বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিবছর লক্ষাধিক তরুণ গ্র্যাজুয়েট শিক্ষা জীবন শেষ করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু বাস্তবতার মুখোমুখি হতেই সেই স্বপ্ন হোঁচট খাচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ১৩.৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। স্নাতক ডিগ্রিধারী প্রায় ৯ লাখ তরুণ বর্তমানে কর্মহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, যা সামগ্রিক জাতীয় বেকারত্বের হারের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।
এই সংকটের মূলে রয়েছে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় দক্ষতার ব্যাপক ব্যবধান। গত দুই দশকে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ও শিক্ষার্থীর হার বাড়লেও শিক্ষার গুণগত মান এবং কর্মমুখী দক্ষতার উন্নয়ন ঘটেনি। ফলে নিয়োগকর্তারা যে ধরনের দক্ষ কর্মী খুঁজছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সেই চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। বিশেষ করে আইসিটি ও কারিগরি খাতে হাজার হাজার পদ শূন্য থাকলেও যোগ্য প্রার্থীর অভাবে সেগুলো পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক কম্পিউটার সায়েন্স গ্র্যাজুয়েট বের হলেও তাদের বড় একটি অংশ শিল্পের চাহিদামত দক্ষ নয়। একদিকে সাধারণ বিষয়ে ডিগ্রিধারীদের বেকারত্বের ভিড়, অন্যদিকে বিশেষায়িত খাতে দক্ষ কর্মীর হাহাকার—এই বৈপরীত্য দেশের অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল সনদমুখী শিক্ষা নয়, বরং বাজার চাহিদার সাথে সংগতিপূর্ণ বাস্তবমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তনই এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ হতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























