আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিশ্চিত করার ম্যাচে দারুণ পারফর্ম করেছেন পেসার শরিফুল ইসলাম। বল হাতে কৃপণ বোলিং করে এক উইকেট শিকারের পর, ব্যাট হাতেও চাপের মুখে দুটো বাউন্ডারি মেরে দলকে জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। এমন পারফরম্যান্সের সুবাদেই শারজাতে (৩ অক্টোবর) সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন শরিফুল।
আর এর ঠিক পরদিনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক দারুণ মানবিক উদ্যোগের কথা ঘোষণা করলেন এই টাইগার পেসার। পঞ্চগড়ের মফস্বল এলাকায় জন্ম নেওয়া শরিফুল তার নিজ অঞ্চলের অসহায় মানুষদের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এখন থেকে তিনি যখনই আন্তর্জাতিক বা ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতবেন, সেই অর্থের পুরোটাই দান করবেন এলাকার অসহায় মানুষদের জন্য।
শরিফুল তার পোস্টে লেখেন: “আলহামদুলিল্লাহ। ১ ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয়। দলের দারুণ প্রচেষ্টার জন্য সবাইকে অভিনন্দন। আজ থেকে আমি একটা ছোট উদ্যোগ নিচ্ছি—আমি আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ম্যাচে যতবার ম্যান অব দ্য ম্যাচ হব, প্রতিবারই সেই পুরস্কারের অর্থ আমার এলাকার অসহায় মানুষদের মাঝে সহযোগিতা হিসেবে বিতরণ করব, ইনশাআল্লাহ। দোয়া করবেন যেন আল্লাহ আমাকে এই কাজটা নিয়মিতভাবে করার তৌফিক দেন।”
আফগানদের বিপক্ষে ২ উইকেটের জয়ে ম্যাচসেরা হয়ে তিনি পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন ৫০ হাজার আফগানি রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৮৯ হাজার টাকা। এই পুরো টাকাই তিনি দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে এবারই প্রথম নয়, এর আগেও নিজের জন্মস্থান পঞ্চগড় নিয়ে শরিফুলের ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে। এলাকায় মাদকের দৌরাত্ম্য নিয়ে সরব হয়েছিলেন তিনি, এমনকি সেখানে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল তৈরিরও দাবি জানিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে শরিফুল খেলেননি। দ্বিতীয় ম্যাচে সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করেন তিনি। বল হাতে ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান খরচ করে গুরুত্বপূর্ণ রহমানউল্লাহ গুরবাজের উইকেট নেন। এরপর যখন ৮ উইকেট হারিয়ে দল হারের শঙ্কায় ছিল, তখন নুরুল হাসান সোহানকে ভরসা জুগিয়ে ব্যাট হাতে দলকে উদ্ধার করেন। বিশেষ করে ১৯তম ওভারের শেষ দুই বলে বাউন্ডারি ও সিঙ্গেল এবং শেষ ওভারের প্রথম বলে চার মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
রোববার (৫ অক্টোবর) আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশের মিশনে নামবে বাংলাদেশ। দেখার বিষয়, তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে শরিফুল সুযোগ পান নাকি তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়।
রিপোর্টারের নাম 






















