ঢাকা ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত ময়দান, ১৬ লাখেরও বেশি হাজীর ইবাদত-বন্দেগি

‘লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে মক্কার ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দান। মঙ্গলবার (২৬ মে) পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘উকুফে আরাফাহ’ পালনে অংশ নিতে এই ময়দানে সমবেত হয়েছেন ১৬ লাখেরও বেশি হাজী। সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাত দিয়ে এই ভক্তি ও প্রার্থনার দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে।

জিলহজ মাসের নবম দিনে ভোর থেকেই হাজিরা দলে দলে আরাফাতের ময়দানে জড়ো হতে শুরু করেন। সেখানে তারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে ইবাদত-বন্দেগি, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও আকুল প্রার্থনায় মগ্ন থাকবেন। ইসলামী ঐতিহ্যে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান, যা ‘ওকুফে আরাফাহ’ নামে পরিচিত, হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে গণ্য করা হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছিলেন, ‘হজই হলো আরাফাহ’, যা এই সমাবেশের অপরিহার্য গুরুত্বকে প্রকাশ করে।

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এই দিনটি ইসলামী ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে পবিত্র দিনগুলোর একটি, যা আল্লাহর রহমত, ক্ষমা এবং আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণের মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বিদায় হজের স্মৃতিও এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। সে সময় তিনি আরাফাত পাহাড়ে তার ঐতিহাসিক শেষ খুতবা দিয়েছিলেন, যেখানে ন্যায়বিচার, সমতা এবং জীবন ও সম্পদের পবিত্রতার নীতিগুলো তুলে ধরা হয়েছিল।

মঙ্গলবার দুপুরে হাজিদের উদ্দেশ্যে আরাফাতের খুতবা দেওয়া হবে, যেখানে ধর্মীয় দিকনির্দেশনা এবং এই দিনের ফজিলত সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে। এরপর হাজিরা মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী জোহর এবং আসরের নামাজ একসঙ্গে এবং সংক্ষিপ্ত করে আদায় করবেন। সারা দিন ধরে হাজিরা হাত তুলে প্রার্থনা করছেন, তালবিয়া ও তাকবীর পাঠ করছেন এবং অত্যন্ত বিনয় ও আত্মোপলব্ধির মধ্য দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।

মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আরাফাত মূলত একটি উন্মুক্ত প্রান্তর, যার কেন্দ্রে রয়েছে ‘জাবাল আল-রাহমাহ’ বা রহমতের পাহাড়। অনেক হাজিই সেখানে প্রার্থনা ও ধ্যানের জন্য সমবেত হন। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্থানটি আদম ও হাওয়া (আ.)-এর পুনর্মিলনের সঙ্গে জড়িত এবং বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে এটি গভীর প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৩ ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্ত অব্যাহত

লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত ময়দান, ১৬ লাখেরও বেশি হাজীর ইবাদত-বন্দেগি

আপডেট সময় : ০৩:২১:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

‘লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে মক্কার ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দান। মঙ্গলবার (২৬ মে) পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘উকুফে আরাফাহ’ পালনে অংশ নিতে এই ময়দানে সমবেত হয়েছেন ১৬ লাখেরও বেশি হাজী। সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাত দিয়ে এই ভক্তি ও প্রার্থনার দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে।

জিলহজ মাসের নবম দিনে ভোর থেকেই হাজিরা দলে দলে আরাফাতের ময়দানে জড়ো হতে শুরু করেন। সেখানে তারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে ইবাদত-বন্দেগি, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও আকুল প্রার্থনায় মগ্ন থাকবেন। ইসলামী ঐতিহ্যে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান, যা ‘ওকুফে আরাফাহ’ নামে পরিচিত, হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে গণ্য করা হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছিলেন, ‘হজই হলো আরাফাহ’, যা এই সমাবেশের অপরিহার্য গুরুত্বকে প্রকাশ করে।

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এই দিনটি ইসলামী ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে পবিত্র দিনগুলোর একটি, যা আল্লাহর রহমত, ক্ষমা এবং আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণের মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বিদায় হজের স্মৃতিও এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। সে সময় তিনি আরাফাত পাহাড়ে তার ঐতিহাসিক শেষ খুতবা দিয়েছিলেন, যেখানে ন্যায়বিচার, সমতা এবং জীবন ও সম্পদের পবিত্রতার নীতিগুলো তুলে ধরা হয়েছিল।

মঙ্গলবার দুপুরে হাজিদের উদ্দেশ্যে আরাফাতের খুতবা দেওয়া হবে, যেখানে ধর্মীয় দিকনির্দেশনা এবং এই দিনের ফজিলত সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে। এরপর হাজিরা মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী জোহর এবং আসরের নামাজ একসঙ্গে এবং সংক্ষিপ্ত করে আদায় করবেন। সারা দিন ধরে হাজিরা হাত তুলে প্রার্থনা করছেন, তালবিয়া ও তাকবীর পাঠ করছেন এবং অত্যন্ত বিনয় ও আত্মোপলব্ধির মধ্য দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।

মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আরাফাত মূলত একটি উন্মুক্ত প্রান্তর, যার কেন্দ্রে রয়েছে ‘জাবাল আল-রাহমাহ’ বা রহমতের পাহাড়। অনেক হাজিই সেখানে প্রার্থনা ও ধ্যানের জন্য সমবেত হন। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্থানটি আদম ও হাওয়া (আ.)-এর পুনর্মিলনের সঙ্গে জড়িত এবং বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে এটি গভীর প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে।