চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যভর্তি ২৫০টি কনটেইনার রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকির আশঙ্কায় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস এসব কনটেইনার খালাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ‘এসাইকোডা ওয়ার্ল্ড’ সিস্টেমে লক করে দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে বন্দরের ইয়ার্ডে এসব কনটেইনারের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনাকে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাস্টমসের ডিজিটাল সিস্টেমের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বন্দরের কঠোর নিরাপত্তা বলয় ভেঙে এসব কনটেইনার বের করে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ কনটেইনারগুলোর অবস্থান জানতে চেয়ে গত সাত মাসে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে পাঁচবার চিঠি দিয়েছে কাস্টম হাউস। তবে এখন পর্যন্ত একটি চিঠিরও জবাব মেলেনি। ফলে ওই কনটেইনারগুলোতে আসলে কী পণ্য ছিল এবং সেগুলো কোথায় গেল, তা নিয়ে গভীর রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।
নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে আমদানিকৃত পাঁচ শতাধিক কনটেইনারের ওপর খালাসে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল কাস্টমস। এর মধ্যে কিছু নিলাম হয়েছে এবং কিছু খালাস হয়েছে। তবে ২৫০টি কনটেইনারের বিপরীতে কোনো বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয়নি। সম্প্রতি নিলাম হওয়া দুটি কনটেইনারের পণ্য সরবরাহ নিতে গিয়ে দেখা যায়, ইয়ার্ডে সেগুলো নেই। এরপরই পুরো বিষয়টি সামনে আসে এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নিখোঁজ কনটেইনারগুলোর মধ্যে ২০২১ সালের ৮৩টি, ২০২২ সালের ৬১টি, ২০২৩ সালের ৪০টি এবং ২০২৪ সালের ৬৬টি কনটেইনার রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, চোরাচালান চক্র বন্দর কর্তৃপক্ষের নজরদারি এড়িয়ে বছরের পর বছর ধরে এই জালিয়াতি চালিয়ে আসছে। এই ঘটনায় বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















