ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

ঈদের প্রস্তুতি সত্ত্বেও ট্যানারি মালিকদের দুশ্চিন্তা: বর্জ্য শোধন ও রাসায়নিকের দাম বড় চ্যালেঞ্জ

সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে ঈদুল আজহা ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। তবে এই ব্যস্ততার মাঝেও ব্যবসায়ীরা নানা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা এবং লবণের মতো রাসায়নিকের মূল্যবৃদ্ধি এবারও তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে এই শিল্প নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না সংশ্লিষ্টদের।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এবার কোরবানির জন্য এক কোটি ২৩ লাখের বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষ প্রায় ৫৭ লাখ এবং ছাগল ও ভেড়া ৬৬ লাখের বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, কোরবানির সংখ্যা এক কোটির বেশি হতে পারে। এই বিপুল পরিমাণ চামড়ার সিংহভাগই সাভারের হেমায়েতপুরের চামড়া শিল্পনগরীতে আসবে। মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়কে কেন্দ্র করে ট্যানারিগুলোতে এখন কর্মব্যস্ততা তুঙ্গে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) হরিণধরা এলাকার বিসিক চামড়া শিল্প নগরীতে গিয়ে দেখা গেছে, ঈদের বর্জ্যের চাপ সামলাতে সিইটিপি (কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার) সংস্কারের কাজ চলছে। এছাড়া বিসিক এলাকার জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে এবং পানি নিষ্কাশনের নালাগুলোও সচল রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন কারখানায় চলছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান। নির্দেশনা মেনে অনেক কারখানার সামনে গাছ লাগানো হয়েছে এবং বর্জ্য ফেলার জন্য দুটি পুকুর খনন করা হয়েছে।

শিল্প মালিকরা জানিয়েছেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাসায়নিক সংগ্রহ, লবণ মজুত, শ্রমিক নিয়োগ এবং মাঠপর্যায়ে চামড়া সংগ্রহের জন্য যোগাযোগ সম্পন্ন হয়েছে। চামড়া প্রক্রিয়াকরণের জন্য সোডিয়াম সালফাইড, হাইড্রেটেড লাইম ও বেসিক ক্রোমিয়াম সালফেটসহ প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি, চামড়া সঠিকভাবে সংগ্রহের জন্য প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। তবে, চামড়া সংরক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান লবণের দাম নিয়ে ট্যানারি মালিকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তথ্যমতে, এ বছর চামড়া শিল্পে প্রায় ৮০-৮৫ হাজার মেট্রিক টন লবণের চাহিদা রয়েছে। সরকার মাদ্রাসা, এতিমখানা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তার জন্য প্রায় ১১ হাজার ৫০০ টন লবণ বিনামূল্যে বিতরণ করছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি ৭৪ কেজির লবণের বস্তার দাম ২৫০ টাকা বেড়ে ৯৩০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর এক ট্যানারির কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা আশা করছেন, সরকার চামড়া শিল্পের প্রতি আন্তরিক। সিইটিপির কাজেও অগ্রগতি হয়েছে এবং চামড়া প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরবানির চামড়া অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে, হতাশ বিক্রেতারা

ঈদের প্রস্তুতি সত্ত্বেও ট্যানারি মালিকদের দুশ্চিন্তা: বর্জ্য শোধন ও রাসায়নিকের দাম বড় চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ০৭:৫১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে ঈদুল আজহা ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। তবে এই ব্যস্ততার মাঝেও ব্যবসায়ীরা নানা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা এবং লবণের মতো রাসায়নিকের মূল্যবৃদ্ধি এবারও তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে এই শিল্প নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না সংশ্লিষ্টদের।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এবার কোরবানির জন্য এক কোটি ২৩ লাখের বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষ প্রায় ৫৭ লাখ এবং ছাগল ও ভেড়া ৬৬ লাখের বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, কোরবানির সংখ্যা এক কোটির বেশি হতে পারে। এই বিপুল পরিমাণ চামড়ার সিংহভাগই সাভারের হেমায়েতপুরের চামড়া শিল্পনগরীতে আসবে। মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়কে কেন্দ্র করে ট্যানারিগুলোতে এখন কর্মব্যস্ততা তুঙ্গে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) হরিণধরা এলাকার বিসিক চামড়া শিল্প নগরীতে গিয়ে দেখা গেছে, ঈদের বর্জ্যের চাপ সামলাতে সিইটিপি (কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার) সংস্কারের কাজ চলছে। এছাড়া বিসিক এলাকার জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে এবং পানি নিষ্কাশনের নালাগুলোও সচল রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন কারখানায় চলছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান। নির্দেশনা মেনে অনেক কারখানার সামনে গাছ লাগানো হয়েছে এবং বর্জ্য ফেলার জন্য দুটি পুকুর খনন করা হয়েছে।

শিল্প মালিকরা জানিয়েছেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাসায়নিক সংগ্রহ, লবণ মজুত, শ্রমিক নিয়োগ এবং মাঠপর্যায়ে চামড়া সংগ্রহের জন্য যোগাযোগ সম্পন্ন হয়েছে। চামড়া প্রক্রিয়াকরণের জন্য সোডিয়াম সালফাইড, হাইড্রেটেড লাইম ও বেসিক ক্রোমিয়াম সালফেটসহ প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি, চামড়া সঠিকভাবে সংগ্রহের জন্য প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। তবে, চামড়া সংরক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান লবণের দাম নিয়ে ট্যানারি মালিকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তথ্যমতে, এ বছর চামড়া শিল্পে প্রায় ৮০-৮৫ হাজার মেট্রিক টন লবণের চাহিদা রয়েছে। সরকার মাদ্রাসা, এতিমখানা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তার জন্য প্রায় ১১ হাজার ৫০০ টন লবণ বিনামূল্যে বিতরণ করছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি ৭৪ কেজির লবণের বস্তার দাম ২৫০ টাকা বেড়ে ৯৩০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর এক ট্যানারির কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা আশা করছেন, সরকার চামড়া শিল্পের প্রতি আন্তরিক। সিইটিপির কাজেও অগ্রগতি হয়েছে এবং চামড়া প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।