ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে রান্নার স্বাদ ও সংস্কৃতিতে পরিবর্তন, কমছে মশলার ব্যবহার

ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্যের প্রভাব এখন শুধু বাজারের হিসেব নিকেশেই সীমাবদ্ধ নেই, তা পৌঁছে গেছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরেও। একসময় যেসব বাহারি মশলার সুগন্ধে উৎসব ও ঐতিহ্যের স্বাদ বাড়তো, এখন খরচ সামলাতে অনেক পরিবারই সেগুলোর ব্যবহার কমিয়ে আনতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে পরিচিত রান্নার স্বাদ ও সংস্কৃতিতে আসছে পরিবর্তন।

বিশেষ করে এলাচ, দারুচিনি, জাফরান, জায়ফল, জয়ত্রী, কাবাবচিনি, গোলমরিচ এবং বিভিন্ন ধরনের মিশ্র মশলার মতো তুলনামূলক দামি মশলার ব্যবহার অনেক পরিবারে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একসময় ঈদ, বিয়ে, দাওয়াত বা অতিথি আপ্যায়নের মতো অনুষ্ঠানে বিরিয়ানি, কোরমা, রোস্ট বা রেজালার মতো খাবারে প্রায় ১০ থেকে ১২ ধরনের মশলার ব্যবহার ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অনেক পরিবারকেই এখন ৪-৫ ধরনের মশলা দিয়ে রান্না সারতে হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আমদানিনির্ভর মশলার দাম গত এক বছরে কয়েক দফা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলার সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ এবং সরবরাহ সংকটের কারণে এসব মশলার দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাহারি মশলা এখন অনেকের কাছেই ‘বিলাসী’ বা ‘অতিরিক্ত খরচ’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গৃহিণীরা জানিয়েছেন, আগে যেখানে উৎসবের রান্নায় স্বাদ ও গন্ধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো, এখন সেখানে প্রতিটি মশলার দামের হিসাব করতে হচ্ছে। কেউ কেউ দামি মশলার পরিবর্তে দেশীয় মশলার মিশ্রণ ব্যবহার করছেন, আবার কেউ কেউ কিছু উপকরণ পুরোপুরি বাদ দিচ্ছেন।

এই পরিবর্তন রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং ব্যবসাতেও প্রভাব ফেলেছে। অনেক ছোট ও মাঝারি রেস্তোরাঁ আগের মতো সমৃদ্ধ পরিমাণে মশলা ব্যবহার না করে সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করছে। কেউ কেউ খাবারের স্বাদ ধরে রাখতে দেশীয় মশলার ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, খাবারের আসল স্বাদ ও মান ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খাদ্য সংস্কৃতি বিশ্লেষকরা বলছেন, মশলার ব্যবহার কেবল খাবারের স্বাদের বিষয় নয়; এটি একটি অঞ্চলের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, অর্থনৈতিক সামর্থ্য ও সামাজিক অবস্থানেরও প্রতিফলন। তাই মশলার ব্যবহার কমে যাওয়া কেবল বাজারদরের প্রভাব নয়, এটি মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সংকটকেও নির্দেশ করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরবানির চামড়া অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে, হতাশ বিক্রেতারা

দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে রান্নার স্বাদ ও সংস্কৃতিতে পরিবর্তন, কমছে মশলার ব্যবহার

আপডেট সময় : ০৮:৫৪:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্যের প্রভাব এখন শুধু বাজারের হিসেব নিকেশেই সীমাবদ্ধ নেই, তা পৌঁছে গেছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরেও। একসময় যেসব বাহারি মশলার সুগন্ধে উৎসব ও ঐতিহ্যের স্বাদ বাড়তো, এখন খরচ সামলাতে অনেক পরিবারই সেগুলোর ব্যবহার কমিয়ে আনতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে পরিচিত রান্নার স্বাদ ও সংস্কৃতিতে আসছে পরিবর্তন।

বিশেষ করে এলাচ, দারুচিনি, জাফরান, জায়ফল, জয়ত্রী, কাবাবচিনি, গোলমরিচ এবং বিভিন্ন ধরনের মিশ্র মশলার মতো তুলনামূলক দামি মশলার ব্যবহার অনেক পরিবারে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একসময় ঈদ, বিয়ে, দাওয়াত বা অতিথি আপ্যায়নের মতো অনুষ্ঠানে বিরিয়ানি, কোরমা, রোস্ট বা রেজালার মতো খাবারে প্রায় ১০ থেকে ১২ ধরনের মশলার ব্যবহার ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অনেক পরিবারকেই এখন ৪-৫ ধরনের মশলা দিয়ে রান্না সারতে হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আমদানিনির্ভর মশলার দাম গত এক বছরে কয়েক দফা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলার সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ এবং সরবরাহ সংকটের কারণে এসব মশলার দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাহারি মশলা এখন অনেকের কাছেই ‘বিলাসী’ বা ‘অতিরিক্ত খরচ’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গৃহিণীরা জানিয়েছেন, আগে যেখানে উৎসবের রান্নায় স্বাদ ও গন্ধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো, এখন সেখানে প্রতিটি মশলার দামের হিসাব করতে হচ্ছে। কেউ কেউ দামি মশলার পরিবর্তে দেশীয় মশলার মিশ্রণ ব্যবহার করছেন, আবার কেউ কেউ কিছু উপকরণ পুরোপুরি বাদ দিচ্ছেন।

এই পরিবর্তন রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং ব্যবসাতেও প্রভাব ফেলেছে। অনেক ছোট ও মাঝারি রেস্তোরাঁ আগের মতো সমৃদ্ধ পরিমাণে মশলা ব্যবহার না করে সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করছে। কেউ কেউ খাবারের স্বাদ ধরে রাখতে দেশীয় মশলার ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, খাবারের আসল স্বাদ ও মান ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খাদ্য সংস্কৃতি বিশ্লেষকরা বলছেন, মশলার ব্যবহার কেবল খাবারের স্বাদের বিষয় নয়; এটি একটি অঞ্চলের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, অর্থনৈতিক সামর্থ্য ও সামাজিক অবস্থানেরও প্রতিফলন। তাই মশলার ব্যবহার কমে যাওয়া কেবল বাজারদরের প্রভাব নয়, এটি মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সংকটকেও নির্দেশ করে।