ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

‘শাপলা’ প্রতীক কোন আইনে বাদ দেওয়া হলো? ইসিকে স্পষ্ট করার দাবি এনসিপির

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে জানতে চেয়েছে যে, কোন আইনের ভিত্তিতে ‘শাপলা’, ‘সাদা শাপলা’ বা ‘লাল শাপলা’ প্রতীককে বর্তমান প্রতীক তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। শাপলা প্রতীক না দেওয়ার ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে এবং এই বিষয়ে দাবি জানাতে রবিবার (১৯ অক্টোবর) এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল ইসিতে গিয়ে লিখিত জবাব দাখিল করে।

লিখিত জবাবে বলা হয়, গত ২২ জুন এনসিপি রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে এবং দলের অনুকূলে ‘শাপলা’ প্রতীক সংরক্ষণের জন্য অনুরোধ জানায়। এই আবেদন দাখিলের আগে ও পরেও এনসিপির প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছে, চিঠি দিয়েছে এবং শাপলা প্রতীকের ব্যাপারে তাদের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছে। কিন্তু এনসিপির দরখাস্তসমূহ অনিষ্পন্ন অবস্থায় রেখে ইসি বিধিবহির্ভূতভাবে চিঠি প্রেরণ করে এনসিপিকে তাদের প্রার্থিত প্রতীকের বাইরে গিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত, স্বেচ্ছাচারী এবং বেআইনি।

নির্বাচন কমিশনের আইনগত দায়িত্ব সম্পর্কে এনসিপি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানায়: ১. প্রতীক বাদ দেওয়ার মানদণ্ড প্রকাশ: নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে জানাতে হবে কোন নীতিমালা, নির্দেশিকা বা মানদণ্ডের ভিত্তিতে ‘শাপলা’, ‘সাদা শাপলা’ বা ‘লাল শাপলা’ প্রতীকটি তালিকাভুক্ত প্রতীকের বাইরে রাখা হয়েছে। যদি এ বিষয়ে কোনো নীতিমালা থাকে, তবে তা প্রকাশ করে সকল দলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য করা আবশ্যক। ২. বিধি ৭(২) ও ফরম-২ অনুসরণ: নির্বাচন কমিশন যদি ‘রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮’-এর বিধান অনুযায়ী দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের উদ্যোগ নেয়, সেক্ষেত্রে অবশ্যই এনসিপির প্রার্থিত প্রতীক ১. শাপলা, ২. সাদা শাপলা এবং ৩. লাল শাপলা থেকে যেকোনো একটি প্রতীকের নাম উল্লেখ করতে হবে।

এনসিপির মূল দাবিগুলো হলো— প্রতীক অন্তর্ভুক্তি বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশনের বিদ্যমান নীতিমালা বা মানদণ্ড কী, এবং কোনো আইনি ভিত্তিতে ‘শাপলা’, ‘সাদা শাপলা’ বা ‘লাল শাপলা’ প্রতীককে বর্তমান তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা পরিষ্কার করতে হবে। যদি এমন কোনো মানদণ্ড এখনো প্রণয়ন না হয়ে থাকে, তবে ইসিকে তা অবিলম্বে প্রণয়ন ও প্রকাশ করে সকল রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রয়োগ করতে হবে। একই সাথে, নির্বাচন কমিশনকে ২০০৮ সালের বিধিমালার ফরম-২ অনুসারে এনসিপির প্রার্থিত প্রতীকের নাম উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে এবং প্রতীক বরাদ্দের বিষয়ে যুক্তিসঙ্গত, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে তাদের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা প্রদর্শন করতে হবে।

এনসিপির জবাবে আরও বলা হয়, গণমানুষের সাথে শাপলা প্রতীককেন্দ্রিক এনসিপির যে গভীর আত্মিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে, দেশের মানুষের সেই ভালোবাসাকে উপেক্ষা করার শক্তি তাদের নেই। ফলশ্রুতিতে শাপলা ব্যতীত নির্বাচন কমিশনের স্বেচ্ছাচারী আচরণের মাধ্যমে প্রেরিত ১৩ অক্টোবরের হুমকিমূলক চিঠির প্রেক্ষিতে বেঁধে দেওয়া তালিকা থেকে অন্য কোনো প্রতীক পছন্দ করা এনসিপির জন্য সম্ভবপর নয়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

‘শাপলা’ প্রতীক কোন আইনে বাদ দেওয়া হলো? ইসিকে স্পষ্ট করার দাবি এনসিপির

আপডেট সময় : ০৩:০৮:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে জানতে চেয়েছে যে, কোন আইনের ভিত্তিতে ‘শাপলা’, ‘সাদা শাপলা’ বা ‘লাল শাপলা’ প্রতীককে বর্তমান প্রতীক তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। শাপলা প্রতীক না দেওয়ার ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে এবং এই বিষয়ে দাবি জানাতে রবিবার (১৯ অক্টোবর) এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল ইসিতে গিয়ে লিখিত জবাব দাখিল করে।

লিখিত জবাবে বলা হয়, গত ২২ জুন এনসিপি রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে এবং দলের অনুকূলে ‘শাপলা’ প্রতীক সংরক্ষণের জন্য অনুরোধ জানায়। এই আবেদন দাখিলের আগে ও পরেও এনসিপির প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছে, চিঠি দিয়েছে এবং শাপলা প্রতীকের ব্যাপারে তাদের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছে। কিন্তু এনসিপির দরখাস্তসমূহ অনিষ্পন্ন অবস্থায় রেখে ইসি বিধিবহির্ভূতভাবে চিঠি প্রেরণ করে এনসিপিকে তাদের প্রার্থিত প্রতীকের বাইরে গিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত, স্বেচ্ছাচারী এবং বেআইনি।

নির্বাচন কমিশনের আইনগত দায়িত্ব সম্পর্কে এনসিপি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানায়: ১. প্রতীক বাদ দেওয়ার মানদণ্ড প্রকাশ: নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে জানাতে হবে কোন নীতিমালা, নির্দেশিকা বা মানদণ্ডের ভিত্তিতে ‘শাপলা’, ‘সাদা শাপলা’ বা ‘লাল শাপলা’ প্রতীকটি তালিকাভুক্ত প্রতীকের বাইরে রাখা হয়েছে। যদি এ বিষয়ে কোনো নীতিমালা থাকে, তবে তা প্রকাশ করে সকল দলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য করা আবশ্যক। ২. বিধি ৭(২) ও ফরম-২ অনুসরণ: নির্বাচন কমিশন যদি ‘রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮’-এর বিধান অনুযায়ী দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের উদ্যোগ নেয়, সেক্ষেত্রে অবশ্যই এনসিপির প্রার্থিত প্রতীক ১. শাপলা, ২. সাদা শাপলা এবং ৩. লাল শাপলা থেকে যেকোনো একটি প্রতীকের নাম উল্লেখ করতে হবে।

এনসিপির মূল দাবিগুলো হলো— প্রতীক অন্তর্ভুক্তি বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশনের বিদ্যমান নীতিমালা বা মানদণ্ড কী, এবং কোনো আইনি ভিত্তিতে ‘শাপলা’, ‘সাদা শাপলা’ বা ‘লাল শাপলা’ প্রতীককে বর্তমান তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা পরিষ্কার করতে হবে। যদি এমন কোনো মানদণ্ড এখনো প্রণয়ন না হয়ে থাকে, তবে ইসিকে তা অবিলম্বে প্রণয়ন ও প্রকাশ করে সকল রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রয়োগ করতে হবে। একই সাথে, নির্বাচন কমিশনকে ২০০৮ সালের বিধিমালার ফরম-২ অনুসারে এনসিপির প্রার্থিত প্রতীকের নাম উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে এবং প্রতীক বরাদ্দের বিষয়ে যুক্তিসঙ্গত, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে তাদের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা প্রদর্শন করতে হবে।

এনসিপির জবাবে আরও বলা হয়, গণমানুষের সাথে শাপলা প্রতীককেন্দ্রিক এনসিপির যে গভীর আত্মিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে, দেশের মানুষের সেই ভালোবাসাকে উপেক্ষা করার শক্তি তাদের নেই। ফলশ্রুতিতে শাপলা ব্যতীত নির্বাচন কমিশনের স্বেচ্ছাচারী আচরণের মাধ্যমে প্রেরিত ১৩ অক্টোবরের হুমকিমূলক চিঠির প্রেক্ষিতে বেঁধে দেওয়া তালিকা থেকে অন্য কোনো প্রতীক পছন্দ করা এনসিপির জন্য সম্ভবপর নয়।