আগামীর উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ রূপরেখা বাস্তবায়নে এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় তিনি কেবল দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্কই করেননি, বরং মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাসহ নিজস্ব মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করেছেন। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মাথায় দুই জন মন্ত্রী, তিন জন প্রতিমন্ত্রী এবং অন্তত ২৩ জন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ আমলনামা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা পড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর পদক্ষেপকে দেশে সুশাসন ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি বলিষ্ঠ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতারা।
১৭ বছরের দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে তারেক রহমান যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নে তিনি এখন আপোষহীন। রাষ্ট্রপরিচালনার শুরুতেই তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, ক্ষমতা কোনো ব্যক্তিগত সুবিধার হাতিয়ার নয়, বরং জনগণের আমানত। এই দর্শন বাস্তবায়নে গোয়েন্দা সংস্থাকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যেন তারা নিয়মিত বিরতিতে মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদ, ব্যবসায়িক লেনদেন এবং প্রশাসনিক আচরণের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর এই আপডেট দেওয়ার একটি কাঠামোবদ্ধ পদ্ধতি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। বিশেষ করে টেন্ডারবাজি, কমিশন বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য এবং পরিবারতন্ত্রের মতো অনিয়মগুলো রোধ করাই এই নজরদারির মূল লক্ষ্য।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে আসা প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, কিছু মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর কেন্দ্রিক ব্যবসায় অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, ব্যাংক কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ফোন দেওয়া এবং নির্বাচনী এলাকায় প্রতিপক্ষের ওপর হামলায় নীরব থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া অনেক সংসদ সদস্যের এপিএসদের বিরুদ্ধেও অনৈতিক সুবিধা আদায়ের তথ্য সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে তদবিরবাজদের তালিকা তৈরির পাশাপাশি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সপ্তাহে দুই দিন দলীয় কার্যালয়ে বসার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে সরকারি দপ্তরে অপ্রয়োজনীয় ভিড় কমে এবং প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘ ৩৫ বছরের নারী নেতৃত্বের অবসান ঘটিয়ে ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া তারেক রহমান ক্ষমতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে একটি নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছেন। ৫ আগস্ট পরবর্তী নতুন রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করাই এখন তার সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যদি দ্রুত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়, তবেই নতুন এই রাষ্ট্রকাঠামোর প্রতি জনমনে গভীর বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর ও প্রতিরোধমূলক কৌশল ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























