ঢাকা ১২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

সিরাজগঞ্জে বস্তা ও পতিত জমিতে আদা চাষে কৃষকদের অভাবনীয় সাফল্য

সিরাজগঞ্জ জেলায় অল্প খরচে এবং অধিক লাভের আশায় কৃষকদের মধ্যে আদা চাষের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি স্থানীয় চাষিরা এখন তাদের বাড়ির চারপাশের ছায়াযুক্ত জায়গা এবং পতিত জমি এমনকি বাড়ির ছাদেও বড় বড় বস্তায় আদা চাষ করছেন। এই পদ্ধতিতে আবাদ করার ফলে উৎপাদন খরচ যেমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে তেমনি বাজারে সারা বছর আদার ভালো দাম থাকায় কৃষকেরা আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জ জেলায় মোট ১৭২ হেক্টর জমিতে আদা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে মূল চাষযোগ্য জমির বাইরেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছায়াযুক্ত স্থানে এবং বাড়ির ছাদে প্রায় একষট্টি হাজার দুইশত বড় বস্তায় আদা চাষ করা হয়েছে। জেলার সদর এবং কাজিপুর ও চৌহালীসহ শাহজাদপুর এবং উল্লাপাড়া ও কামারখন্দসহ মোট নয়টি উপজেলাতেই আদা চাষের পরিধি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

সদর উপজেলার চাষি বাসেদ সরকার জানান যে তিনি আগে কেবল ধান ও সবজি চাষ করতেন। তবে কৃষি অফিসের পরামর্শে এবারই প্রথম বস্তায় আদা চাষ শুরু করেছেন। এতে তার খুব একটা খরচ হয়নি এবং গাছের বৃদ্ধিও বেশ ভালো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বাজারের দাম ঠিক থাকলে এবার ভালো লাভ হবে এবং আগামী বছর তিনি আরও বড় পরিসরে এই চাষ করবেন। অন্যদিকে শাহজাদপুর উপজেলার কৃষক মো সাইদুল ইসলাম জানান যে বাড়ির পাশের ছায়াযুক্ত অনাবাদি জায়গা ব্যবহার করে আদা চাষ করায় তার কোনো জমি নষ্ট হয়নি বরং একটি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে আদার পরিচর্যা করা খুবই সহজ এবং নিয়মিত আগাছা পরিষ্কারের পাশাপাশি সঠিক সেচ দিলেই ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে আদা একটি উচ্চমূল্যের মসলাজাতীয় ফসল যার রান্নার পাশাপাশি ভেষজ ও ওষুধ শিল্পেও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সারা বছর বাজারে এর চাহিদা থাকায় এবং ছায়াযুক্ত স্থানে বা বস্তায় সহজে চাষ করা সম্ভব হওয়ায় অল্প জায়গাতেই ভালো উৎপাদন নিশ্চিত করা যাচ্ছে। এর ফলে গ্রামীণ অঞ্চলের অনাবাদি ও অব্যবহৃত স্থানগুলোও এখন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা জানান যে জেলায় আদা চাষে কৃষকদের আগ্রহ অবিশ্বাস্যভাবে বাড়ছে। তিনি বলেন যে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি পরামর্শ ও মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পতিত জমি এবং ছায়াযুক্ত স্থান ও বাড়ির ছাদকে উৎপাদনের আওতায় এনে কৃষকেরা বাড়তি আয় করতে পারছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই চাষকে আরও সম্প্রসারিত করতে কৃষি বিভাগ নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাজারে আদার চাহিদা ও মূল্য স্থিতিশীল থাকলে আগামী দিনে সিরাজগঞ্জে আদা চাষের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে যা জেলার মসলা ফসল উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়ের আচরণ ‘লজ্জাজনক’, ক্ষুব্ধ ফুটবল কিংবদন্তিরা

সিরাজগঞ্জে বস্তা ও পতিত জমিতে আদা চাষে কৃষকদের অভাবনীয় সাফল্য

আপডেট সময় : ১০:৪২:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

সিরাজগঞ্জ জেলায় অল্প খরচে এবং অধিক লাভের আশায় কৃষকদের মধ্যে আদা চাষের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি স্থানীয় চাষিরা এখন তাদের বাড়ির চারপাশের ছায়াযুক্ত জায়গা এবং পতিত জমি এমনকি বাড়ির ছাদেও বড় বড় বস্তায় আদা চাষ করছেন। এই পদ্ধতিতে আবাদ করার ফলে উৎপাদন খরচ যেমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে তেমনি বাজারে সারা বছর আদার ভালো দাম থাকায় কৃষকেরা আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জ জেলায় মোট ১৭২ হেক্টর জমিতে আদা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে মূল চাষযোগ্য জমির বাইরেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছায়াযুক্ত স্থানে এবং বাড়ির ছাদে প্রায় একষট্টি হাজার দুইশত বড় বস্তায় আদা চাষ করা হয়েছে। জেলার সদর এবং কাজিপুর ও চৌহালীসহ শাহজাদপুর এবং উল্লাপাড়া ও কামারখন্দসহ মোট নয়টি উপজেলাতেই আদা চাষের পরিধি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

সদর উপজেলার চাষি বাসেদ সরকার জানান যে তিনি আগে কেবল ধান ও সবজি চাষ করতেন। তবে কৃষি অফিসের পরামর্শে এবারই প্রথম বস্তায় আদা চাষ শুরু করেছেন। এতে তার খুব একটা খরচ হয়নি এবং গাছের বৃদ্ধিও বেশ ভালো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বাজারের দাম ঠিক থাকলে এবার ভালো লাভ হবে এবং আগামী বছর তিনি আরও বড় পরিসরে এই চাষ করবেন। অন্যদিকে শাহজাদপুর উপজেলার কৃষক মো সাইদুল ইসলাম জানান যে বাড়ির পাশের ছায়াযুক্ত অনাবাদি জায়গা ব্যবহার করে আদা চাষ করায় তার কোনো জমি নষ্ট হয়নি বরং একটি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে আদার পরিচর্যা করা খুবই সহজ এবং নিয়মিত আগাছা পরিষ্কারের পাশাপাশি সঠিক সেচ দিলেই ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে আদা একটি উচ্চমূল্যের মসলাজাতীয় ফসল যার রান্নার পাশাপাশি ভেষজ ও ওষুধ শিল্পেও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সারা বছর বাজারে এর চাহিদা থাকায় এবং ছায়াযুক্ত স্থানে বা বস্তায় সহজে চাষ করা সম্ভব হওয়ায় অল্প জায়গাতেই ভালো উৎপাদন নিশ্চিত করা যাচ্ছে। এর ফলে গ্রামীণ অঞ্চলের অনাবাদি ও অব্যবহৃত স্থানগুলোও এখন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা জানান যে জেলায় আদা চাষে কৃষকদের আগ্রহ অবিশ্বাস্যভাবে বাড়ছে। তিনি বলেন যে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি পরামর্শ ও মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পতিত জমি এবং ছায়াযুক্ত স্থান ও বাড়ির ছাদকে উৎপাদনের আওতায় এনে কৃষকেরা বাড়তি আয় করতে পারছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই চাষকে আরও সম্প্রসারিত করতে কৃষি বিভাগ নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাজারে আদার চাহিদা ও মূল্য স্থিতিশীল থাকলে আগামী দিনে সিরাজগঞ্জে আদা চাষের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে যা জেলার মসলা ফসল উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।