ঢাকা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লাঠিচার্জ এড়াতে শিক্ষকদের ‘মোনাজাতের কৌশল’, প্রেস ক্লাব এলাকায় পুলিশের জলকামান

নন-এমপিও শিক্ষকরা তাঁদের বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। প্রথমে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এরপরও শিক্ষকরা পিছু না হটলে পুলিশ তাঁদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করে।

নন-এমপিও শিক্ষকদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি এবং প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও পুলিশের এই আচরণের শিকার হন। ঠিক সেই মুহূর্তে, পুলিশের চড়াও হওয়া থেকে বাঁচতে ইবতেদায়ি শিক্ষকরা এক অভিনব কৌশল নেন—তাঁরা সবাই মিলে সম্মিলিত মোনাজাতে বসে পড়েন।

পুলিশ সদস্যরা মোনাজাতরত ইবতেদায়ি শিক্ষকদের চারদিক থেকে কিছুক্ষণের জন্য ঘিরে রাখলেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের সরিয়ে দেননি। কিছুক্ষণ পর পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে শিক্ষকরাও মোনাজাত শেষ করেন এবং আবারও নিজেদের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

রবিবার (৯ নভেম্বর) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঘটা এই দৃশ্যে উপস্থিত পুলিশ সদস্য ও উৎসুক সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।

তবে ইবতেদায়ি শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তাঁরা মাদরাসার শিক্ষক এবং ইসলাম ধর্মের অনুসারী। সেই বিশ্বাস থেকেই যেকোনো বিপদ-আপদ এলে তাঁরা আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে দুই হাত তুলে মোনাজাত বা দোয়া করে থাকেন।

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থেকে আন্দোলনে আসা ইবতেদায়ি শিক্ষক মাওলানা আব্দুল মান্নান ‘জাগো নিউজ’কে বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি পালন করছি। পুলিশের সঙ্গে কোনো রকম ঝামেলায় জড়াইনি। তাহলে তারা কেন অযথা আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করতে আসবে? আমাদের নেতারাই এই সম্মিলিত মোনাজাতের মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝামেলা থেকে শিক্ষকদের রক্ষা করেছেন।”

হঠাৎ করে মোনাজাত শুরু করার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “ইসলাম আমাদের এটাই শিখিয়েছে যে, যেকোনো বালা-মুসিবত এলেই আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানাতে হবে। আল্লাহই তো সব বিপদ থেকে রক্ষা করবেন। এখানে ঠিক সেটাই ঘটেছে। এটা নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করার কিছু নেই। আমরা প্রায় সময়ই এমন মোনাজাত করি।”

জানা যায়, সরকারের অত্যন্ত অল্প অনুদানের ওপর ভর করে প্রায় ৪০ বছর ধরে এই ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলো পরিচালিত হয়ে আসছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও শিক্ষকরা ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণের দাবিতে টানা আন্দোলন করেছিলেন। সেই আন্দোলনের মুখে সরকার গত ২৮ জানুয়ারি ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ করার ঘোষণাও দিয়েছিল।

তবে তখন জানানো হয়েছিল, সরাসরি জাতীয়করণের আগে ধাপে ধাপে মাদরাসাগুলোকে প্রথমে এমপিওভুক্ত করা হবে। কিন্তু সেই আশ্বাস দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষকরা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সমঝোতার চাঁদা বৈধ হলেও চাঁদাবাজি রুখতে কঠোর হুঁশিয়ারি নৌমন্ত্রীর

লাঠিচার্জ এড়াতে শিক্ষকদের ‘মোনাজাতের কৌশল’, প্রেস ক্লাব এলাকায় পুলিশের জলকামান

আপডেট সময় : ০৫:৫৬:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

নন-এমপিও শিক্ষকরা তাঁদের বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। প্রথমে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এরপরও শিক্ষকরা পিছু না হটলে পুলিশ তাঁদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করে।

নন-এমপিও শিক্ষকদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি এবং প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও পুলিশের এই আচরণের শিকার হন। ঠিক সেই মুহূর্তে, পুলিশের চড়াও হওয়া থেকে বাঁচতে ইবতেদায়ি শিক্ষকরা এক অভিনব কৌশল নেন—তাঁরা সবাই মিলে সম্মিলিত মোনাজাতে বসে পড়েন।

পুলিশ সদস্যরা মোনাজাতরত ইবতেদায়ি শিক্ষকদের চারদিক থেকে কিছুক্ষণের জন্য ঘিরে রাখলেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের সরিয়ে দেননি। কিছুক্ষণ পর পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে শিক্ষকরাও মোনাজাত শেষ করেন এবং আবারও নিজেদের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

রবিবার (৯ নভেম্বর) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঘটা এই দৃশ্যে উপস্থিত পুলিশ সদস্য ও উৎসুক সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।

তবে ইবতেদায়ি শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তাঁরা মাদরাসার শিক্ষক এবং ইসলাম ধর্মের অনুসারী। সেই বিশ্বাস থেকেই যেকোনো বিপদ-আপদ এলে তাঁরা আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে দুই হাত তুলে মোনাজাত বা দোয়া করে থাকেন।

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থেকে আন্দোলনে আসা ইবতেদায়ি শিক্ষক মাওলানা আব্দুল মান্নান ‘জাগো নিউজ’কে বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি পালন করছি। পুলিশের সঙ্গে কোনো রকম ঝামেলায় জড়াইনি। তাহলে তারা কেন অযথা আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করতে আসবে? আমাদের নেতারাই এই সম্মিলিত মোনাজাতের মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝামেলা থেকে শিক্ষকদের রক্ষা করেছেন।”

হঠাৎ করে মোনাজাত শুরু করার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “ইসলাম আমাদের এটাই শিখিয়েছে যে, যেকোনো বালা-মুসিবত এলেই আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানাতে হবে। আল্লাহই তো সব বিপদ থেকে রক্ষা করবেন। এখানে ঠিক সেটাই ঘটেছে। এটা নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করার কিছু নেই। আমরা প্রায় সময়ই এমন মোনাজাত করি।”

জানা যায়, সরকারের অত্যন্ত অল্প অনুদানের ওপর ভর করে প্রায় ৪০ বছর ধরে এই ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলো পরিচালিত হয়ে আসছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও শিক্ষকরা ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণের দাবিতে টানা আন্দোলন করেছিলেন। সেই আন্দোলনের মুখে সরকার গত ২৮ জানুয়ারি ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ করার ঘোষণাও দিয়েছিল।

তবে তখন জানানো হয়েছিল, সরাসরি জাতীয়করণের আগে ধাপে ধাপে মাদরাসাগুলোকে প্রথমে এমপিওভুক্ত করা হবে। কিন্তু সেই আশ্বাস দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষকরা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।