ঢাকা ১১:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

জেলা পরিষদ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ: এমপি হাসনাতের ব্যাখ্যা

কুমিল্লা জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করেছেন যে, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপদেষ্টা থাকাকালে জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা এবং সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ তার ফেসবুক পোস্টে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন, যেখানে তিনি অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া তার বক্তব্য পরিবর্তন করে বলেছেন যে, টাকা ব্যক্তি নয়, এলাকার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, মিডিয়ায় হয়তো পুরো বক্তব্য আসেনি। তিনি একটি অডিও ক্লিপও শেয়ার করেছেন, যেখানে জেলা পরিষদের প্রশাসককে বলতে শোনা যায়, ‘আমি তো বলি নাই, আপনি খাইছেন। কাজের জন্যই নিছেন। হয় তো মিডিয়ায় পুরোটা আসে নাই।’

হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন যে, জেলা পরিষদের প্রশাসক বিএনপির একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে বলেছেন, হাসনাত ও আসিফ জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব খাত থেকে ২৫ কোটি টাকা নিয়েছেন, যার মধ্যে তিনি ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন। তিনি বলেন, এই বক্তব্য শুনলে মনে হবে যেন টাকাগুলো তারা ব্যক্তিগতভাবে পকেটস্থ করেছেন।

সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ তার অভিযোগে দুটি ‘অসত্য তথ্য’ তুলে ধরেছেন। প্রথমত, তিনি বলেন যে এই বরাদ্দ জেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে দেওয়া হয়নি, বরং স্থানীয় সরকার বিভাগের এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে দেবিদ্বারের জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। এর সঙ্গে জেলা পরিষদের রাজস্ব খাতের কোনো সম্পর্ক নেই, তাই এটিকে রাজস্ব খাতের অর্থ বলে দাবি করা ‘স্পষ্ট মিথ্যাচার’। দ্বিতীয়ত, তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি বা আসিফ কোনো টাকা ব্যক্তিগতভাবে নেননি। এই অর্থ মোট ৪২টি প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে এবং ব্যক্তি হিসেবে তাদের সঙ্গে এই অর্থের কোনো সম্পর্ক নেই। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলেও তিনি খাতভিত্তিক ব্যয়ের বিবরণ সংযুক্ত করেছেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর মতে, রাজস্ব বরাদ্দ ও এডিপি বরাদ্দের পার্থক্য না বুঝে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘আর এ দেশে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করা খুবই সহজ।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে নগরবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

জেলা পরিষদ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ: এমপি হাসনাতের ব্যাখ্যা

আপডেট সময় : ১০:৩৭:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

কুমিল্লা জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করেছেন যে, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপদেষ্টা থাকাকালে জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা এবং সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ তার ফেসবুক পোস্টে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন, যেখানে তিনি অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া তার বক্তব্য পরিবর্তন করে বলেছেন যে, টাকা ব্যক্তি নয়, এলাকার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, মিডিয়ায় হয়তো পুরো বক্তব্য আসেনি। তিনি একটি অডিও ক্লিপও শেয়ার করেছেন, যেখানে জেলা পরিষদের প্রশাসককে বলতে শোনা যায়, ‘আমি তো বলি নাই, আপনি খাইছেন। কাজের জন্যই নিছেন। হয় তো মিডিয়ায় পুরোটা আসে নাই।’

হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন যে, জেলা পরিষদের প্রশাসক বিএনপির একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে বলেছেন, হাসনাত ও আসিফ জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব খাত থেকে ২৫ কোটি টাকা নিয়েছেন, যার মধ্যে তিনি ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন। তিনি বলেন, এই বক্তব্য শুনলে মনে হবে যেন টাকাগুলো তারা ব্যক্তিগতভাবে পকেটস্থ করেছেন।

সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ তার অভিযোগে দুটি ‘অসত্য তথ্য’ তুলে ধরেছেন। প্রথমত, তিনি বলেন যে এই বরাদ্দ জেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে দেওয়া হয়নি, বরং স্থানীয় সরকার বিভাগের এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে দেবিদ্বারের জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। এর সঙ্গে জেলা পরিষদের রাজস্ব খাতের কোনো সম্পর্ক নেই, তাই এটিকে রাজস্ব খাতের অর্থ বলে দাবি করা ‘স্পষ্ট মিথ্যাচার’। দ্বিতীয়ত, তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি বা আসিফ কোনো টাকা ব্যক্তিগতভাবে নেননি। এই অর্থ মোট ৪২টি প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে এবং ব্যক্তি হিসেবে তাদের সঙ্গে এই অর্থের কোনো সম্পর্ক নেই। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলেও তিনি খাতভিত্তিক ব্যয়ের বিবরণ সংযুক্ত করেছেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর মতে, রাজস্ব বরাদ্দ ও এডিপি বরাদ্দের পার্থক্য না বুঝে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘আর এ দেশে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করা খুবই সহজ।’