ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চানখারপুলের ছয় হত্যা মামলায় আজ সাক্ষ্য দেবেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৬:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সাক্ষ্য দেবেন। এই মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট আটজন আসামি রয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার জবানবন্দি গ্রহণ করবেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।

এর আগে, গত ৫ অক্টোবর নবম দিনের মতো সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছিল, সেদিন একজন সাক্ষী জবানবন্দি দেন। ২৫ সেপ্টেম্বর অষ্টম দিনের কার্যদিবসে তিনজন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন, যার মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যও ছিলেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে স্টেট ডিফেন্স এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের জেরা করেন। ১৪ আগস্ট সপ্তম দিনে তিনজন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, যার মধ্যে দুজন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্য ছিলেন: কনস্টেবল অজয় কুমার ও কনস্টেবল আবদুর রহমান। ১১ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠ কার্যদিবসে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষ্য দেন রাজধানীর নিউমার্কেটের দোকানের কর্মচারী মো. টিপু সুলতান ও নৌবাহিনীতে মালামাল সরবরাহকারী মো. মনিরুজ্জামান। ৭ সেপ্টেম্বর পঞ্চম দিনের মতো তিনজন জবানবন্দি দেন। এদের মধ্যে ছিলেন শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি, আনাসকে গুলি করতে দেখা প্রত্যক্ষদর্শী রাব্বি হোসেন এবং ব্যবসায়ী আবদুল গফুর।

এছাড়াও ২১ আগস্ট চতুর্থ দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। ওই দিন ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছিলেন শহীদ রাকিব হোসেন হাওলাদারের বাবা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও বড় ভাই রাহাত হাওলাদার। তারা উভয়েই হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন। ১৩ আগস্ট তৃতীয় দিনে সাক্ষ্য দেন শহীদ ইয়াকুবের মা রহিমা আক্তার, তার প্রতিবেশী চাচা শহীদ আহমেদ এবং শহীদ মো. ইসমামুল হকের ভাই মহিবুল হক। ১২ আগস্ট দ্বিতীয় দিনে দুজন জবানবন্দি দেন, যাদের মধ্যে ছিলেন একজন কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আঞ্জুয়ারা ইয়াসমিন এবং আরেকজন শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদের বাবা শেখ জামাল হাসান। গত ১১ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের পর মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন শহীদ আনাসের বাবা শাহরিয়ার খান পলাশ।

এই মামলার গ্রেফতার হওয়া চার আসামি হলেন: শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন এবং মো. নাসিরুল ইসলাম। পলাতক আসামিরা হলেন: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল। গত ১৪ জুলাই চানখারপুলের এই মামলাটির পলাতক চার আসামিসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালালে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক এবং মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে অনুমোদনহীন এলপিজি পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: দগ্ধ ১৫, পুড়লো অর্ধশতাধিক ঘর ও ১৫ গাড়ি

চানখারপুলের ছয় হত্যা মামলায় আজ সাক্ষ্য দেবেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

আপডেট সময় : ১১:৫৬:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সাক্ষ্য দেবেন। এই মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট আটজন আসামি রয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার জবানবন্দি গ্রহণ করবেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।

এর আগে, গত ৫ অক্টোবর নবম দিনের মতো সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছিল, সেদিন একজন সাক্ষী জবানবন্দি দেন। ২৫ সেপ্টেম্বর অষ্টম দিনের কার্যদিবসে তিনজন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন, যার মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যও ছিলেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে স্টেট ডিফেন্স এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের জেরা করেন। ১৪ আগস্ট সপ্তম দিনে তিনজন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, যার মধ্যে দুজন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্য ছিলেন: কনস্টেবল অজয় কুমার ও কনস্টেবল আবদুর রহমান। ১১ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠ কার্যদিবসে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষ্য দেন রাজধানীর নিউমার্কেটের দোকানের কর্মচারী মো. টিপু সুলতান ও নৌবাহিনীতে মালামাল সরবরাহকারী মো. মনিরুজ্জামান। ৭ সেপ্টেম্বর পঞ্চম দিনের মতো তিনজন জবানবন্দি দেন। এদের মধ্যে ছিলেন শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি, আনাসকে গুলি করতে দেখা প্রত্যক্ষদর্শী রাব্বি হোসেন এবং ব্যবসায়ী আবদুল গফুর।

এছাড়াও ২১ আগস্ট চতুর্থ দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। ওই দিন ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছিলেন শহীদ রাকিব হোসেন হাওলাদারের বাবা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও বড় ভাই রাহাত হাওলাদার। তারা উভয়েই হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন। ১৩ আগস্ট তৃতীয় দিনে সাক্ষ্য দেন শহীদ ইয়াকুবের মা রহিমা আক্তার, তার প্রতিবেশী চাচা শহীদ আহমেদ এবং শহীদ মো. ইসমামুল হকের ভাই মহিবুল হক। ১২ আগস্ট দ্বিতীয় দিনে দুজন জবানবন্দি দেন, যাদের মধ্যে ছিলেন একজন কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আঞ্জুয়ারা ইয়াসমিন এবং আরেকজন শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদের বাবা শেখ জামাল হাসান। গত ১১ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের পর মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন শহীদ আনাসের বাবা শাহরিয়ার খান পলাশ।

এই মামলার গ্রেফতার হওয়া চার আসামি হলেন: শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন এবং মো. নাসিরুল ইসলাম। পলাতক আসামিরা হলেন: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল। গত ১৪ জুলাই চানখারপুলের এই মামলাটির পলাতক চার আসামিসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালালে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক এবং মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন।