মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানী কুয়ালালামপুরের চেরাস এলাকার তামান মালুরি নৈশ বাজারে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এই বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশিসহ সাতটি দেশের মোট দুইশত জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে রাজধানীর অন্যান্য নৈশ বাজার এবং বিদেশিদের সমাগমস্থলে এই ধরনের সাঁড়াশি অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
রোববার সন্ধ্যায় পরিচালিত এই অভিযানে অভিবাসন বিভাগের সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়েই বাজারে উপস্থিত মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। সন্দেহভাজন অনেক অভিবাসী বিভিন্ন দিকে ছুটে পালানোর চেষ্টা করলেও আগে থেকেই কৌশলগতভাবে অবস্থান নেওয়া কর্মকর্তারা তাদের সহজেই আটক করতে সক্ষম হন। গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী আটক হওয়া এসব বিদেশিদের বেশিরভাগই মূলত স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কাঁচাবাজার মাছ মাংস এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনতে সেখানে এসেছিলেন। প্রতিদিনের মতো ওইদিন সন্ধ্যায়ও বাজারটিতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি শ্রমিক এবং অভিবাসীর উপস্থিতি ছিল।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে যে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং টানা দুই সপ্তাহের নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে অপ কুটিপ নামের এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। কুয়ালালামপুর ও পুত্রাজায়ার অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তারা কুয়ালালামপুর সিটি হলের সহযোগিতায় এই যৌথ অভিযান চালান। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বাজারের মূল প্রবেশপথগুলো ঘিরে ফেলা হয় এবং একই সময়ে সাধারণ ক্রেতার ছদ্মবেশে থাকা কর্মকর্তারা আকস্মিক অভিযান শুরু করেন যার ফলে অনেকের পক্ষেই সেখান থেকে পালানো সম্ভব হয়নি।
কুয়ালালামপুর অভিবাসন বিভাগের পরিচালক হামশা ইনজাউ জানান যে এই অভিযানে মোট পাঁচশত জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয় যার মধ্যে চারশত সাতজন বিদেশি এবং তিরানব্বই জন মালয়েশিয়ার নাগরিক ছিলেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে আটক হওয়া দুইশত জনের মধ্যে একশত পঁচিশ জন পুরুষ এবং পঁচাত্তর জন নারী রয়েছেন। আটককৃত ব্যক্তিরা বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়া মিয়ানমার ভিয়েতনাম চীন পাকিস্তান ও ভারতের নাগরিক। মূলত ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে।
কুয়ালালামপুর সিটি হলের এনফোর্সমেন্ট পরিচালক মোহদ মুজ্জামের জামালউদ্দিন জানিয়েছেন যে আটককৃত বিদেশিরা ওই বাজারে কেবল ক্রেতা হিসেবেই এসেছিলেন এবং স্থানীয় ব্যবসা পরিচালনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযান শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হামশা ইনজাউ স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছেন যে শুধু অবৈধ অভিবাসী নয় বরং তাদের নিয়োগদাতা ও আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধেও এখন থেকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনের শাসন নিশ্চিত করতে পেশাদারত্ব ও স্বচ্ছতার সাথে এই অভিযান চলবে জানিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার বিশেষ আহ্বান জানান।
রিপোর্টারের নাম 

























