ঢাকা ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের যুগে কোন খাতের চাকরি সবচেয়ে ঝুঁকিতে?

বিশ্বজুড়ে শ্রমবাজারে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন, ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বহু খাতে কর্মসংস্থানের ধরন পাল্টে যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও একই বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক বছরে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন এমন কর্মীরা, যাদের কাজ সহজে প্রযুক্তি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব।

বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, ব্যাংকিং খাত, কলসেন্টার, খুচরা বিক্রি, পরিবহন, গণমাধ্যমের কিছু অংশ এবং নিম্নদক্ষ অফিসভিত্তিক চাকরিগুলো বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে রয়েছে। একইসঙ্গে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারা কর্মীদের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সব ক্ষেত্রে চাকরি পুরোপুরি হারিয়ে না গেলেও একই কাজ কম জনবল দিয়ে করার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে নতুন নিয়োগ কমে যাওয়া, বেতন স্থবির হয়ে পড়া এবং ধীরে ধীরে কর্মী ছাঁটাই বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে প্রায় ৭ শতাংশ চাকরি সরাসরি এআই-এর কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে, যদিও ১৫ শতাংশ চাকরিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্পে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ কাজ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে অটোমেটেড মেশিন, ডিজিটাল কাটিং, রোবোটিক সেলাই প্রযুক্তি এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর চাপের কারণে এই খাতের নিম্নদক্ষ শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ায় অনেক কারখানা এখন কম শ্রমিকে বেশি উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা শুধু একটি নির্দিষ্ট কাজ জানেন—যেমন সাধারণ সেলাই, প্যাকেজিং বা কাটিং—তাদের চাকরির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক ক্রয়াদেশের অনিশ্চয়তা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে মন্দাভাব, উচ্চ সুদহার এবং ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ার কারণে রফতানি আদেশেও চাপ তৈরি হয়েছে। একটি গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশের উৎপাদন খাতে প্রায় ১৪ লাখ কর্মসংস্থান হারিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদ উদযাপনের মধ্যে মর্মান্তিক ঘটনা: গলায় মাংস আটকে কিশোরের মৃত্যু

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের যুগে কোন খাতের চাকরি সবচেয়ে ঝুঁকিতে?

আপডেট সময় : ১০:১৭:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

বিশ্বজুড়ে শ্রমবাজারে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন, ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বহু খাতে কর্মসংস্থানের ধরন পাল্টে যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও একই বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক বছরে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন এমন কর্মীরা, যাদের কাজ সহজে প্রযুক্তি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব।

বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, ব্যাংকিং খাত, কলসেন্টার, খুচরা বিক্রি, পরিবহন, গণমাধ্যমের কিছু অংশ এবং নিম্নদক্ষ অফিসভিত্তিক চাকরিগুলো বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে রয়েছে। একইসঙ্গে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারা কর্মীদের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সব ক্ষেত্রে চাকরি পুরোপুরি হারিয়ে না গেলেও একই কাজ কম জনবল দিয়ে করার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে নতুন নিয়োগ কমে যাওয়া, বেতন স্থবির হয়ে পড়া এবং ধীরে ধীরে কর্মী ছাঁটাই বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে প্রায় ৭ শতাংশ চাকরি সরাসরি এআই-এর কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে, যদিও ১৫ শতাংশ চাকরিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্পে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ কাজ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে অটোমেটেড মেশিন, ডিজিটাল কাটিং, রোবোটিক সেলাই প্রযুক্তি এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর চাপের কারণে এই খাতের নিম্নদক্ষ শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ায় অনেক কারখানা এখন কম শ্রমিকে বেশি উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা শুধু একটি নির্দিষ্ট কাজ জানেন—যেমন সাধারণ সেলাই, প্যাকেজিং বা কাটিং—তাদের চাকরির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক ক্রয়াদেশের অনিশ্চয়তা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে মন্দাভাব, উচ্চ সুদহার এবং ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ার কারণে রফতানি আদেশেও চাপ তৈরি হয়েছে। একটি গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশের উৎপাদন খাতে প্রায় ১৪ লাখ কর্মসংস্থান হারিয়েছে।