ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের হজের অনুমতি দেবে না সৌদি আরব, স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কড়াকড়ি

সৌদি সরকার জানিয়েছে, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এ বছর হজ পালনের অনুমতি দেওয়া হবে না। এজন্য হজযাত্রী পাঠায় এমন সব দেশের কর্তৃপক্ষকে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় অনুরোধ করেছে, তারা যেন প্রত্যেক হজযাত্রীর সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করেন। হজযাত্রীর কোনো স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেই, এমন একটি প্রত্যয়নপত্রও জমা দিতে হবে।

এই বিষয়ে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন দেশে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেই চিঠিতে বিস্তারিতভাবে বলে দেওয়া হয়েছে যে, ঠিক কোন কোন শারীরিক অবস্থায় একজন হজযাত্রীকে হজের অনুমতি দেওয়া হবে না।

চিঠিতে বলা হয়েছে, কোনো হজযাত্রীর শরীরের প্রধান অঙ্গগুলো যদি অকার্যকর থাকে, তবে তিনি অনুমতি পাবেন না। এর মধ্যে রয়েছে: ডায়ালাইসিস চলছে এমন কিডনি রোগী, মারাত্মক হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, ফুসফুসের এমন রোগী যার সবসময় অক্সিজেন প্রয়োজন হয় এবং ভয়াবহ লিভার সিরোসিস। এছাড়াও, গুরুতর স্নায়বিক বা মানসিক রোগ, স্মৃতিভ্রষ্ট (ডিমেনশিয়া) রোগী, খুব বেশি বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভাবস্থার শেষ ধাপে থাকা নারী এবং যেকোনো ধরনের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্বাবস্থাতেও হজের অনুমতি পাওয়া যাবে না।

যক্ষ্মা বা ভাইরাল হেমোরেজিক জ্বরের মতো সংক্রামক ব্যাধি থাকলেও হজে যাওয়া যাবে না। এমনকি ক্যানসারে আক্রান্ত কোনো রোগী যদি কেমোথেরাপি বা অন্য কোনো নিবিড় ইমিউনোথেরাপি চিকিৎসা নিতে থাকেন, সৌদি সরকার তাকেও হজের অনুমতি দেবে না।

সৌদি আরব অনুরোধ করেছে, হজযাত্রী পাঠানো দেশগুলোর কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই ‘নুসুক মাসার’ প্ল্যাটফর্মে প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য একটি বৈধ স্বাস্থ্যসনদ ইস্যু করতে হবে, যেখানে প্রত্যয়ন করা থাকবে যে ওই হজযাত্রী স্বাস্থ্যগত দিক থেকে ঝুঁকিমুক্ত।

চিঠিতে আরও বলা হয়, হজযাত্রীদের আগমন ও বহির্গমনের সময় তদারকিতে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। মনিটরিং দল ‘নুসুক মাসার’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইস্যু করা স্বাস্থ্য সনদের সত্যতা ও নির্ভুলতা যাচাই করবে। যদি কোনো দেশের হজযাত্রীর মধ্যে তালিকাভুক্ত কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা পাওয়া যায়, তবে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় সেই দেশের বিরুদ্ধে সংশোধনমূলক এবং নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেবে।

এই প্রসঙ্গে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, “মসৃণ ও নিরাপদ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য শারীরিক সক্ষমতা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী পাঠানোর সময় সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সব বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মেনে চলা হবে।”

ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, হজের নিবন্ধন শুরু হওয়ার আগেই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিবন্ধন না করার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল। হজ এজেন্সিগুলোকেও এই বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়মগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পেতে সৌদি সরকারের অনুরোধে দুজন বাংলাদেশি চিকিৎসক বর্তমানে সৌদি আরবে একটি কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিল্প-সাহিত্যচর্চা রাজনীতির ঊর্ধ্বে: প্রধানমন্ত্রী

গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের হজের অনুমতি দেবে না সৌদি আরব, স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কড়াকড়ি

আপডেট সময় : ০৪:৩৭:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

সৌদি সরকার জানিয়েছে, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এ বছর হজ পালনের অনুমতি দেওয়া হবে না। এজন্য হজযাত্রী পাঠায় এমন সব দেশের কর্তৃপক্ষকে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় অনুরোধ করেছে, তারা যেন প্রত্যেক হজযাত্রীর সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করেন। হজযাত্রীর কোনো স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেই, এমন একটি প্রত্যয়নপত্রও জমা দিতে হবে।

এই বিষয়ে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন দেশে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেই চিঠিতে বিস্তারিতভাবে বলে দেওয়া হয়েছে যে, ঠিক কোন কোন শারীরিক অবস্থায় একজন হজযাত্রীকে হজের অনুমতি দেওয়া হবে না।

চিঠিতে বলা হয়েছে, কোনো হজযাত্রীর শরীরের প্রধান অঙ্গগুলো যদি অকার্যকর থাকে, তবে তিনি অনুমতি পাবেন না। এর মধ্যে রয়েছে: ডায়ালাইসিস চলছে এমন কিডনি রোগী, মারাত্মক হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, ফুসফুসের এমন রোগী যার সবসময় অক্সিজেন প্রয়োজন হয় এবং ভয়াবহ লিভার সিরোসিস। এছাড়াও, গুরুতর স্নায়বিক বা মানসিক রোগ, স্মৃতিভ্রষ্ট (ডিমেনশিয়া) রোগী, খুব বেশি বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভাবস্থার শেষ ধাপে থাকা নারী এবং যেকোনো ধরনের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্বাবস্থাতেও হজের অনুমতি পাওয়া যাবে না।

যক্ষ্মা বা ভাইরাল হেমোরেজিক জ্বরের মতো সংক্রামক ব্যাধি থাকলেও হজে যাওয়া যাবে না। এমনকি ক্যানসারে আক্রান্ত কোনো রোগী যদি কেমোথেরাপি বা অন্য কোনো নিবিড় ইমিউনোথেরাপি চিকিৎসা নিতে থাকেন, সৌদি সরকার তাকেও হজের অনুমতি দেবে না।

সৌদি আরব অনুরোধ করেছে, হজযাত্রী পাঠানো দেশগুলোর কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই ‘নুসুক মাসার’ প্ল্যাটফর্মে প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য একটি বৈধ স্বাস্থ্যসনদ ইস্যু করতে হবে, যেখানে প্রত্যয়ন করা থাকবে যে ওই হজযাত্রী স্বাস্থ্যগত দিক থেকে ঝুঁকিমুক্ত।

চিঠিতে আরও বলা হয়, হজযাত্রীদের আগমন ও বহির্গমনের সময় তদারকিতে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। মনিটরিং দল ‘নুসুক মাসার’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইস্যু করা স্বাস্থ্য সনদের সত্যতা ও নির্ভুলতা যাচাই করবে। যদি কোনো দেশের হজযাত্রীর মধ্যে তালিকাভুক্ত কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা পাওয়া যায়, তবে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় সেই দেশের বিরুদ্ধে সংশোধনমূলক এবং নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেবে।

এই প্রসঙ্গে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, “মসৃণ ও নিরাপদ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য শারীরিক সক্ষমতা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী পাঠানোর সময় সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সব বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মেনে চলা হবে।”

ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, হজের নিবন্ধন শুরু হওয়ার আগেই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিবন্ধন না করার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল। হজ এজেন্সিগুলোকেও এই বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়মগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পেতে সৌদি সরকারের অনুরোধে দুজন বাংলাদেশি চিকিৎসক বর্তমানে সৌদি আরবে একটি কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন।