মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬

লিবিয়ায় জিম্মি বাংলাদেশি যুবকদের আর্তনাদ: ‘মা বাঁচাও, টাকা না দিলে ওরা মেরে ফেলবে’

সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার ১৩ জন যুবক ইটালি যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে বাড়ি ছেড়েছিল, কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন ইউরোপ পৌঁছানোর আগেই লিবিয়ায় এক মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে ধূলিসাৎ হয়েছে।

মোবাইল ফোনে ভিডিও কলে ছেলের করুণ আর্তনাদ শুনে পরিবারগুলো শোকে মুহ্যমান। ‘মা আমাকে বাঁচাও, বাবা আমাকে বাঁচাও, টাকা না দিলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। জায়গা জমি ঘর বাড়ি বিক্রি করে হলেও আমাকে বাঁচাও’—এই আকুতি তাদের। জামালগঞ্জ উপজেলার ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে ফেনারবাক ইউনিয়নের নাজিমনগর গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে এই আহাজারি কথা জানা যায়।

নাজিমনগর গ্রামের মৃত আব্দুস শহিদ (মন্টু) এর স্ত্রী দিলোয়ারা বেগম, তাঁর ছেলে হুমায়ুন এবং জামাতা ভীমখালী ইউনিয়নের কলকতখা গ্রামের মৃত আব্দুল বারিক এর ছেলে নজরুল ইসলাম নামীয় আদম বেপারির খপ্পরে পড়ে এই যুবকদের পরিবার। তারা ১৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ইটালি যাওয়ার মৌখিক চুক্তি করেছিল।

ইটালিগামী যুবকদের মধ্যে রয়েছেন নাজিমনগর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে নিলয় মিয়া (২২), রাশিদ আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩২), এখলাছ মিয়ার ছেলে আমিনূল ইসলাম (২৫), নূরু মিয়ার দুই ছেলে ইয়াছিন মিয়া (৩০) ও জীবন মিয়া (২৫), টুনু মিয়ার ছেলে আব্দুল কাইয়ুম (২৬), রাশিদ মিয়ার ছেলে আতাউর রহমান (২৮), ফয়জুন নূরের ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৪), শহিদ মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া (২৭), বাচ্চু মিয়ার ছেলে এনামূল হক (২৬), জলিল মিয়ার ছেলে আতাউর রহমান (২৯)। এছাড়াও জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের নয়াহালট গ্রামের সামছু মিয়ার ছেলে আবুল হামজা (২৫) এবং সাচনা কালীবাড়ি গ্রামের মো. ফুল মিয়ার ছেলে আবুল কালাম এই দলে ছিলেন।

তারা গত ২৮ জানুয়ারি বাড়ি থেকে বের হয়ে আবুধাবি, কুয়েত ও মিশর হয়ে লিবিয়া পৌঁছায়। লিবিয়ার একটি মাফিয়া চক্র ২৫ ফেব্রুয়ারি তাদেরকে জিম্মি করে রাখে। এদের মধ্যে নূরু মিয়ার ছেলে ইয়াছিন মিয়া (৩০) পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও লিবিয়ার পুলিশের হাতে ধরা পড়ে বর্তমানে জেলে বন্দী রয়েছেন। মাফিয়া চক্র জিম্মি প্রতিজনের মুক্তিপণ হিসেবে ২৬ লাখ টাকা দাবি করে। তবে, দর কষাকষির পর ১২ লাখ টাকায় ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে বলে জিম্মিদের অভিভাবকরা জানিয়েছেন।

বর্তমানে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে জিম্মি থাকা অবস্থায় তারা জানায়, তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছে। মাফিয়া চক্র ভিডিও কলে সেই নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে প্রত্যেকের পরিবারের কাছে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি পরিবার তাদের সন্তানের ওপর নির্যাতন বন্ধ করার জন্য কিছু টাকা পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের বিচার দাবিতে নতুন উপাচার্যের দিকে তাকিয়ে শিক্ষার্থীরা

লিবিয়ায় জিম্মি বাংলাদেশি যুবকদের আর্তনাদ: ‘মা বাঁচাও, টাকা না দিলে ওরা মেরে ফেলবে’

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার ১৩ জন যুবক ইটালি যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে বাড়ি ছেড়েছিল, কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন ইউরোপ পৌঁছানোর আগেই লিবিয়ায় এক মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে ধূলিসাৎ হয়েছে।

মোবাইল ফোনে ভিডিও কলে ছেলের করুণ আর্তনাদ শুনে পরিবারগুলো শোকে মুহ্যমান। ‘মা আমাকে বাঁচাও, বাবা আমাকে বাঁচাও, টাকা না দিলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। জায়গা জমি ঘর বাড়ি বিক্রি করে হলেও আমাকে বাঁচাও’—এই আকুতি তাদের। জামালগঞ্জ উপজেলার ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে ফেনারবাক ইউনিয়নের নাজিমনগর গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে এই আহাজারি কথা জানা যায়।

নাজিমনগর গ্রামের মৃত আব্দুস শহিদ (মন্টু) এর স্ত্রী দিলোয়ারা বেগম, তাঁর ছেলে হুমায়ুন এবং জামাতা ভীমখালী ইউনিয়নের কলকতখা গ্রামের মৃত আব্দুল বারিক এর ছেলে নজরুল ইসলাম নামীয় আদম বেপারির খপ্পরে পড়ে এই যুবকদের পরিবার। তারা ১৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ইটালি যাওয়ার মৌখিক চুক্তি করেছিল।

ইটালিগামী যুবকদের মধ্যে রয়েছেন নাজিমনগর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে নিলয় মিয়া (২২), রাশিদ আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩২), এখলাছ মিয়ার ছেলে আমিনূল ইসলাম (২৫), নূরু মিয়ার দুই ছেলে ইয়াছিন মিয়া (৩০) ও জীবন মিয়া (২৫), টুনু মিয়ার ছেলে আব্দুল কাইয়ুম (২৬), রাশিদ মিয়ার ছেলে আতাউর রহমান (২৮), ফয়জুন নূরের ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৪), শহিদ মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া (২৭), বাচ্চু মিয়ার ছেলে এনামূল হক (২৬), জলিল মিয়ার ছেলে আতাউর রহমান (২৯)। এছাড়াও জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের নয়াহালট গ্রামের সামছু মিয়ার ছেলে আবুল হামজা (২৫) এবং সাচনা কালীবাড়ি গ্রামের মো. ফুল মিয়ার ছেলে আবুল কালাম এই দলে ছিলেন।

তারা গত ২৮ জানুয়ারি বাড়ি থেকে বের হয়ে আবুধাবি, কুয়েত ও মিশর হয়ে লিবিয়া পৌঁছায়। লিবিয়ার একটি মাফিয়া চক্র ২৫ ফেব্রুয়ারি তাদেরকে জিম্মি করে রাখে। এদের মধ্যে নূরু মিয়ার ছেলে ইয়াছিন মিয়া (৩০) পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও লিবিয়ার পুলিশের হাতে ধরা পড়ে বর্তমানে জেলে বন্দী রয়েছেন। মাফিয়া চক্র জিম্মি প্রতিজনের মুক্তিপণ হিসেবে ২৬ লাখ টাকা দাবি করে। তবে, দর কষাকষির পর ১২ লাখ টাকায় ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে বলে জিম্মিদের অভিভাবকরা জানিয়েছেন।

বর্তমানে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে জিম্মি থাকা অবস্থায় তারা জানায়, তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছে। মাফিয়া চক্র ভিডিও কলে সেই নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে প্রত্যেকের পরিবারের কাছে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি পরিবার তাদের সন্তানের ওপর নির্যাতন বন্ধ করার জন্য কিছু টাকা পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।