ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নতুন গলার কাঁটা হিজবুল্লাহর ‘ফাইবার-অপটিক’ ড্রোন

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর গেরিলা যুদ্ধের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে সস্তা ও কার্যকর ফাইবার-অপটিক এফপিভি (ফার্স্ট-পার্সন-ভিউ) ড্রোন। এই প্রযুক্তির ড্রোনগুলো ইসরায়েলের আধুনিক সামরিক সরঞ্জামের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, এই ক্ষুদ্র ড্রোনগুলো নিখুঁতভাবে ইসরায়েলি ট্যাংক, বুলডোজার ও সেনাদলের ওপর আঘাত হানছে। একটি হামলায় ড্রোন শনাক্ত করার আগেই বিস্ফোরণে এক ইসরায়েলি সৈন্য নিহত ও ছয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ড্রোনগুলোর প্রধান বিশেষত্ব হলো এদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। সাধারণ ড্রোন রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও এগুলো কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ ফাইবার-অপটিক কেবলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে ইসরায়েলের উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা বা জ্যামিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ড্রোনের সংকেত বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। হিজবুল্লাহর দাবি, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা ইসরায়েলি মেরকাভা ট্যাংকের আধুনিক ‘ট্রফি’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, এই ক্ষুদ্র ড্রোনগুলো বর্তমানে তাদের জন্য বড় ধরনের হুমকি। এগুলো মোকাবিলায় নতুন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরির কাজ চলছে। জানা গেছে, সিরিয়া হয়ে ইরান থেকে অস্ত্র সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর হিজবুল্লাহ স্থানীয়ভাবে ড্রোন তৈরিতে মনোযোগ দিয়েছে। থ্রিডি প্রিন্টিং ও বাজারে সহজলভ্য যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে প্রতিটি ড্রোন তৈরিতে খরচ হচ্ছে মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার। ক্ষুদ্র ও দ্রুতগতির হওয়ায় এগুলোকে প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা আয়রন ডোম দিয়ে ঠেকানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কার্বন ক্রেডিট অর্জনে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নতুন গলার কাঁটা হিজবুল্লাহর ‘ফাইবার-অপটিক’ ড্রোন

আপডেট সময় : ০৭:৩৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর গেরিলা যুদ্ধের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে সস্তা ও কার্যকর ফাইবার-অপটিক এফপিভি (ফার্স্ট-পার্সন-ভিউ) ড্রোন। এই প্রযুক্তির ড্রোনগুলো ইসরায়েলের আধুনিক সামরিক সরঞ্জামের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, এই ক্ষুদ্র ড্রোনগুলো নিখুঁতভাবে ইসরায়েলি ট্যাংক, বুলডোজার ও সেনাদলের ওপর আঘাত হানছে। একটি হামলায় ড্রোন শনাক্ত করার আগেই বিস্ফোরণে এক ইসরায়েলি সৈন্য নিহত ও ছয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ড্রোনগুলোর প্রধান বিশেষত্ব হলো এদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। সাধারণ ড্রোন রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও এগুলো কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ ফাইবার-অপটিক কেবলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে ইসরায়েলের উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা বা জ্যামিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ড্রোনের সংকেত বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। হিজবুল্লাহর দাবি, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা ইসরায়েলি মেরকাভা ট্যাংকের আধুনিক ‘ট্রফি’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, এই ক্ষুদ্র ড্রোনগুলো বর্তমানে তাদের জন্য বড় ধরনের হুমকি। এগুলো মোকাবিলায় নতুন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরির কাজ চলছে। জানা গেছে, সিরিয়া হয়ে ইরান থেকে অস্ত্র সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর হিজবুল্লাহ স্থানীয়ভাবে ড্রোন তৈরিতে মনোযোগ দিয়েছে। থ্রিডি প্রিন্টিং ও বাজারে সহজলভ্য যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে প্রতিটি ড্রোন তৈরিতে খরচ হচ্ছে মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার। ক্ষুদ্র ও দ্রুতগতির হওয়ায় এগুলোকে প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা আয়রন ডোম দিয়ে ঠেকানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।