ঢাকা ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

‘গণতন্ত্র ধ্বংস করে আর কোনো শক্তি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবে না’: জয়নুল আবদিন ফারুক

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছেন, “আপনি দেশে গণহত্যা চালাবেন, গণতন্ত্র ধ্বংস করবেন, আর ভারতীয় সমর্থনের ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করবেন; আবার দেশে আসতে চাইবেন, তা হবে না। আল্লাহর কসম, এমন কোনো শক্তি নেই যা শেখ হাসিনাকে আবার বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে পারবে।” পবিত্র কুরআন অবমাননা এবং জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে রবিবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ফারুক এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “আমি এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে ‘আমার ভোট আমি দেব’—এই মৌলিক অধিকারটি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। শেখ হাসিনা মোদীর (ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী) আশ্রয়ে আবার দেশে ফিরে এসে ফ্যাসিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠা করুক, তা কখনোই হতে দেওয়া হবে না।” ফারুক অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ এখন ভারতের হাতের ক্রীড়নক হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “তারা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ নয়, বরং পার্শ্ববর্তী দেশের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত। তিস্তা নদীতে আমরা পানি পাই না, ফারাক্কা বাঁধ সময়মতো খোলে না, ফেলানির লাশ সীমান্তে ঝুলে থাকে—তারপরও তারা বলে, মোদী আমাদের বন্ধু। মোদি কখনো বাংলাদেশের বন্ধু হতে পারে না।”

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় যারা আমাদের স্বাধীনতার জন্য লড়েছিলেন, আজ তাদের অনেককেই রাজাকার বলা হচ্ছে। তিনি মেজর জলিল ও সিরাজ শিকদারের মতো ব্যক্তিদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং বলেন যে, আজ তাদের নাম বিকৃত করা হচ্ছে। ফারুক সমালোচনা করে বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পরও জনগণকে শান্তিতে থাকতে দেননি, সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং হেলিকপ্টারে করে ভোটের বাক্স এনে ফল পরিবর্তন করা হতো। তিনি অভিযোগ করেন, আজ শেখ হাসিনা সেই একই পথ অনুসরণ করছেন। তিনি বলেন, ‘বাবা বাবা’ বলে সারাদেশে মূর্তি গড়ে তুলেছেন, অথচ মানুষের অধিকার হরণ করেছেন।

জয়নুল আবদিন ফারুক জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এখন আর বিভক্ত থাকার সময় নয়। একসঙ্গে দাঁড়ান। যারা শেখ হাসিনার স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়ছে, তারা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, ইনশাআল্লাহ হাসিনা আর কখনো ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। আমার ভোট আমি দেব, মৃত মানুষ আর কখনো ভোট দেবে না। আসুন সবাই মিলে মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিই।” অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশে বিরোধীদলের সাবেক চিফ হুইপ ফারুক বলেন, “প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্য আমি শুনেছি—আমি তার জন্য দোয়া করি, আপনার কথাটা যেন ঠিক থাকে। ফেব্রুয়ারি মাসে যেন নির্বাচন হয়।” আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক হাফেজ মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামালসহ অন্যান্য নেতারা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পহেলা বৈশাখে নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী: ১৪ স্থানে ব্যারিকেড ও কঠোর বিধিনিষেধ

‘গণতন্ত্র ধ্বংস করে আর কোনো শক্তি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবে না’: জয়নুল আবদিন ফারুক

আপডেট সময় : ০২:৫১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছেন, “আপনি দেশে গণহত্যা চালাবেন, গণতন্ত্র ধ্বংস করবেন, আর ভারতীয় সমর্থনের ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করবেন; আবার দেশে আসতে চাইবেন, তা হবে না। আল্লাহর কসম, এমন কোনো শক্তি নেই যা শেখ হাসিনাকে আবার বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে পারবে।” পবিত্র কুরআন অবমাননা এবং জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে রবিবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ফারুক এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “আমি এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে ‘আমার ভোট আমি দেব’—এই মৌলিক অধিকারটি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। শেখ হাসিনা মোদীর (ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী) আশ্রয়ে আবার দেশে ফিরে এসে ফ্যাসিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠা করুক, তা কখনোই হতে দেওয়া হবে না।” ফারুক অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ এখন ভারতের হাতের ক্রীড়নক হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “তারা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ নয়, বরং পার্শ্ববর্তী দেশের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত। তিস্তা নদীতে আমরা পানি পাই না, ফারাক্কা বাঁধ সময়মতো খোলে না, ফেলানির লাশ সীমান্তে ঝুলে থাকে—তারপরও তারা বলে, মোদী আমাদের বন্ধু। মোদি কখনো বাংলাদেশের বন্ধু হতে পারে না।”

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় যারা আমাদের স্বাধীনতার জন্য লড়েছিলেন, আজ তাদের অনেককেই রাজাকার বলা হচ্ছে। তিনি মেজর জলিল ও সিরাজ শিকদারের মতো ব্যক্তিদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং বলেন যে, আজ তাদের নাম বিকৃত করা হচ্ছে। ফারুক সমালোচনা করে বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পরও জনগণকে শান্তিতে থাকতে দেননি, সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং হেলিকপ্টারে করে ভোটের বাক্স এনে ফল পরিবর্তন করা হতো। তিনি অভিযোগ করেন, আজ শেখ হাসিনা সেই একই পথ অনুসরণ করছেন। তিনি বলেন, ‘বাবা বাবা’ বলে সারাদেশে মূর্তি গড়ে তুলেছেন, অথচ মানুষের অধিকার হরণ করেছেন।

জয়নুল আবদিন ফারুক জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এখন আর বিভক্ত থাকার সময় নয়। একসঙ্গে দাঁড়ান। যারা শেখ হাসিনার স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়ছে, তারা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, ইনশাআল্লাহ হাসিনা আর কখনো ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। আমার ভোট আমি দেব, মৃত মানুষ আর কখনো ভোট দেবে না। আসুন সবাই মিলে মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিই।” অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশে বিরোধীদলের সাবেক চিফ হুইপ ফারুক বলেন, “প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্য আমি শুনেছি—আমি তার জন্য দোয়া করি, আপনার কথাটা যেন ঠিক থাকে। ফেব্রুয়ারি মাসে যেন নির্বাচন হয়।” আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক হাফেজ মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামালসহ অন্যান্য নেতারা।