ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

‘সব দলই ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চায়, তাহলে সংশয় থাকবে কেন?’: সালাহউদ্দিন আহমদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ প্রশ্ন তুলেছেন যে, “এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল কি বলেছে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চায় না? জানা থাকলে বলুন। সবাই বলেছে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতে হবে। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন চাই। যদি তাই হয়, তাহলে সংশয় থাকবে কেন?” রবিবার (১৯ অক্টোবর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, সম্প্রতি একটি দল (এনসিপি) তার বক্তব্য আংশিকভাবে কেটে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কিছু দল পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতির দাবিতে আন্দোলন করছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চারই অংশ এবং এই গণতান্ত্রিক চর্চার জন্যই তারা জীবন দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তার একটি বক্তব্য নিয়ে সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলা হয় এবং তাকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তিনি এটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এভাবেই রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক চর্চা হওয়া উচিত এবং তারা যথেষ্ট সম্মানের সাথেই কথাগুলো বলেছেন।

জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে সংঘর্ষের ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি যা বলেছিলেন তা পরিষ্কার করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই যোদ্ধা নামে একটি সংগঠন তাদের (বিএনপি) এবং ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছিল। তাদের একটি যৌক্তিক দাবি ছিল এবং সেই দাবি পূরণের জন্য তিনি নিজেও স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন ও কথা বলেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ বিষয়টি সঠিকভাবে অ্যাড্রেস করেছেন ও সংশোধন করেছেন, তাই তাদের (জুলাই যোদ্ধাদের) অসন্তোষ থাকার কথা নয়। তিনি আরও বলেন, বিশৃঙ্খলার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে যে, “এখানে জুলাই যোদ্ধাদের নামে কিছু সংখ্যক ছাত্র নামধারী, কিছু উশৃঙ্খল লোক ঢুকেছে, সেটা ফ্যাসিস্ট সরকারের ফ্যাসিস্ট বাহিনী বলে আমি মনে করি এবং আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বাহিনী যে এখনো সমস্ত জায়গায় বিভিন্ন ফাঁক-ফোকরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, সেটা দৃশ্যমান হয়েছে।”

সালাহউদ্দিন আহমদের সুস্পষ্ট বক্তব্য ছিল, “এখানে কোনো জুলাই যোদ্ধা সঠিক কোনো জুলাই অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত কোনো সংগঠন অথবা কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে না।” তিনি দাবি করেন, এই কথার মধ্য দিয়ে প্রকৃতপক্ষে তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, সংগঠন ও শক্তিদের সম্মানিত করার চেষ্টা করেছেন, যাতে কোনোক্রমে কেউ যেন এই সমস্ত উশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের জন্য জুলাই যোদ্ধাদের অভিযুক্ত করতে না পারে এবং তাদের সম্মানহানি না হয়। তিনি মনে করেন না যে, তার বক্তব্যে বিকৃত করা হয়েছে। তবে তার আংশিক বক্তব্যটা কেটে (এনসিপি) কথা বলেছে বলে তিনি ধারণা করেন। তিনি বলেন, তিনি তার বক্তব্যের শেষ লাইনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন যে, “ওখানে কোনো জুলাই যোদ্ধা সঠিক কোনো জুলাই অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত কোনো সংগঠন অথবা ব্যক্তি ওই বিশৃঙ্খল ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে না। জড়িত থাকতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি না।”

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

‘সব দলই ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চায়, তাহলে সংশয় থাকবে কেন?’: সালাহউদ্দিন আহমদ

আপডেট সময় : ০৩:০৫:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ প্রশ্ন তুলেছেন যে, “এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল কি বলেছে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চায় না? জানা থাকলে বলুন। সবাই বলেছে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতে হবে। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন চাই। যদি তাই হয়, তাহলে সংশয় থাকবে কেন?” রবিবার (১৯ অক্টোবর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, সম্প্রতি একটি দল (এনসিপি) তার বক্তব্য আংশিকভাবে কেটে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কিছু দল পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতির দাবিতে আন্দোলন করছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চারই অংশ এবং এই গণতান্ত্রিক চর্চার জন্যই তারা জীবন দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তার একটি বক্তব্য নিয়ে সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলা হয় এবং তাকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তিনি এটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এভাবেই রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক চর্চা হওয়া উচিত এবং তারা যথেষ্ট সম্মানের সাথেই কথাগুলো বলেছেন।

জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে সংঘর্ষের ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি যা বলেছিলেন তা পরিষ্কার করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই যোদ্ধা নামে একটি সংগঠন তাদের (বিএনপি) এবং ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছিল। তাদের একটি যৌক্তিক দাবি ছিল এবং সেই দাবি পূরণের জন্য তিনি নিজেও স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন ও কথা বলেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ বিষয়টি সঠিকভাবে অ্যাড্রেস করেছেন ও সংশোধন করেছেন, তাই তাদের (জুলাই যোদ্ধাদের) অসন্তোষ থাকার কথা নয়। তিনি আরও বলেন, বিশৃঙ্খলার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে যে, “এখানে জুলাই যোদ্ধাদের নামে কিছু সংখ্যক ছাত্র নামধারী, কিছু উশৃঙ্খল লোক ঢুকেছে, সেটা ফ্যাসিস্ট সরকারের ফ্যাসিস্ট বাহিনী বলে আমি মনে করি এবং আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বাহিনী যে এখনো সমস্ত জায়গায় বিভিন্ন ফাঁক-ফোকরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, সেটা দৃশ্যমান হয়েছে।”

সালাহউদ্দিন আহমদের সুস্পষ্ট বক্তব্য ছিল, “এখানে কোনো জুলাই যোদ্ধা সঠিক কোনো জুলাই অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত কোনো সংগঠন অথবা কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে না।” তিনি দাবি করেন, এই কথার মধ্য দিয়ে প্রকৃতপক্ষে তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, সংগঠন ও শক্তিদের সম্মানিত করার চেষ্টা করেছেন, যাতে কোনোক্রমে কেউ যেন এই সমস্ত উশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের জন্য জুলাই যোদ্ধাদের অভিযুক্ত করতে না পারে এবং তাদের সম্মানহানি না হয়। তিনি মনে করেন না যে, তার বক্তব্যে বিকৃত করা হয়েছে। তবে তার আংশিক বক্তব্যটা কেটে (এনসিপি) কথা বলেছে বলে তিনি ধারণা করেন। তিনি বলেন, তিনি তার বক্তব্যের শেষ লাইনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন যে, “ওখানে কোনো জুলাই যোদ্ধা সঠিক কোনো জুলাই অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত কোনো সংগঠন অথবা ব্যক্তি ওই বিশৃঙ্খল ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে না। জড়িত থাকতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি না।”