগের তুলনায় প্রায় ৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। এর ফলে মে মাসে অনুষ্ঠিত হজ এখন অতীতের গ্রীষ্মকালীন হজের মতোই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হজ ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি। চান্দ্র বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করায় প্রতি বছর হজের সময় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে, ফলে প্রায় ৩৩ বছরের একটি চক্রে হজ সব ঋতুতেই অনুষ্ঠিত হয়। হজ পালনের সময় মুসল্লিদের টানা কয়েক দিন খোলা পরিবেশে দীর্ঘ পথ হাঁটতে হয়।

২০২৪ সালে জুন মাসে অনুষ্ঠিত হজে অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্রতার কারণে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল। ঐতিহাসিকভাবে মে মাস অপেক্ষাকৃত শীতল হলেও এখন পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষকদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত কমানো না গেলে শতাব্দীর শেষ নাগাদ বছরের প্রায় সব সময়ই বিপজ্জনক তাপমাত্রার মধ্যে হজ পালন করতে হতে পারে। ২০২২ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছিল, বর্তমান জলবায়ু নীতির ধারাবাহিকতায় শতাব্দীর শেষ নাগাদ বৈশ্বিক তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে গেলে মক্কায় অনুষ্ঠিত প্রায় ৯৭ শতাংশ হজই বিপজ্জনক তাপমাত্রার মধ্যে পড়বে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি কর্তৃপক্ষ তাপজনিত ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ছায়াযুক্ত পথ তৈরি, কুলিং স্টেশন স্থাপন, মিস্টিং সিস্টেম এবং চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ। পাশাপাশি, এই তীব্র গরমে হজযাত্রীদের হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে একগুচ্ছ নির্দেশনাও দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তারা হজযাত্রীদের নির্ধারিত পরিবহন ব্যবস্থা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে, যা তাদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলে সহায়তা করবে।