রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) আধিপত্য বিস্তার ও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিনব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয় সংগঠনের অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ করলেও, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক অস্থিরতার এই ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ছাত্রশিবিরের আয়োজিত ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে। প্রদর্শনীতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত নেতাদের ছবি থাকায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে আপত্তি জানান। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপে রূপ নেয়। সংঘর্ষে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আশিক ও ছাত্রশিবিরের নেতা মেহেদী আহত হন। পরে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে লাঠিসোঁটা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
সংঘর্ষের বিষয়ে ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব মুরাদ অভিযোগ করেন যে, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ছাত্রদল অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ছাত্রদল সভাপতি ইয়ামিন দাবি করেন, তারা আলোচনার জন্য গিয়েছিলেন কিন্তু পরিস্থিতির উত্তেজনার কারণে সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়নি। ঘটনার সময় বহিরাগতদের উপস্থিতি ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
দীর্ঘ সময় পার হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাৎক্ষণিক উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার অনেক পরে তাজহাট থানা পুলিশ ক্যাম্পাসে পৌঁছালেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকত আলী জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি চালু করার বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ২০২৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শিক্ষাঙ্গনে এমন সহিংসতা এড়াতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রত্যাশা করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
রিপোর্টারের নাম 





















