ঢাকা ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

নারী ও শিশুর নিরাপত্তা: ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি

বাংলাদেশে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা আজ এক চরম সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে। ঘর থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা কর্মক্ষেত্র—কোথাও যেন স্বস্তির পরিবেশ নেই। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরেও যখন নারী লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটে, তখন তা সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের ভয়াবহ চিত্রটিই সামনে আনে। এই পরিস্থিতি কেবল উদ্বেগের নয়, বরং রাষ্ট্রের সামগ্রিক কাঠামোর জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।

নারী নির্যাতনের এই ক্রমবর্ধমান হারের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে বিচারহীনতার সংস্কৃতি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং সামাজিক প্রভাবের কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। যখন অপরাধীদের মনে শাস্তির ভয় থাকে না, তখন তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এছাড়া ভুক্তভোগীকেই দোষারোপ করার যে সামাজিক প্রবণতা, তা অপরাধীদের পরোক্ষভাবে উৎসাহ জোগাচ্ছে।

একটি নিরাপদ সমাজ গড়তে হলে কেবল আইনের প্রয়োগ যথেষ্ট নয়, বরং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কঠোর তদারকি ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন। বিচারহীনতার দেয়াল ভেঙে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এই অরাজকতা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৫ জনের

নারী ও শিশুর নিরাপত্তা: ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি

আপডেট সময় : ১২:৫৩:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

বাংলাদেশে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা আজ এক চরম সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে। ঘর থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা কর্মক্ষেত্র—কোথাও যেন স্বস্তির পরিবেশ নেই। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরেও যখন নারী লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটে, তখন তা সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের ভয়াবহ চিত্রটিই সামনে আনে। এই পরিস্থিতি কেবল উদ্বেগের নয়, বরং রাষ্ট্রের সামগ্রিক কাঠামোর জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।

নারী নির্যাতনের এই ক্রমবর্ধমান হারের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে বিচারহীনতার সংস্কৃতি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং সামাজিক প্রভাবের কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। যখন অপরাধীদের মনে শাস্তির ভয় থাকে না, তখন তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এছাড়া ভুক্তভোগীকেই দোষারোপ করার যে সামাজিক প্রবণতা, তা অপরাধীদের পরোক্ষভাবে উৎসাহ জোগাচ্ছে।

একটি নিরাপদ সমাজ গড়তে হলে কেবল আইনের প্রয়োগ যথেষ্ট নয়, বরং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কঠোর তদারকি ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন। বিচারহীনতার দেয়াল ভেঙে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এই অরাজকতা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।