বর্তমানে হাতে থাকা টাকার মূল্য যে হারে কমে যাচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। অতীতের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, অল্প কিছু টাকা দিয়ে যা কেনা যেত, বর্তমানে তার চেয়ে অনেক বেশি টাকা দিয়েও একই পরিমাণ জিনিস কেনা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থনীতির ভাষায় একে ‘ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস’ বা ‘পার্চেজিং পাওয়ার’ কমে যাওয়া বলা হয়। এর মূল কারণ হলো ধারাবাহিক মূল্যস্ফীতি।
গত কয়েক বছরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের মানুষের প্রকৃত আয় কমেছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও স্থির আয়ের মানুষেরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। আয় বাড়লেও ব্যয় বাড়ছে আরও দ্রুত গতিতে, যার ফলে মানুষের সঞ্চয় কমে যাচ্ছে, ঋণনির্ভরতা বাড়ছে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগও ঘনীভূত হচ্ছে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে দেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.০৪ শতাংশে, যা মার্চ মাসে ছিল ৮.৭১ শতাংশ। সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব বাজারে পড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বেড়েছে। এর ফলে সীমিত আয়ের ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। টানা চার মাস ঊর্ধ্বগতির পর মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও এপ্রিলে তা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের উপরে অবস্থান করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে থাকলে টাকার প্রকৃত মূল্য দ্রুত হ্রাস পায়। উদাহরণস্বরূপ, কয়েক বছর আগে ১ লাখ টাকা দিয়ে যে পরিমাণ পণ্য কেনা যেত, বর্তমানে সেই একই পণ্য কিনতে অনেক বেশি টাকার প্রয়োজন হচ্ছে। যদি বার্ষিক মূল্যস্ফীতি গড়ে ৯ থেকে ১০ শতাংশ থাকে, তবে পাঁচ বছরে টাকার প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা বড় ধরনের ধাক্কার সম্মুখীন হয়। অর্থাৎ, ব্যাংকে রাখা ১ লাখ টাকা সংখ্যায় একই থাকলেও বাস্তবে তার ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। সহজভাবে বলা যায়, আগে যেখানে ১ লাখ টাকা দিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো যেত, এখন সেই একই জীবনযাত্রা ধরে রাখতে প্রয়োজন হতে পারে ১ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্থনীতিবিদরা একে ‘টাকার নীরব ক্ষয়’ হিসেবে অভিহিত করছেন, যা মানুষ বোঝার আগেই তার সঞ্চয়ের প্রকৃত মূল্য কমিয়ে দিচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























