ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নাইজেরিয়াকে একেবারে বিধ্বস্ত করে কোয়ার্টার ফাইনালে কোয়ালিফাই করেছে আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেরা ম্যাচটি ৪-০ ব্যবধানে জিতে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আমেরিকার এই তরুণ দলটির ছিল একচ্ছত্র আধিপত্য। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব বর্নমাউথের ডিফেন্ডার হুলিও সোলের। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচ ছাড়া বাকি সব খেলায় তিনি মাঠে নেমেছেন। সোলেরের নেতৃত্বেই আগ্রাসী ফুটবল খেলে আর্জেন্টিনা ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই লিড নেয়। বায়ার লেভারকুজেনের ফরোয়ার্ড আলেহো সারকো ডিলান গোরোসিতোর নিখুঁত পাস পেয়ে কাছ থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর ২৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মাহের কাররিজো। বক্সের বাইরে থেকে তার দুর্দান্ত ফ্রি-কিক গোলরক্ষকের নাগাল এড়িয়ে সরাসরি পোস্টে ঢুকে যায়। প্রথমার্ধে নাইজেরিয়া বেশ কিছু সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু সেগুলোকে কাজে লাগাতে পারেনি। তাদের সেরা সুযোগটি আসে তাহির মাইগানার একক প্রচেষ্টায়, কিন্তু গোলরক্ষক সান্তিনো বারবি অসাধারণ সেভে সেই শট রুখে দেন। এরপর নাইজেরিয়া দুইবার পেনাল্টির আবেদন করে। প্রথমটি রেফারি মৌরিজিও মারিয়ান উপেক্ষা করেন, আর দ্বিতীয়টি ভিএআর পর্যালোচনার পরও বাতিল হয়। বিরতির ঠিক আগে নাইজেরিয়ার অধিনায়ক ড্যানিয়েল বামেয়ির শটও আটকে দেন গোলরক্ষক বারবি।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া চেষ্টা চালালেও আর্জেন্টিনা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ৫৭তম মিনিটে মিল্টন ডেলগাডোর পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মাহের কাররিয়ো, ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-০। এর দুই মিনিট পরই বড় সুযোগ নষ্ট করেন নাইজেরিয়ার হারুনা আলিউ, হেডে বল পোস্টের বাইরে পাঠিয়ে দেন তিনি।
৬৬তম মিনিটে ম্যাচের চতুর্থ গোলটি করেন মাতো সিলভেত্তি। তিনি বক্সের ভেতর বল পেয়ে নিখুঁতভাবে নিচের বাঁ দিকের কোনায় পাঠিয়ে দেন। ৭৮তম মিনিটে নাইজেরিয়ার ইমানুয়েল একেলেকে বিপজ্জনক ট্যাকলের জন্য প্রায় লাল কার্ড দেখতে হচ্ছিল, তবে ভিএআর পর্যালোচনার পর তিনি বেঁচে যান। শেষ সময়ে আর কোনো গোল হয়নি। ম্যাচের শেষ দিকে সিলভেত্তির নেওয়া শট নাইজেরিয়ার গোলরক্ষক ইবেনেজার হারকোর্ট ফিরিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলের দাপুটে জয়ে আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২০ দল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে।
রিপোর্টারের নাম 























