ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিচ্ছে কাজাখস্তান, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৪:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছেন যে, মধ্য এশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ কাজাখস্তান ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে যাচ্ছে। এই লক্ষ্যেই দেশটি ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’-এ যোগ দিচ্ছে, যা মুসলিম বিশ্বের সাথে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য গঠিত হয়েছিল।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং কাজাখ প্রেসিডেন্ট কাসিম জোমারত তোকায়েভের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এরপর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ লিখেছেন, “খুব শিগগিরই আমরা একটি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেব। এই শক্তিশালী জোটে আরও অনেক দেশ যোগ দিতে চায়।”

কাজাখস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তারা জানিয়েছে, “আব্রাহাম চুক্তিতে আমাদের যোগদান কাজাখস্তানের বৈদেশিক নীতির একটি স্বাভাবিক ও যৌক্তিক ধারাবাহিকতা মাত্র, যা সংলাপ, পারস্পরিক সম্মান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত।”

কাজাখস্তানের সাথে ইসরায়েলের ইতোমধ্যেই পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক যোগাযোগ চালু রয়েছে। একারণে, এই উদ্যোগটিকে মূলত একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, এই বিষয়টি শুধু কূটনৈতিক সীমার মধ্যেই থাকবে না, বরং এটি অংশীদারত্বের এমন এক নতুন ধারা তৈরি করবে, যার মাধ্যমে দেশগুলো অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক ক্ষেত্রে একযোগে কাজ করতে পারবে।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কাজাখ প্রেসিডেন্ট তোকায়েভ ছাড়াও মধ্য এশিয়ার আরও চারটি দেশ—কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানের—নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। রাশিয়া-প্রভাবিত এবং চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বাড়তে থাকা এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। ট্রাম্প বলেন, “এখানে উপস্থিত দেশগুলোর মধ্যেও কিছু দেশ আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেবে, খুব শিগগিরই সেসব ঘোষণাও আসবে।”

ফ্লোরিডায় এক ব্যবসায়ী ফোরামে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছিলেন যে, তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেওয়ার জন্য ওয়াশিংটনে ফিরছেন। যদিও তিনি তখন নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তবে পরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায় যে, সেই দেশটিই হলো কাজাখস্তান।

যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, কাজাখস্তানের এই যোগদান ‘আব্রাহাম চুক্তি’-কে নতুন করে গতি দেবে, যা গাজা যুদ্ধের পর থেকে অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছিল। ট্রাম্প এর আগেও বলেছেন যে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম মেয়াদে তিনি যেভাবে এই চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেছিলেন, তিনি সেটিকে আরও বাড়াতে চান।

২০২০ সালে ট্রাম্পের মধ্যস্থতাতেই সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। সেই বছরের শেষের দিকে মরক্কোও এই জোটে যোগ দেয়। গাজায় যুদ্ধবিরতির পর ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন যে, সৌদি আরবও শেষ পর্যন্ত এই চুক্তিতে যুক্ত হবে। তবে রিয়াদ এখনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা ছাড়া এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতিতে রাজি নয়।

জানা গেছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আগামী ১৮ নভেম্বর হোয়াইট হাউস সফর করবেন। এদিকে, মধ্য এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ, বিশেষ করে আজারবাইজান ও উজবেকিস্তান, যাদের সাথে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, তাদেরও এই চুক্তির সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, কাজাখস্তানের মোট জনসংখ্যার ৬৯ দশমিক ৩ শতাংশ মুসলিম, ১৭ দশমিক ২ শতাংশ খ্রিষ্টান, ২ দশমিক ৩ শতাংশ ধর্মনিরপেক্ষ এবং ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মানুষ নিজেদের নাস্তিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কার সংসদে না হলে ফয়সালা হবে রাজপথে: এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ

আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিচ্ছে কাজাখস্তান, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা

আপডেট সময় : ১০:৫৪:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছেন যে, মধ্য এশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ কাজাখস্তান ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে যাচ্ছে। এই লক্ষ্যেই দেশটি ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’-এ যোগ দিচ্ছে, যা মুসলিম বিশ্বের সাথে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য গঠিত হয়েছিল।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং কাজাখ প্রেসিডেন্ট কাসিম জোমারত তোকায়েভের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এরপর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ লিখেছেন, “খুব শিগগিরই আমরা একটি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেব। এই শক্তিশালী জোটে আরও অনেক দেশ যোগ দিতে চায়।”

কাজাখস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তারা জানিয়েছে, “আব্রাহাম চুক্তিতে আমাদের যোগদান কাজাখস্তানের বৈদেশিক নীতির একটি স্বাভাবিক ও যৌক্তিক ধারাবাহিকতা মাত্র, যা সংলাপ, পারস্পরিক সম্মান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত।”

কাজাখস্তানের সাথে ইসরায়েলের ইতোমধ্যেই পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক যোগাযোগ চালু রয়েছে। একারণে, এই উদ্যোগটিকে মূলত একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, এই বিষয়টি শুধু কূটনৈতিক সীমার মধ্যেই থাকবে না, বরং এটি অংশীদারত্বের এমন এক নতুন ধারা তৈরি করবে, যার মাধ্যমে দেশগুলো অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক ক্ষেত্রে একযোগে কাজ করতে পারবে।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কাজাখ প্রেসিডেন্ট তোকায়েভ ছাড়াও মধ্য এশিয়ার আরও চারটি দেশ—কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানের—নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। রাশিয়া-প্রভাবিত এবং চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বাড়তে থাকা এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। ট্রাম্প বলেন, “এখানে উপস্থিত দেশগুলোর মধ্যেও কিছু দেশ আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেবে, খুব শিগগিরই সেসব ঘোষণাও আসবে।”

ফ্লোরিডায় এক ব্যবসায়ী ফোরামে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছিলেন যে, তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেওয়ার জন্য ওয়াশিংটনে ফিরছেন। যদিও তিনি তখন নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তবে পরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায় যে, সেই দেশটিই হলো কাজাখস্তান।

যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, কাজাখস্তানের এই যোগদান ‘আব্রাহাম চুক্তি’-কে নতুন করে গতি দেবে, যা গাজা যুদ্ধের পর থেকে অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছিল। ট্রাম্প এর আগেও বলেছেন যে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম মেয়াদে তিনি যেভাবে এই চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেছিলেন, তিনি সেটিকে আরও বাড়াতে চান।

২০২০ সালে ট্রাম্পের মধ্যস্থতাতেই সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। সেই বছরের শেষের দিকে মরক্কোও এই জোটে যোগ দেয়। গাজায় যুদ্ধবিরতির পর ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন যে, সৌদি আরবও শেষ পর্যন্ত এই চুক্তিতে যুক্ত হবে। তবে রিয়াদ এখনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা ছাড়া এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতিতে রাজি নয়।

জানা গেছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আগামী ১৮ নভেম্বর হোয়াইট হাউস সফর করবেন। এদিকে, মধ্য এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ, বিশেষ করে আজারবাইজান ও উজবেকিস্তান, যাদের সাথে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, তাদেরও এই চুক্তির সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, কাজাখস্তানের মোট জনসংখ্যার ৬৯ দশমিক ৩ শতাংশ মুসলিম, ১৭ দশমিক ২ শতাংশ খ্রিষ্টান, ২ দশমিক ৩ শতাংশ ধর্মনিরপেক্ষ এবং ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মানুষ নিজেদের নাস্তিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।