ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আবু সাঈদ হত্যা: মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বিচার জানুয়ারির মধ্যে শেষ করতে আশাবাদী প্রসিকিউশন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারকাজ আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা করছে প্রসিকিউশন।

সোমবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এই আশার কথাটি জানান।

তিনি বলেন, “এই মামলায় বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জন আসামি রয়েছেন। আজ ১২ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া শেষ হয়েছে। আমরা আশা করছি, আর ৩০ থেকে ৩৫ জনের জবানবন্দি নিয়েই সাক্ষ্যগ্রহণের পর্ব শেষ করতে পারবো। তবে নির্বাচনের আগে বা পরে ঠিক কখন রায় হবে, তা বলার এখতিয়ার আমাদের নেই। আমরা আশা করছি, জানুয়ারি মাসের মধ্যেই এই বিচারকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।”

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আজ ১২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে যিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন, তিনি হলেন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়েরই আরেক শিক্ষার্থী আকিব রেজা খান। আকিবই সেদিন আবু সাঈদকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর জন্য রিকশায় তুলে দিয়েছিলেন। তিনি এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়ী করেছেন। একইসাথে তিনি পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং বেরোবির কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর নামও উল্লেখ করেন। এই সাক্ষী দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা, নীরবতা এবং গাফিলতির কারণেই সেদিন এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল।

আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল তার (আকিবের) জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষ বা প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তার সঙ্গে আরও ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, মঈনুল করিম, সহিদুল ইসলাম এবং অন্যান্যরা।

এর আগে গত ৪ নভেম্বর এই সাক্ষ্যগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু সেদিন সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তা পিছিয়ে আজকের দিনটি ধার্য করেন। শুধু তাই নয়, এর আগেও ২১ অক্টোবর এবং ১৩ অক্টোবর সাক্ষী হাজির করতে না পারায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সময় পেছানোর আবেদন করা হয়েছিল।

এই মামলায় এখন পর্যন্ত যে ছয়জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা হলেন– এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের তাণ্ডব: গুলিতে প্রাণ হারালেন কুতুবদিয়ার এক জেলে

আবু সাঈদ হত্যা: মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বিচার জানুয়ারির মধ্যে শেষ করতে আশাবাদী প্রসিকিউশন

আপডেট সময় : ০৪:০৮:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারকাজ আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা করছে প্রসিকিউশন।

সোমবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এই আশার কথাটি জানান।

তিনি বলেন, “এই মামলায় বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জন আসামি রয়েছেন। আজ ১২ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া শেষ হয়েছে। আমরা আশা করছি, আর ৩০ থেকে ৩৫ জনের জবানবন্দি নিয়েই সাক্ষ্যগ্রহণের পর্ব শেষ করতে পারবো। তবে নির্বাচনের আগে বা পরে ঠিক কখন রায় হবে, তা বলার এখতিয়ার আমাদের নেই। আমরা আশা করছি, জানুয়ারি মাসের মধ্যেই এই বিচারকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।”

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আজ ১২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে যিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন, তিনি হলেন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়েরই আরেক শিক্ষার্থী আকিব রেজা খান। আকিবই সেদিন আবু সাঈদকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর জন্য রিকশায় তুলে দিয়েছিলেন। তিনি এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়ী করেছেন। একইসাথে তিনি পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং বেরোবির কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর নামও উল্লেখ করেন। এই সাক্ষী দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা, নীরবতা এবং গাফিলতির কারণেই সেদিন এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল।

আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল তার (আকিবের) জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষ বা প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তার সঙ্গে আরও ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, মঈনুল করিম, সহিদুল ইসলাম এবং অন্যান্যরা।

এর আগে গত ৪ নভেম্বর এই সাক্ষ্যগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু সেদিন সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তা পিছিয়ে আজকের দিনটি ধার্য করেন। শুধু তাই নয়, এর আগেও ২১ অক্টোবর এবং ১৩ অক্টোবর সাক্ষী হাজির করতে না পারায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সময় পেছানোর আবেদন করা হয়েছিল।

এই মামলায় এখন পর্যন্ত যে ছয়জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা হলেন– এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।