ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আওয়ামী লীগের ওপর নির্বাচন চাপিয়ে দেওয়া জুলুম হবে: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। তার মতে, আওয়ামী লীগ নিজেরাই নির্বাচন চায় না, তাই যে জিনিস তারা পছন্দ করে না, সেটি তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলে তা ‘জুলুম’ হবে। সুতরাং, তাদেরকে নির্বাচনে যুক্ত করার প্রশ্নই আসে না।

বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

জামায়াত আমির বলেন, গণভোট ছাড়া নির্বাচনের কোনো ভিত্তি হতে পারে না। তাই আমরা দাবি জানাচ্ছি, আগে গণভোটের আয়োজন করা হোক। এই গণভোটের মাধ্যমেই দেশের জনগণের মতামত সঠিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনো জোটে না গিয়ে বরং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কোনো জোট করছি না, বরং জনগণকেই সঙ্গে নিয়ে ভোটের ময়দানে নামবো। ইসলামী দলগুলোর পাশাপাশি দেশপ্রেমিক, প্রতিশ্রুতিশীল ও সৎ মানুষরাও আমাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। আমরা সবাইকে নিয়েই দেশ গড়তে চাই।”

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোট দিতে পারেনি। মানুষ এখন ভোট দিতে চায়, পরিবর্তন চায়। সুশাসনের পরিবর্তে দেশে এখন দুঃশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দুর্নীতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণ রাস্তায় নেমেছে।” তিনি জাতিকে আহ্বান জানান—দুর্নীতিকে ‘না’ বলুন। কেউ নিজে দুর্নীতি করবেন না, অন্যকেও করতে দেবেন না। তাহলেই আমাদের দেশ ইনশাআল্লাহ সুন্দর হবে।

প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কাছে এরই মধ্যে প্রস্তাব দিয়েছি যে, অতীতে যারা নির্বাচনে পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে, তাদের সরিয়ে দিতে হবে। কারণ জনগণ যখন জেগে ওঠে, তখন কোনো প্রশাসনিক প্রভাব টিকতে পারে না, জনগণের ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ভোটাররা ১৫ বছরের ক্ষুধার্ত বাঘের মতো, তারা এবার ভোটের অধিকার ফিরে পেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই ভোটের জোয়ারে কেউ দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।”

নির্বাচনের সময়সূচি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা ফেব্রুয়ারির নির্বাচন আদায় করে ছাড়বো। বেশি দেরি হলে বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে। তাই সময়মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াই শ্রেয়।”

তিনি আরও জানান, “জামায়াত এরই মধ্যে বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। তবে এটা চূড়ান্ত নয়। আমরা যেহেতু সবাইকে নিয়ে চলছি, তাই প্রয়োজন হলে প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে।”

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে সংস্কার না হলে রাজপথে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিরোধী দলের

আওয়ামী লীগের ওপর নির্বাচন চাপিয়ে দেওয়া জুলুম হবে: জামায়াত আমির

আপডেট সময় : ০৩:৪০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। তার মতে, আওয়ামী লীগ নিজেরাই নির্বাচন চায় না, তাই যে জিনিস তারা পছন্দ করে না, সেটি তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলে তা ‘জুলুম’ হবে। সুতরাং, তাদেরকে নির্বাচনে যুক্ত করার প্রশ্নই আসে না।

বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

জামায়াত আমির বলেন, গণভোট ছাড়া নির্বাচনের কোনো ভিত্তি হতে পারে না। তাই আমরা দাবি জানাচ্ছি, আগে গণভোটের আয়োজন করা হোক। এই গণভোটের মাধ্যমেই দেশের জনগণের মতামত সঠিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনো জোটে না গিয়ে বরং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কোনো জোট করছি না, বরং জনগণকেই সঙ্গে নিয়ে ভোটের ময়দানে নামবো। ইসলামী দলগুলোর পাশাপাশি দেশপ্রেমিক, প্রতিশ্রুতিশীল ও সৎ মানুষরাও আমাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। আমরা সবাইকে নিয়েই দেশ গড়তে চাই।”

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোট দিতে পারেনি। মানুষ এখন ভোট দিতে চায়, পরিবর্তন চায়। সুশাসনের পরিবর্তে দেশে এখন দুঃশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দুর্নীতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণ রাস্তায় নেমেছে।” তিনি জাতিকে আহ্বান জানান—দুর্নীতিকে ‘না’ বলুন। কেউ নিজে দুর্নীতি করবেন না, অন্যকেও করতে দেবেন না। তাহলেই আমাদের দেশ ইনশাআল্লাহ সুন্দর হবে।

প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কাছে এরই মধ্যে প্রস্তাব দিয়েছি যে, অতীতে যারা নির্বাচনে পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে, তাদের সরিয়ে দিতে হবে। কারণ জনগণ যখন জেগে ওঠে, তখন কোনো প্রশাসনিক প্রভাব টিকতে পারে না, জনগণের ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ভোটাররা ১৫ বছরের ক্ষুধার্ত বাঘের মতো, তারা এবার ভোটের অধিকার ফিরে পেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই ভোটের জোয়ারে কেউ দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।”

নির্বাচনের সময়সূচি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা ফেব্রুয়ারির নির্বাচন আদায় করে ছাড়বো। বেশি দেরি হলে বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে। তাই সময়মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াই শ্রেয়।”

তিনি আরও জানান, “জামায়াত এরই মধ্যে বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। তবে এটা চূড়ান্ত নয়। আমরা যেহেতু সবাইকে নিয়ে চলছি, তাই প্রয়োজন হলে প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে।”