প্রশান্ত মহাসাগরে একটি শক্তিশালী ‘এল নিনো’ আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরির জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা ‘সুপার এল নিনো’তে রূপ নিলে গত ১৪০ বছরের তাপমাত্রার সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উষ্ণ হয়ে ওঠার এই প্রক্রিয়াটি বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়া বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বিভিন্ন আবহাওয়া মডেল অনুযায়ী, আগামী গ্রীষ্মে এই পরিস্থিতি তৈরির সম্ভাবনা প্রায় ৬২ শতাংশ। যদি সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়ে যায়, তবে এটি ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনোতে পরিণত হবে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক কৃষি, স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতে।

এই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বায়ুমণ্ডলের বায়ুপ্রবাহের ধরন বদলে গিয়ে পৃথিবীর এক প্রান্তে ভয়াবহ খরা এবং অন্য প্রান্তে বিধ্বংসী বন্যার ঝুঁকি তৈরি হবে। সাধারণত এর প্রভাবে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও আমাজন রেইনফরেস্ট এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরা দেখা দেয়; অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার প্রবণতা বাড়ে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো সতর্ক করেছেন যে, এল নিনোর প্রভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন চরম আকার ধারণ করতে পারে। তাই সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে এখন থেকেই বিশ্বজুড়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

রিপোর্টারের নাম 

























