ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায় ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লেখা হয়েছিল’: অ্যাটর্নি জেনারেল

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায়টি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লেখা হয়েছিল।

বুধবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন থেকে সৃষ্ট আপিলের শুনানিকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল দাবি করেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায়টি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লেখা হয়েছিল।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতে ঘোষিত রায়টি সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক কোনো রকম রিভিউ না করে পরিবর্তন করেছেন, যা দণ্ডবিধির ২১৯ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এছাড়াও শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “আমরা গণতন্ত্র চাই, গণতন্ত্রের নামে কোনো লেবাস চাই না। ‘৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের ৩ বছর পর প্রথম আমাদের গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়।”

এদিকে, প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বিভাগ বেঞ্চে অষ্টম দিনের শুনানি শেষে আদালত আগামীকাল বৃহস্পতিবার আবার রাষ্ট্রপক্ষের শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

এর আগে, বিএনপির পক্ষে এই আপিলের শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। জামায়াতের পক্ষে শুনানি শেষ করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, এবং তার আগে পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে আপিল শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া।

প্রসঙ্গত, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। ২০১১ সালের ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনে করা সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করে। ঘোষিত রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপসহ কিছু বিষয়ে আনা পঞ্চদশ সংশোধনী আইনটি ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়।

এরপর ২০১১ সালের ৩ জুলাই এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক ও একজন ব্যক্তি আবেদন করেন। সেই রিভিউ আবেদন থেকে আপিল শুনানির জন্য গত ২৭ আগস্ট লিভ মঞ্জুর করা হয় এবং ২১ অক্টোবর আপিল শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছিল।

এদিকে, গত ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারাকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে সংস্কার না হলে রাজপথে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিরোধী দলের

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায় ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লেখা হয়েছিল’: অ্যাটর্নি জেনারেল

আপডেট সময় : ০৪:০২:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায়টি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লেখা হয়েছিল।

বুধবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন থেকে সৃষ্ট আপিলের শুনানিকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল দাবি করেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায়টি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লেখা হয়েছিল।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতে ঘোষিত রায়টি সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক কোনো রকম রিভিউ না করে পরিবর্তন করেছেন, যা দণ্ডবিধির ২১৯ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এছাড়াও শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “আমরা গণতন্ত্র চাই, গণতন্ত্রের নামে কোনো লেবাস চাই না। ‘৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের ৩ বছর পর প্রথম আমাদের গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়।”

এদিকে, প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বিভাগ বেঞ্চে অষ্টম দিনের শুনানি শেষে আদালত আগামীকাল বৃহস্পতিবার আবার রাষ্ট্রপক্ষের শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

এর আগে, বিএনপির পক্ষে এই আপিলের শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। জামায়াতের পক্ষে শুনানি শেষ করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, এবং তার আগে পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে আপিল শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া।

প্রসঙ্গত, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। ২০১১ সালের ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনে করা সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করে। ঘোষিত রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপসহ কিছু বিষয়ে আনা পঞ্চদশ সংশোধনী আইনটি ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়।

এরপর ২০১১ সালের ৩ জুলাই এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক ও একজন ব্যক্তি আবেদন করেন। সেই রিভিউ আবেদন থেকে আপিল শুনানির জন্য গত ২৭ আগস্ট লিভ মঞ্জুর করা হয় এবং ২১ অক্টোবর আপিল শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছিল।

এদিকে, গত ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারাকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন।