ঢাকা ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

প্রবাসী আয়ে রেকর্ড, রপ্তানিতে বাড়ছে দুশ্চিন্তা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৯:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় স্বস্তি মিললেও পণ্য রপ্তানিতে উদ্বেগ বেড়েছে। রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্সে দেশের রিজার্ভ শক্তিশালী হলেও বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় রপ্তানি খাত চাপে পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরের ২৭ জুন পর্যন্ত দেশে ৩৫ দশমিক ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। গত অর্থবছরের তুলনায় এই আয় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত টানা ছয় মাস প্রতি মাসেই ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।

প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে। বর্তমানে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ বেড়ে হয়েছে ৩১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরগতি থাকায় আমদানি কম হওয়াও রিজার্ভ বাড়ার একটি কারণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, হুন্ডির ব্যবহার কমে যাওয়া, বৈধ ও অবৈধ বাজারে ডলারের দামের ব্যবধান কমে আসা এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠানো সহজ হওয়ায় প্রবাসী আয় বেড়েছে। এই ধারা ধরে রাখতে নতুন শ্রমবাজার খোঁজা এবং দক্ষ কর্মী পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

অন্যদিকে পণ্য রপ্তানিতে দেখা দিয়েছে মন্দাভাব। অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) রপ্তানি হয়েছে ৪ হাজার ৩৮০ কোটি ডলারের পণ্য, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় আড়াই শতাংশ কম।

রপ্তানিকারকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বাংলাদেশের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে তৈরি পোশাক খাতে অর্ডার কমে যাওয়ার পাশাপাশি কিছু কারখানা বন্ধ এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনাও ঘটছে।

বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, বিশ্ববাজারে মন্দাভাবের পাশাপাশি ইউরোপে চীনের আগ্রাসী বিপণনের কারণে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় চাপের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিত কৌশল, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং পণ্যে বৈচিত্র্য আনার ওপর জোর দেন তিনি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকট কমে এলে প্রবাসী আয় আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পেলে রপ্তানি খাতও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

রাখাইনে ফের বিমান হামলা, কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত

প্রবাসী আয়ে রেকর্ড, রপ্তানিতে বাড়ছে দুশ্চিন্তা

আপডেট সময় : ১২:২৯:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় স্বস্তি মিললেও পণ্য রপ্তানিতে উদ্বেগ বেড়েছে। রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্সে দেশের রিজার্ভ শক্তিশালী হলেও বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় রপ্তানি খাত চাপে পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরের ২৭ জুন পর্যন্ত দেশে ৩৫ দশমিক ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। গত অর্থবছরের তুলনায় এই আয় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত টানা ছয় মাস প্রতি মাসেই ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।

প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে। বর্তমানে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ বেড়ে হয়েছে ৩১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরগতি থাকায় আমদানি কম হওয়াও রিজার্ভ বাড়ার একটি কারণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, হুন্ডির ব্যবহার কমে যাওয়া, বৈধ ও অবৈধ বাজারে ডলারের দামের ব্যবধান কমে আসা এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠানো সহজ হওয়ায় প্রবাসী আয় বেড়েছে। এই ধারা ধরে রাখতে নতুন শ্রমবাজার খোঁজা এবং দক্ষ কর্মী পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

অন্যদিকে পণ্য রপ্তানিতে দেখা দিয়েছে মন্দাভাব। অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) রপ্তানি হয়েছে ৪ হাজার ৩৮০ কোটি ডলারের পণ্য, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় আড়াই শতাংশ কম।

রপ্তানিকারকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বাংলাদেশের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে তৈরি পোশাক খাতে অর্ডার কমে যাওয়ার পাশাপাশি কিছু কারখানা বন্ধ এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনাও ঘটছে।

বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, বিশ্ববাজারে মন্দাভাবের পাশাপাশি ইউরোপে চীনের আগ্রাসী বিপণনের কারণে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় চাপের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিত কৌশল, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং পণ্যে বৈচিত্র্য আনার ওপর জোর দেন তিনি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকট কমে এলে প্রবাসী আয় আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পেলে রপ্তানি খাতও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।