ঢাকা ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

অপরাধীর সঙ্গে ভুক্তভোগীর বিয়ে: বিচার ব্যবস্থার এক চরম বৈপরীত্য

দেশে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে অনেক সময় আদালতের নির্দেশনায় বা সামাজিক চাপে ধর্ষকের সঙ্গেই ভুক্তভোগীর বিয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সম্প্রতি কারাগারে বিয়ের এমন ঘটনা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্ষণের মতো ফৌজদারি অপরাধ কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়। অপরাধীকে সাজা দেওয়ার পরিবর্তে বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দেওয়া মূলত ভুক্তভোগীকে পুনরায় লাঞ্ছিত করার শামিল।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, ধর্ষণের মামলা তুলে নেওয়া বা বিয়ের মাধ্যমে মীমাংসা করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এমনকি ভুক্তভোগী যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়, তবে এই বিয়ে আরও বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। অতীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বা হবিগঞ্জের মতো এলাকায় শিশু ও কিশোরীদের ওপর পাশবিক নির্যাতনের পর সালিশের মাধ্যমে বিয়ে দেওয়ার মতো অমানবিক ঘটনাও ঘটেছে, যা আধুনিক বিচার ব্যবস্থায় কাম্য নয়।

নারী অধিকার কর্মীদের মতে, যে ব্যক্তি একজন নারীর সম্মানহানি করেছে, তার সঙ্গেই সারাজীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত কোনো সমাধান হতে পারে না। এটি ভুক্তভোগীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের একটি দীর্ঘস্থায়ী রূপ মাত্র। সাবেক আইনমন্ত্রীও এক সময় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছিলেন যে, ধর্ষণের অপরাধ আইনিভাবে আপস করার সুযোগ নেই। তাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিয়ে নয়, বরং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই হওয়া উচিত একমাত্র লক্ষ্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৫ জনের

অপরাধীর সঙ্গে ভুক্তভোগীর বিয়ে: বিচার ব্যবস্থার এক চরম বৈপরীত্য

আপডেট সময় : ১২:২৭:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

দেশে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে অনেক সময় আদালতের নির্দেশনায় বা সামাজিক চাপে ধর্ষকের সঙ্গেই ভুক্তভোগীর বিয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সম্প্রতি কারাগারে বিয়ের এমন ঘটনা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্ষণের মতো ফৌজদারি অপরাধ কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়। অপরাধীকে সাজা দেওয়ার পরিবর্তে বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দেওয়া মূলত ভুক্তভোগীকে পুনরায় লাঞ্ছিত করার শামিল।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, ধর্ষণের মামলা তুলে নেওয়া বা বিয়ের মাধ্যমে মীমাংসা করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এমনকি ভুক্তভোগী যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়, তবে এই বিয়ে আরও বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। অতীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বা হবিগঞ্জের মতো এলাকায় শিশু ও কিশোরীদের ওপর পাশবিক নির্যাতনের পর সালিশের মাধ্যমে বিয়ে দেওয়ার মতো অমানবিক ঘটনাও ঘটেছে, যা আধুনিক বিচার ব্যবস্থায় কাম্য নয়।

নারী অধিকার কর্মীদের মতে, যে ব্যক্তি একজন নারীর সম্মানহানি করেছে, তার সঙ্গেই সারাজীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত কোনো সমাধান হতে পারে না। এটি ভুক্তভোগীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের একটি দীর্ঘস্থায়ী রূপ মাত্র। সাবেক আইনমন্ত্রীও এক সময় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছিলেন যে, ধর্ষণের অপরাধ আইনিভাবে আপস করার সুযোগ নেই। তাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিয়ে নয়, বরং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই হওয়া উচিত একমাত্র লক্ষ্য।