পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের ক্ষেত্রে স্বস্তির চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধিকাংশ পোশাক কারখানা শ্রমিকদের মার্চ ও এপ্রিল মাসের বেতন এবং ঈদ বোনাস সময়মতো পরিশোধ করেছে। একই সঙ্গে, বিপুল সংখ্যক কারখানা মে মাসের অগ্রিম বেতনও প্রদান করেছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুই হাজার ১৩৪টি চালু কারখানার মধ্যে শতভাগ মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করেছে। এপ্রিল মাসের বেতন পরিশোধের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯.৭২ শতাংশ, যেখানে দুই হাজার ১২৮টি কারখানা এই বেতন দিয়েছে। ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে দুই হাজার ১২৫টি কারখানা, যা প্রায় ৯৯.৫৮ শতাংশ। এছাড়াও, মে মাসের অগ্রিম বেতন দিয়েছে দুই হাজার ২৩টি কারখানা, যা মোট কারখানার প্রায় ৯৫ শতাংশ।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, রফতানি আদেশে অনিশ্চয়তা, ব্যাংক ঋণ সংকট এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির মতো চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও পোশাক শিল্পে বেতন-বোনাস পরিশোধের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার শ্রমিক অসন্তোষও উল্লেখযোগ্যভাবে কম দেখা যাচ্ছে।
ঢাকা অঞ্চলে প্রায় শতভাগ কারখানায় বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। এখানে এক হাজার ৭৯৪টি চালু কারখানার সবগুলো মার্চ মাসের বেতন দিয়েছে। এপ্রিল মাসের বেতন পরিশোধ করেছে এক হাজার ৭৯০টি কারখানা, যেখানে মাত্র চারটি কারখানায় এই প্রক্রিয়াটি এখনও চলছে। ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে এক হাজার ৭৯০টি কারখানা, হাতেগোনা কয়েকটি কারখানায় বোনাস দেওয়া বাকি থাকলেও সেগুলো প্রক্রিয়াধীন। মে মাসের অগ্রিম বেতন দিয়েছে এক হাজার ৭০৩টি কারখানা, যা প্রায় ৯৫.৪১ শতাংশ।
চট্টগ্রাম অঞ্চলেও একই রকম ইতিবাচক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এখানকার ৩৪০টি চালু কারখানার সবগুলো মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করেছে। এপ্রিলের বেতন দিয়েছে ৩৩৮টি কারখানা, যেখানে মাত্র দুটি কারখানায় বেতন বকেয়া রয়েছে। বোনাস পরিশোধ করেছে ৩৩৫টি কারখানা, যা প্রায় ৯৮.৫৩ শতাংশ। মে মাসের অগ্রিম বেতন দিয়েছে ৩২০টি কারখানা। চট্টগ্রামের শিল্প মালিকরা জানিয়েছেন, রফতানি আদেশে কিছুটা চাপ থাকলেও ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, কারণ ঈদ মৌসুমে শ্রমিক অসন্তোষ এড়ানো জরুরি ছিল।
রিপোর্টারের নাম 
























