সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই বড় আকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের বার্তা দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে, যার আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা।
এই প্রথম ১০০ দিনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে নতুন সরকারের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গঠনের দিকেই সরকার বিশেষভাবে জোর দিচ্ছে, যা একনেকের সিদ্ধান্তগুলোতে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
বিশেষ করে প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের ‘পদ্মা ব্যারেজ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্প অনুমোদনের মাধ্যমে সরকার আবারও বড় অবকাঠামো বা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি পানি প্রকল্প নয়, বরং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, নৌপরিবহন, শিল্প, পরিবেশ ও জলবায়ু নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত বিনিয়োগ।
তিনটি একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথম সভায় তুলনামূলক ছোট ও সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও দ্বিতীয় সভায় অবকাঠামো সম্প্রসারণে বড় গতি আসে। তৃতীয় সভায় পদ্মা ব্যারেজ অনুমোদনের মাধ্যমে সরকার উন্নয়নের নতুন মাত্রা যোগ করে।
অর্থনীতিবিদ ও পরিকল্পনাবিদদের মতে, প্রথম তিনটি একনেক সভা সরকারের উন্নয়ন কৌশলের একটি ধাপে ধাপে অগ্রসরমান চিত্র তুলে ধরে। শুরুতে চলমান প্রকল্প পুনর্বিন্যাস ও প্রশাসনিক সক্ষমতা যাচাই, পরে অবকাঠামো ও জনসেবা সম্প্রসারণ এবং সর্বশেষে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত মেগা প্রকল্পে প্রবেশ—এই ধারাবাহিকতাই এখন দৃশ্যমান।
সরকার গঠনের পর প্রথম একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয় ৬ এপ্রিল, দ্বিতীয় সভা ২৬ এপ্রিল এবং তৃতীয় সভা ১৩ মে। এই তিন সভায় ধারাবাহিকভাবে উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনার প্রচেষ্টা দেখা গেছে। প্রথম সভায় পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন পায়, যার মোট ব্যয় ছিল ৪৮৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সভায় ১৪টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।
রিপোর্টারের নাম 





















