ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

কমলাপুর পশুর হাটে ক্রেতাশূন্যতা, ব্যবসায়ীদের লোকসানের আশঙ্কা

রাজধানীর কমলাপুর পশুরহাটে কোরবানির বাজারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। যে গরুর দাম গতকাল দুই লাখ টাকা ছিল, আজ তা এক লাখ ৩০ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। কোথাও কোথাও তিন লাখ টাকার গরুর দাম এক লাখ ৭০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতা নেই, বিক্রি নেই— অথচ হাটে শত শত গরু। ফলে চরম হতাশা, লোকসান আর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শত শত খামারি ও ব্যবসায়ী।

গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত কমলাপুর পশুরহাট ঘুরে দেখা যায়, হাটে শুধু গরু আর বিক্রেতা। প্রত্যাশিত ক্রেতার দেখা মেলেনি। কয়েক ঘণ্টা আগেও যে হাটে মানুষের ভিড় ছিল, সেখানে সন্ধ্যার পর থেকেই এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে আসে। বিক্রেতাদের অনেকে গরুর পাশে বসে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন। কেউ লোকসানের হিসাব মেলাচ্ছেন, কেউ আবার ট্রাক ভাড়া করে গরু ফেরত নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থেকে ৮০টি গরু নিয়ে কমলাপুর হাটে আসা ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, তার বেশিরভাগ গরুর দাম ছিল দুই লাখ টাকার ওপরে। কিন্তু শেষ সময়ে এসে তিনি দিশেহারা। তিনি বলেন, “যে গরুর কেনা দামই দুই লাখ টাকা, সেই গরু এখন মানুষ দাম বলছে এক লাখ ৩০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা। এই দামে বিক্রি করলে প্রতিটি গরুতে অন্তত ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা লোকসান হবে। এত কম দামে বিক্রি করার চেয়ে গরু ফিরিয়ে নেওয়াই ভালো।”

তিনি আরও জানান, রাত ১২টার দিকে ট্রাক আসবে। এরপর অবিক্রিত গরুগুলো আবার গ্রামে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। তার ভাষায়, “গরুগুলো ট্রাকে করে দীর্ঘ পথ দাঁড়িয়ে এসেছে। তারপর বৃষ্টির মধ্যে হাটে থাকতে হয়েছে। অনেক গরু অসুস্থ হয়ে গেছে, কয়েকটার জ্বরও এসেছে। এখন এগুলো গ্রামে নিয়ে গিয়ে অন্তত ১০ দিন পরিচর্যা করতে হবে। তারপর হয়তো কেজি দরে বিক্রি করতে হবে।”

শুধু শহিদুল ইসলাম নন, একই চিত্র পুরো হাটজুড়েই। ঝিনাইদহ থেকে আসা আরেক ব্যবসায়ী জানান, তার ১০টি গরুই অবিক্রিত রয়েছে। প্রতিটি গরুতে অন্তত ২০ হাজার টাকা করে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি। তিনি বলেন, “গতকাল যে গরু দুই লাখ টাকা দাম বলেছে, আজকে সেই গরুর দাম এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। মানুষ দাম শুনে চলে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিক্রি করার আগ্রহই হারিয়ে ফেলেছি।” হাট ঘুরে দেখা যায়, ছোট, মাঝারি ও বড়— সব ধরনের গরুই অবিক্রিত অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে বড় গরুর বাজারে ধস নেমেছে সবচেয়ে বেশি। অনেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, শেষ মুহূর্তে এসে এমন পরিস্থিতি তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরবানির চামড়া অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে, হতাশ বিক্রেতারা

কমলাপুর পশুর হাটে ক্রেতাশূন্যতা, ব্যবসায়ীদের লোকসানের আশঙ্কা

আপডেট সময় : ১১:০৫:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

রাজধানীর কমলাপুর পশুরহাটে কোরবানির বাজারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। যে গরুর দাম গতকাল দুই লাখ টাকা ছিল, আজ তা এক লাখ ৩০ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। কোথাও কোথাও তিন লাখ টাকার গরুর দাম এক লাখ ৭০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতা নেই, বিক্রি নেই— অথচ হাটে শত শত গরু। ফলে চরম হতাশা, লোকসান আর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শত শত খামারি ও ব্যবসায়ী।

গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত কমলাপুর পশুরহাট ঘুরে দেখা যায়, হাটে শুধু গরু আর বিক্রেতা। প্রত্যাশিত ক্রেতার দেখা মেলেনি। কয়েক ঘণ্টা আগেও যে হাটে মানুষের ভিড় ছিল, সেখানে সন্ধ্যার পর থেকেই এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে আসে। বিক্রেতাদের অনেকে গরুর পাশে বসে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন। কেউ লোকসানের হিসাব মেলাচ্ছেন, কেউ আবার ট্রাক ভাড়া করে গরু ফেরত নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থেকে ৮০টি গরু নিয়ে কমলাপুর হাটে আসা ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, তার বেশিরভাগ গরুর দাম ছিল দুই লাখ টাকার ওপরে। কিন্তু শেষ সময়ে এসে তিনি দিশেহারা। তিনি বলেন, “যে গরুর কেনা দামই দুই লাখ টাকা, সেই গরু এখন মানুষ দাম বলছে এক লাখ ৩০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা। এই দামে বিক্রি করলে প্রতিটি গরুতে অন্তত ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা লোকসান হবে। এত কম দামে বিক্রি করার চেয়ে গরু ফিরিয়ে নেওয়াই ভালো।”

তিনি আরও জানান, রাত ১২টার দিকে ট্রাক আসবে। এরপর অবিক্রিত গরুগুলো আবার গ্রামে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। তার ভাষায়, “গরুগুলো ট্রাকে করে দীর্ঘ পথ দাঁড়িয়ে এসেছে। তারপর বৃষ্টির মধ্যে হাটে থাকতে হয়েছে। অনেক গরু অসুস্থ হয়ে গেছে, কয়েকটার জ্বরও এসেছে। এখন এগুলো গ্রামে নিয়ে গিয়ে অন্তত ১০ দিন পরিচর্যা করতে হবে। তারপর হয়তো কেজি দরে বিক্রি করতে হবে।”

শুধু শহিদুল ইসলাম নন, একই চিত্র পুরো হাটজুড়েই। ঝিনাইদহ থেকে আসা আরেক ব্যবসায়ী জানান, তার ১০টি গরুই অবিক্রিত রয়েছে। প্রতিটি গরুতে অন্তত ২০ হাজার টাকা করে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি। তিনি বলেন, “গতকাল যে গরু দুই লাখ টাকা দাম বলেছে, আজকে সেই গরুর দাম এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। মানুষ দাম শুনে চলে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিক্রি করার আগ্রহই হারিয়ে ফেলেছি।” হাট ঘুরে দেখা যায়, ছোট, মাঝারি ও বড়— সব ধরনের গরুই অবিক্রিত অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে বড় গরুর বাজারে ধস নেমেছে সবচেয়ে বেশি। অনেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, শেষ মুহূর্তে এসে এমন পরিস্থিতি তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন।