ঢাকা ১০:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

‘সায়েন্টোলজি স্পিডরান’: টম ক্রুজের ধর্ম নিয়ে বিশ্বজুড়ে টিকটকerদের উদ্ভট উন্মাদনা

‘সায়েন্টোলজি স্পিডরান’ নামটি শুনলে টম ক্রুজের দৌড়ানোর দৃশ্য মনে আসা স্বাভাবিক। কিন্তু বর্তমানে হলিউড বুলেভার্ড থেকে শুরু করে সিডনি ও ব্রিসবেনের রাস্তায় যা ঘটছে, তা কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়। এটি টিকটক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন এক উদ্ভট ট্রেন্ড, যা বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

এই উন্মাদনার সূত্রপাত হয় গত মার্চ মাসে, যখন সোহায়লি নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর লস অ্যাঞ্জেলেসের চার্চ অব সায়েন্টোলজিতে অতর্কিতে ঢুকে পড়ার একটি ভিডিও ধারণ করেন। ডিলিট হওয়ার আগে ভিডিওটি প্রায় ৯ কোটি বার দেখা হয়েছিল। এরপরই শুরু হয় অনুকরণ। একদল তরুণ সায়েন্টোলজি সেন্টারের ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে এবং ভিডিও ধারণ করে টিকটকে আপলোড করতে থাকে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো, ভবনের কত গভীরে পৌঁছানো যায় তা দেখা।

এই ঝটিকা অভিযানে অংশ নেওয়া তরুণরা নিজেদের পরিচয় লুকাতে বিচিত্র সব ছদ্মবেশ ব্যবহার করছে। কেউ ডাইনোসরের কস্টিউম পরছে, কেউ বিড়ালের মাস্ক, আবার কেউবা জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র ‘মিনিয়ন’ সেজে হাজির হচ্ছে। তারা ভবনের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করে সেখানে ঢোকার পরিকল্পনাও করছে। অনেকে আবার ভেতরে ঢুকে চিৎকার করে টম ক্রুজকে দেখতে চাচ্ছে।

আমেরিকা ও যুক্তরাজ্যের পর এই ট্রেন্ড এখন অস্ট্রেলিয়ার উপকূলেও ছড়িয়ে পড়েছে। গত শনিবার সিডনি ও ব্রিসবেনে সায়েন্টোলজি ভবনের সামনে শত শত তরুণ জড়ো হয়। সিডনিতে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ দাঙ্গা দমনকারী দল পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং দুজনকে গ্রেফতার করে। অন্যদিকে ব্রিসবেনে এক কিশোরকে পুলিশের গাড়ির ওপর বিএমএক্স সাইকেল চালাতে দেখা যায় এবং সেখানেও দুজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

১৯৫০-এর দশকে লেখক এল রন হাবার্ডের হাত ধরে এই চার্চের যাত্রা শুরু হয়। হলিউড তারকা টম ক্রুজ ও জন ট্রাভোল্টা এর বিখ্যাত অনুসারী। অস্ট্রেলিয়াতেও এর বড় বড় স্থাপনা ও অনুসারী রয়েছে। তবে এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল ধরে খুব নিয়ন্ত্রিত গোষ্ঠী হওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যদিও তারা বরাবরই তা অস্বীকার করে এসেছে।

এই সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড নিয়ে খুশি নন খোদ সায়েন্টোলজির সাবেক সদস্য ও সমালোচকরা। অভিনেত্রী লেয়াহ রেমিনি এই ট্রেন্ডের সমালোচনা করে এক্সে লিখেছেন, ‘সায়েন্টোলজির বিপদগুলো তুলে ধরার দিকে মনোযোগ দিন, একে তামাশায় পরিণত করবেন না।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্তে স্থিতিশীলতা চেয়ে ভারত-চীন: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ওপর জোর

‘সায়েন্টোলজি স্পিডরান’: টম ক্রুজের ধর্ম নিয়ে বিশ্বজুড়ে টিকটকerদের উদ্ভট উন্মাদনা

আপডেট সময় : ১০:৩৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

‘সায়েন্টোলজি স্পিডরান’ নামটি শুনলে টম ক্রুজের দৌড়ানোর দৃশ্য মনে আসা স্বাভাবিক। কিন্তু বর্তমানে হলিউড বুলেভার্ড থেকে শুরু করে সিডনি ও ব্রিসবেনের রাস্তায় যা ঘটছে, তা কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়। এটি টিকটক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন এক উদ্ভট ট্রেন্ড, যা বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

এই উন্মাদনার সূত্রপাত হয় গত মার্চ মাসে, যখন সোহায়লি নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর লস অ্যাঞ্জেলেসের চার্চ অব সায়েন্টোলজিতে অতর্কিতে ঢুকে পড়ার একটি ভিডিও ধারণ করেন। ডিলিট হওয়ার আগে ভিডিওটি প্রায় ৯ কোটি বার দেখা হয়েছিল। এরপরই শুরু হয় অনুকরণ। একদল তরুণ সায়েন্টোলজি সেন্টারের ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে এবং ভিডিও ধারণ করে টিকটকে আপলোড করতে থাকে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো, ভবনের কত গভীরে পৌঁছানো যায় তা দেখা।

এই ঝটিকা অভিযানে অংশ নেওয়া তরুণরা নিজেদের পরিচয় লুকাতে বিচিত্র সব ছদ্মবেশ ব্যবহার করছে। কেউ ডাইনোসরের কস্টিউম পরছে, কেউ বিড়ালের মাস্ক, আবার কেউবা জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র ‘মিনিয়ন’ সেজে হাজির হচ্ছে। তারা ভবনের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করে সেখানে ঢোকার পরিকল্পনাও করছে। অনেকে আবার ভেতরে ঢুকে চিৎকার করে টম ক্রুজকে দেখতে চাচ্ছে।

আমেরিকা ও যুক্তরাজ্যের পর এই ট্রেন্ড এখন অস্ট্রেলিয়ার উপকূলেও ছড়িয়ে পড়েছে। গত শনিবার সিডনি ও ব্রিসবেনে সায়েন্টোলজি ভবনের সামনে শত শত তরুণ জড়ো হয়। সিডনিতে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ দাঙ্গা দমনকারী দল পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং দুজনকে গ্রেফতার করে। অন্যদিকে ব্রিসবেনে এক কিশোরকে পুলিশের গাড়ির ওপর বিএমএক্স সাইকেল চালাতে দেখা যায় এবং সেখানেও দুজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

১৯৫০-এর দশকে লেখক এল রন হাবার্ডের হাত ধরে এই চার্চের যাত্রা শুরু হয়। হলিউড তারকা টম ক্রুজ ও জন ট্রাভোল্টা এর বিখ্যাত অনুসারী। অস্ট্রেলিয়াতেও এর বড় বড় স্থাপনা ও অনুসারী রয়েছে। তবে এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল ধরে খুব নিয়ন্ত্রিত গোষ্ঠী হওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যদিও তারা বরাবরই তা অস্বীকার করে এসেছে।

এই সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড নিয়ে খুশি নন খোদ সায়েন্টোলজির সাবেক সদস্য ও সমালোচকরা। অভিনেত্রী লেয়াহ রেমিনি এই ট্রেন্ডের সমালোচনা করে এক্সে লিখেছেন, ‘সায়েন্টোলজির বিপদগুলো তুলে ধরার দিকে মনোযোগ দিন, একে তামাশায় পরিণত করবেন না।’